মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

চারঘাটে গৃহবধূর আত্মহত্যা: মায়ের দাবি হত্যা

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২০
  • ২১৭ বার পঠিত

ব্যুরো প্রধান রাজশাহী:
রাজশাহীর চারঘাটে আরিফা (৩২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চারঘাট থানাধিন তাতারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গৃহবধূ ওই গ্রামের মাদক ডিলার সাবর ওরফে সাহাবুলের স্ত্রী। সে একই গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে।

মৃত্যু গৃহবধূ তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতের কোন এক সময় গৃহবধূ গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে গৃহবধূর স্বামী ও তার বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর না দিয়ে নিজেরাই দড়ি কেটে লাশ নামায়। পরে খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় চারঘাট থানা পুলিশ। এবং ওই দিনই বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধূর লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ময়না তদন্ত শেষে গৃহবধূর লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

গৃহবধূর “মা” পারুলের দাবি, তার মেয়ে আরিফাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এ জন্যই পুলিশে খবর না দিয়ে তারা নিজেরাই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, তার মেয়েকে তার জামাই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সাবর ওরফে সাহাবুল প্রায়ই নির্যাতন করতো। বাড়ি থেকে বাইরে বের হতে দিতো না। কাহারো সাথে মিশতে দিতো না। এমনতি তার মা পারুলের সাথেও কোন প্রকার দেখা সাক্ষাৎ করতে দিতো না।

শনিবার বিকাল ৪টার দিকে এ বিষয়ে জানতে গৃহবধূর স্বামীর বাড়িতে সাবর ওরফে সাহাবুলের সাথে যোগাযোগের জন্য সাংবাদিক গেলে, কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সাবর তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীদের লেলিয়ে দেয়। এ সময় তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা সাংবাদিক হাবিবা খাতুন ও সাংবাদিক মোঃ ফায়সাল হোসেনকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে, ধাক্কাদেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে মারমুখি আচারন করে তাড়িয়ে দেয়।

জানতে চাইলে, চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সমিত কুমার কুন্ডু জানায়, প্রথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে গৃহবধূ আরিফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার পিতা আলাউদ্দিন বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। তবে তার মা পারুল একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী। তিনি তার মেয়েকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি করছেন। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

ওসি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সাথে মারমুখি আচারনের বিষয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছে দুইজন সাংবাদিক। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের করবেন বলেও জানান ওসি।

অভিযোগ উঠেছে, গৃহবধূ আরিফার স্বামী সাবর ওরফে সাহাবুল একজন কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী। সে চারঘাট থানাধিন তাতারপুর আক্কাসের মোড় গ্রামের আকবোরের ছেলে।

এক ডর্জনেরও বেশি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস ও মাইক্রোবাস যোগে মাদকের বড় বড় চালান পাঠায় সে। ধরাও পড়েছে একাধিকবার। তারপরও এলাকায় থেমে নেই তার মাদক ব্যবসায়। তার প্রত্যেক প্রায় ৮জন সহযোগীর কাছে একটি করে মোটরসাইকেল দেয়া আছে। এই মোটরসাইকেল গুলি মাদক বহন কাজে ব্যবহার করা হয়। নিজ গ্রামে একক অধিপত্য এই মাদক সম্রাট সাবর ওরফে সাহাবুলের। তার বিরুদ্ধে মুখ খুলবে এমন বুকের পাটা কারো নাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয়রা জানায়, সাবরের মাদক ব্যবসায় একমাত্র কর্ম। প্রচুর অর্থের মালিকও সে। কিন্তু তার মাদক ব্যবসা বন্ধ করবে এমন কেউ নাই। তারা আরও বলে পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলে এই মাদক সম্রাট সাবর।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..