স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার মোকামতলা–সোনাতলা সড়কে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে নিয়মিত যাত্রী ও দূরপাল্লার পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের।
যাত্রীরা জানান, দিনে মোকামতলা থেকে সোনাতলা যেতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে প্রায় ৩০ টাকা। তবে রাত ৮টার পর সেই ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর গভীর রাতে ভাড়া কয়েকগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রী আনারুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে ঢাকাগামী একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাত ১টার দিকে তাকে মোকামতলায় নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে সোনাতলায় যেতে সিএনজি চালক জনপ্রতি ১৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। পরে দরদাম করে ১২৫ টাকা করে দিয়ে তাকে গন্তব্যে যেতে হয়।
আরেক যাত্রী সরাফত আলী বলেন, ভোরের দিকে মোকামতলায় নামার পর তিনি সাঘাটা যাওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠতে চাইলে চালক ২৫০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। পরে পাঁচজন মিলে মোট ৮৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই সিএনজি চালকদের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা রাতের বেলায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং অন্য চালকদেরও একইভাবে ভাড়া নিতে বাধ্য করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি চালক জানান, দিনের বেলায় তিনি নিজে গাড়ি চালালেও রাতে অন্য চালকেরা গাড়ি চালান। তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। কেউ কম ভাড়া নিতে চাইলে তাকে হুমকির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয়রা জানান, দূরপাল্লার অনেক যাত্রী রাতে মোকামতলায় নেমে সোনাতলা ও আশপাশের এলাকায় যেতে বাধ্য হন। কিন্তু ওই সময় বাস চলাচল না থাকায় তারা সিএনজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তাই অন্তত সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নিয়মিত বাস চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির নির্বাহী সদস্য মোনারুল ইসলাম বিটু বলেন, সিএনজি চালকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় ওই সড়কে বাস চলাচল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সময়ের সংবাদ