সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দির চয়ন রাজভর হত্যাকান্ডের বিচার, আসামীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান এবং ভূক্তভোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবীতে বগুড়া জেলা বিডিইআরএম এর সংবাদ সম্মেলন এবং স্মারকলিপি প্রদান
গত ০৬ মার্চ ২০২৬ বগুড়ার সারিয়াকান্দী উপজেলার হাট ফুলবাড়ীতে ভূমিদস্যুদের ছুরিকাঘাতে চয়ন রাজভরকে হত্যা ও নয়ন রাজভরকে মারাত্মকভাবে জখম করার ঘটনায় বিচার, অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভ‚ক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)- বগুড়া জেলা শাখার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিডিইআরএম-কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শিপন কুমার রবিদাস। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন বিডিইআরএম নেতৃবৃন্দ এবং ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যগণ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মামলার বাদী শ্রী প্রদীপ রায়, ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য রীমা রানী রাজভর, শিউলী রানী রাজভর, বিডিইআরএম-বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন রাজভর, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় চন্দ্র রবিদাস। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিইআরএম-শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রবিদাস, হত্যাকান্ডের শিকার চয়ন রাজভরের কাকা চাঁন রাজভর, কাকাতো ভাই খোকন রাজভর, মিলন রাজভর, বোনজামাই বাবু রায়, বৌদি দ্রৌপদি রানী, শিউলী রানী, সুমী রানী, ভাইপো নিরব রাজভর প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে শিপন কুমার রবিদাস জানান, সম্প্রতি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটফুলবাড়ী বাজারে ভূমি বেদখলের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালক, দলিত যুবক চয়ন রাজভর (চয়ন কুমার রায়) নামক এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর হত্যাকান্ডের শিকার চয়ন রাজভরের ভাই প্রদীপ রায় বাদী হয়ে সারিয়াকান্দী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নম্বর ০৯ (০৭ মার্চ ২০২৬)। এরই মধ্যে ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ভূক্তভোগী পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে বিডিইআরএম ও মানবাধিকার সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’ এর প্রতিনিধিবৃন্দ।
তিনি বলেন, “আমরা এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পুরোপুরিভাবে অবৈধ ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সহিংসতা বলে মনে করছি। ভূক্তভোগী পরিবারগুলো সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হওয়ায় তাদের জমি বেদখলপূর্বক উচ্ছেদের লক্ষ্যে নানাভাবে হীন প্রচেষ্টা চালাতে থাকে আসামীরা। কখনো প্রাণনাশের হুমকি, কখনো মিথ্যা মামলা আবার কখনো বিভিন্নভাবে হয়রানির মাধ্যমে রাজভর পরিবারকে কোনঠাসা করতে থাকে। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, সমাজের অত্যন্ত পিছিয়েপড়া রাজভর জনগোষ্ঠীর উপর ন্যাক্কারজনক এহেন ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, ফেলবে। আমরা মনে করি, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল, যা বাংলাদেশের সংবিধান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ ঘটনার বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ভূক্তভোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভূক্তভোগী রাজভর জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এ দেশেরই নাগরিক, এবং তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার। তাদের জীবন, অস্তিত্ব এবং সম্মান রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। আমরা মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং সংবাদমাধ্যমের সহায়তা কামনা করছি। যাতে এই মানুষগুলির কণ্ঠ রোধ না হয় এবং তাঁদের ন্যায্য অধিকার রক্ষিত হয়। আমরা সরকারের কাছে সংবেদনশীল, মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ:
১. চয়ন রাজভর হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভূক্তভোগীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
৩. সংখ্যালঘু রাজভর সম্প্রদায়ের পৈতৃক জমি উদ্ধারপূর্বক প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করতে হবে।
সময়ের সংবাদ