শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

ইউরোপ-সেরা ক্লাব হওয়ার লড়াই আজ

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৩১ বার পঠিত

ইউরোপ-সেরা ক্লাব হওয়ার লড়াই আজ। বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজি, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের দুই প্রতিপক্ষ শক্তির বিচারে সমানে সমান। করোনাপরবর্তী সিঙ্গেল লেগের নকআউটে জুভেন্তাস, ম্যানচেস্টার সিটি ও আতলেতিকো মাদ্রিদ অঘটনের শিকার। সেদিক থেকে পিএসজি ও বায়ার্ন ব্যতিক্রম। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে উঠে এসেছে শিরোপা নির্ধারণীর মঞ্চে। এবারের মৌসুমে ইউরোপের সেরা দু’দলের লড়াইয়ে কে সেরা তাই দেখা যাবে আজ। বায়ার্ন তাকিয়ে ষষ্ঠ ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের দিকে, যা তাদের লিভারপুলের পাশে বসাবে। আর পিএসজির ওপর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রেঞ্চদের দীর্ঘদিনের না পাওয়ার আক্ষেপ মেটানোর দায়।

পরিসংখ্যান এগিয়ে রাখছে বায়ার্নকে। টানা ২১ ম্যাচ জয়ী দলটি নিশ্চিতভাবেই টমাস টুখেলের দলকে পেছনে ফেলার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু পিএসজি কম যাওয়ার নয়। ৪১তম দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠল তারা। আর শিরোপা জিতলে এই সাফল্য পাওয়া ২৩তম দল হবে। এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল রক্ষণ তাদের। এছাড়া শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফেরার ক্ষমতাও তারা দেখিয়েছে আতালান্তার সঙ্গে। তাই অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকলেও পিএসজিকে আগেই পিছিয়ে রাখা যাবে না। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ওঠা ফরাসি জায়ান্টরা ইউরোপের সুপার ক্লাব হওয়ার পথ দেখছেন এই শিরোপা দিয়ে।

দলটি যদি শিরোপা জিতেই যায় তবে নেইমারকে হয়তো দেখা যাবে অশ্রুসজল। ফরাসি রাজধানীতে দুই বছরের ব্যবধানে আবার বড় উৎসব হচ্ছে। তবে এর সবটাই শুরু হয়েছিল ৩০ জুন ২০১১ সালে। যেদিন পিএসজিকে কিনে নেয় কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ। মালিক নাসের আল খেলাইফি যেদিন দলটিকে ফুটবল বিশ্বে আলাদা ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করার ঘোষণা দেন। খেলোয়াড়রা তো বটেই পর্দার আড়ালে থেকে তিনিই তো পিএসজিকে এতদূর নিয়ে আসার কারিগর। নিজের লক্ষ্যে পরিপূর্ণ সফল হয়েছেন পিএসজি মালিক। ঘরোয়া লিগে গত আট মৌসুমে সপ্তম ফ্রেঞ্চ লিগ জিতেছে পিএসজি। আর গত ছয় মৌসুমে মোট তিনবার ঘরোয়া ট্রেবল জিতেছে তারা। এবারও ট্রেবল জিতেছে। তবে অগুরুত্বপূর্ণ লিগ কাপ বাদ দিলে চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে প্রথম ট্রেবল করার পালা পিএসজির।

দল নিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ওঠা টমাস টুখেল নিজের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না। বলেন, ‘আমি জার্মান, নিজের ভাষাতেই আমি অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব না। ইংরেজিতে তো আরও না। একদম বিমর্ষ থেকে একদম আনন্দের শীর্ষে। তবে আমি ফোকাস ধরে রাখছি, কারণ আমাদের কাজ শেষ হয়নি। আমাদের এখনো একটি ফাইনাল খেলতে হবে যা অবশ্যই আমরা জিততে চাই। আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি, আর সব ম্যাচের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছি। ম্যাচটা স্পেশাল অবশ্যই কিন্তু আমরা স্পেশাল কিছু করতে চাচ্ছি না।’

পিএসজি যদি নতুন শক্তি হয়ে থাকে তবে বায়ার্ন অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। এ নিয়ে ১১তম চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে নামছে দলটি। ২০১৩ সালে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছে তারা। সেই দলের চারজন এবারও ফাইনালে খেলছেন। শিরোপা নির্ধারণীতে নেমে কীভাবে জিততে হয় তা জানা আছে এই দলটির। টানা ২০ ম্যাচ জিতে আসা বাভারিয়ানরা এই চ্যাম্পিয়নস লিগে বিপক্ষের জালে মোট ৪২টি গোল দিয়েছে। এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ নতুন করে শুরুর পর বায়ার্ন ১৯ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে খেলেছে। এর মধ্যে ফাইনালে উঠেছে ৫ বার। ২০০১ ও ২০১৩ সালে দুবার শিরোপা জেতে তারা।

বায়ার্ন বোর্ড সদস্য ও সাবেক জার্মান কিংবদন্তি অলিভার কান বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখ বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া ক্লাব। যেকোনো আসরের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ অলিভার কানের সেই লক্ষ্য আরও একবার ছুঁয়েছেন তার উত্তরসূরিরা। এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ট্রেবল জয় করেই থামবে না ডাবলেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বায়ার্নকে। তবে কোচ ফ্লিক পিএসজিকে সমীহ করেই কথা বললেন, ‘প্যারিস দারুণ একটা দল। তারা নিজেদের প্রমাণ করে ফাইনালে উঠেছে। আমরা ওদের কিছু বিষয় নিয়ে ভাবছি। আমরা জানি ওদের দ্রুতগতি সম্পন্ন ফুটবলার আছে। আমাদের রক্ষণ নিয়ে কঠিন কাজ করতে হবে তা সেমিফাইনালেই টের পেয়েছি। তবে এটাও ঠিক আমাদের মূল শক্তি আক্রমণে বিপক্ষকে বিপদে ফেলা।’

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..