সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: ঐতিহ্য আর মিলনমেলার আবহে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় আগামীকাল বুধবার ৭টি স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সন্ন্যাসীর মেলা। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকেই বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট বসতে শুরু করেছে।
উপজেলার হরিখালী, কাচারি বাজার, পাকুল্লা, গোসাইবাড়ী, ঠাকুরপাড়া, নওদাবগা ও ভেলুরপাড়া এলাকায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত একদিনের আয়োজন হলেও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে তা টানা ৪ থেকে ৫ দিন ধরে চলে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী পূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় নানা ধরনের খেলনা, মিষ্টি ও খাবারের দোকানের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঠ ও স্টিলের তৈরি আসবাবপত্রের দোকানও বসে। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
মেলাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের আগমন বেড়েছে। বাড়ি বাড়ি দাওয়াত, নতুন জামাইকে আমন্ত্রণ ও উপঢৌকন দেওয়ার প্রথা এ সময়ের বিশেষ আকর্ষণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় পুরো এলাকা এক ধরনের পারিবারিক পুনর্মিলনীতে রূপ নেয়।
ঠাকুরপাড়া মেলা কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা ভুট্টা বলেন, “বাপ-দাদার আমল থেকে এই মেলা দেখে আসছি। এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমরা কোনো ধরনের জুয়া বা অনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেব না।”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ কবীর হোসেন জানান, প্রতিটি মেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, “দীর্ঘ প্রায় দেড়শ বছর ধরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ঐতিহ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন সম্পন্ন করতে জুয়া, হাউজি, লাকি-৭ কিংবা যাত্রাগান প্রদর্শন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবহ ও সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে সোনাতলার সন্ন্যাসীর মেলা প্রতি বছরই স্থানীয়দের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়।
সময়ের সংবাদ