স্টাফ রিপোর্টার, সাঘাটা গাইবান্ধাঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা, খরা, নদীভাঙন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় চরাঞ্চলে বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন কৌশল” শীর্ষক এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় এ মাঠ দিবস আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএআরআই, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মামুন এবং গাইবান্ধার সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম। মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম সমন্বয় করেন সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ হারুনুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম বারি উদ্ভাবিত উন্নত জাতের মিষ্টি কুমড়া কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় ফসল। স্বল্প খরচে অধিক ফলন, তুলনামূলকভাবে রোগবালাই সহনশীলতা এবং বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় এ জাতটি চরাঞ্চলের কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বারি উদ্ভাবিত মিষ্টি কুমড়ার উন্নত জাত চরাঞ্চলের অনাবাদি ও পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
মাঠ দিবসে প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন শেষে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকরা জানান, এ জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম এবং ফলন আশাব্যঞ্জক। তারা ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে এ প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বিএআরআই’র সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, গাজীপুর এবং অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, যা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর অধীন পরিচালিত।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
সময়ের সংবাদ