প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 16, 2026 ইং
বগুড়ায় ইউপি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, এবার এমপি হলেন মীর শাহে আলম

গোলাম রব্বানী শিপন, শিবগঞ্জ- বগুড়া প্রতিনিধিঃ সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে ধানের শীষে প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫১,৭০৯ ভোট বেশি পেয়ে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। মীর শাহে আলম পেয়েছেন ১৪,৪৩৩৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল আজাদ মোহাম্মাদ শাহাদাতুজ্জামান তিনি দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯২,৬৩০ ভোট। বগুড়া শিবগঞ্জ ছাত্র রাজনৈতিক থেকে বেড়ে ওঠা এক নাম মীর শাহে আলম।
তিনি সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হোন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে তিনি আরও অগ্রসর হয়ে তৎসময়ের তরুণ ওই জনপ্রতিনিধি তার সততা, কর্ম দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়ে ওঠে। এবং ধীরে ধীরে তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়তে থাকে। একসময় বিএনপির রাজনৈতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন৷ যেকারনে বিএনপি পরিবারের সাথে আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন মীর শাহে আলম। এরপর তিনি ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে রিক্সা মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। এরই মধ্যে বিএনপি দল করার কারনে মামলা ও কারা বরণও করেন শাহে আলম। কিন্তু কখনও শিবগঞ্জ বিএনপির তৃনমূল নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি। বরং সবার পাশে থেকে সহযোগিতা জুগিয়েছেন।
বারবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত এই বিএনপি নেতার জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে এবার ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপি দল থেকে মনোনীত করে ধানের শীষ মার্কা মনোনয়ন প্রদান করেন। দলের গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে তিনি শিবগঞ্জের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন ও প্রত্যয়ে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র আগামীর চেতনা ও ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক প্রচারণা ও ক্যাম্পেইনের মধ্য দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। এই গণজোয়ারের ফল হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রতীকে প্রায় অর্ধলক্ষ ভোট বেশি পেয়ে এমপির পদে নাম লেখেন।
বৃহস্পতিবার মীর শাহে আলম নির্বাচনের পড়েই তিনি শুক্রবার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় হযরত শাহ সুলতান রহঃ এর মাজার মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে দোয়ার আয়োজন করেন। সেখানে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলাবাসী আপনারা যে আন্তরিক ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন এবং জনাব তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তার জন্য আপনাদের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শিবগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দকে পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার প্রিয় নেতা তারুণ্যের অহংকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য। আরও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি নির্বাচনকালীন সময়ে নিয়োজিত সকল প্রশাসনের ভাই-বোনদের যারা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছেন।
আমি আগে ছিলাম উপজেলার আটমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পরে ২০০৯ সালে আপনারাই আমাকে ভোটের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। সেই থেকেই আপনারা আমাকে চেয়ারম্যান ভাই বলে ডাকতেন। আর আমার বাড়ীর পাশ দিয়ে গেলেই বলতেন এটা মীর শাহে আলম চেয়ারম্যানের বাড়ী। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আপনাদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকতে পারি ও এলাকার উন্নয়ন করতে পারি।
© স্বত্বাধিকারঃ সময়ের সংবাদ