সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করার অভিযোগ শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশে সুফলভোগীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ বিতরণ  তাড়াশে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাড়াশে মাধাইনগর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৩টি ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ হলেন তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ

ধুনট কালেরপাড়া উপনির্বাচনে সাধারণ ভোটার নিশ্চুপ

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
  • Update Time : শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩১৫ বার পঠিত

মোঃ হেলাল উদ্দিন সরকার, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়া ধুনটে কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপনির্বাচনে প্রার্থীরা মাঠ গরম করলেও নিশ্চুপ ভূমিকায় রয়েছেন সাধারণ ভোটার। এরই মধ্যে ইউনিয়নের রাস্তায় রাস্তায় শোভা পাচ্ছে লিফলেট, পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার আর প্রচার প্রচারণার নানা উপকরন। ভোটের নানা আয়োজন কিংবা প্রার্থীদের আগ্রহ, বাদ যাচ্ছে না কোন কিছুই। কিন্তু তারপরও ইউনিয়ন জুড়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ভোটারদের। বরং তারা মুখ খুলতে নারাজ প্রার্থীর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে। নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে এখনো তারা অনেকটাই নীরব।

২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফটিক চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। বার্ধক্যজনিত কারনে ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। একারনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী চেয়ারম্যান পদটি শুন্য ঘোষনা করা হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেষ সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধুনট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিটন আহমেদ, তরিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুল হোসেন শিপন ও শহিদুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত শহিদুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন বর্তমানে ৪ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন।

চারজন প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দ লড়ছেন নৌকা প্রতিক নিয়ে, সতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদুল হোসেন শিপন মটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে, তরিকুল ইসলাম ঘোড়া মার্কা এবং লিটন আহম্মেদ আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

অত্র ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হেউট নগর দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ৩১১৯ জন, ২ নং ওয়ার্ড ঈশ্বরঘাট দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২০৭৬ জন, ৩ নং ওয়ার্ড কান্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৬৮২ জন, ৪ নং ওয়ার্ড হাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২২০১ জন, ৫ নং ওয়ার্ড সরুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৮৭৮ জন, ৬ নং ওয়ার্ড কাঁদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৯৭৮ জন, ৭ নং ওয়ার্ড কালের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৬ জন, ৮ নং ওয়ার্ড আনারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫৫৫ জন, ৯ নং ওয়ার্ড আড়কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫০৮জন, এই ৯ টি ওয়ার্ডের মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১,০১৩ জন। এই ২১,০১৩ ভোট নিয়ে লড়াই করছে ৪ জন প্রার্থী।

এই উপনির্বাচনে নেই বিএনপির কোন প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী না থাকার কারন জানতে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বললে তারা জানান, দেশে নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। এই জন্যই বিএনপির কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি। আবার অনেকে বলছে বিএনপি থেকে কেউ মনোনয়ন চায়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দের নৌকার বিজয়ের লক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খুলি বৈঠক করতে দেখা গেছে। আর অন্য দিকে সতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং ভোট প্রার্থনা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ টি আই এম নুরুন্নবী তারিক বলেন- “নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী ২০ তারিখে নৌকার বিজয় হবেই।”

সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বলেন- “নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা। এজন্য আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নিজেরাও মাঠে নেমেছি, সাধারণ ভোটারদের কাছে যাচ্ছি।”

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মহন্ত মহোদয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- “এই উপনির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছে। কেউ কোন ধরনের সমস্যা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, একমাত্র সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচনই পারে ভোটারদের নির্বাচনমুখী করতে।

এরকম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দরকার সরকারের সদ্বিচ্ছা এবং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা। অতীতের গ্লানি মুছে ফেলে এই উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..