শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

মালি এখন দরিদ্র দেশ হলেও একসময় ছিল ধনী ও সচ্ছল দেশ

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৮২ বার পঠিত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি আবারও আলোচনায়। দেশটিতে সামরিক বাহিনীর একটি অংশের হাতে আটক হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম বোউবাকার কেইতা পদত্যাগ করেছেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চর্চিত হচ্ছে মালি। যুদ্ধ, বিদ্রোহ, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী হামলা ও অভিযান ছাড়া মালি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আসেনি।

মালি এখন দরিদ্র দেশ হলেও একসময় ছিল ধনী ও সচ্ছল দেশ। সেই ইতিহাস অনেকটা গল্পের মতো।

১৪ শতাব্দীতে ইউরোপে যখন দুর্ভিক্ষ আর খাদ্যাভাবে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, তখন খাবারের অভাব কী মালির লোকজন তা জানত না। আর ইতিহাসে গত এক হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধনবান যে ব্যক্তি ছিলেন মালির মুসলিম রাজা ‘মানসা মুসা।’

উপনিবেশ মালির এই দুরবস্থার জন্য দায়ী। এক সময়কার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স ১৯০৪ সালে মালি দখল করে নেয়। পরে ১৯৬০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফরাসি উপনিবেশের কবল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে মালি। এরপরও ফ্রান্স মালির আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বজায় রাখে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম ও স্বর্ণসহ অন্যান্য খনিজসম্পদের ভা-ারের সবই যায় ফ্রান্সের গোলায়। ‘স্বাধীনতা’ লাভের পরও নানা চুক্তির আওতায় মোট জাতীয় সম্পদের ৮৫ ভাগ যায় প্যারিসে। আর ১৫ ভাগ থাকে মালির জনগণের জন্য। যদি কেউ বিদ্রোহ করে? তবে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী চলে আসে ‘সন্ত্রাসবাদ দমন’ করতে! এই হলো রাজনীতি আর উপনিবেশবাদের ফলাফল। আর মালি দরিদ্র হওয়ার কারণ।

মালির রাজধানীর নাম বামাকো। ১৯৬০ সালে মালি স্বাধীনতা লাভ করে। ১২ লাখ ৪০ হাজার ১৯২ বর্গকিলোমিটার দেশের জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি। মালির অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

১৯৬০ সালে স্বাধীন হলেও দেশটি স্বৈরশাসনের কবলে পড়ে। ১৯৯১ সালে মালি স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয় সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক নির্বাচন। ২০১১ সালে থেকে দেশটিতে জাতিগত বিদ্রোহ দেখা দেয়। পরে নানা ঘটনা পরিক্রমা শেষে ২০১২ সালের ২২ মার্চ সামরিক শাসন জারি করা হয়। পরিস্থিতি তাতেও শান্ত হয়নি। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দরুণ মালি সরকার ফ্রান্স সেনাবাহিনীর সাহায্য চায়, জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ করে। বাংলাদেশ থেকেও ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে মালিতে প্রথম শান্তিরক্ষী পাঠানো হয়।

২০১৩ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি ও নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম কেইতা নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হলে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। আপাতত সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তিনিও পদত্যাগ করলেন। তবে এর সমাপ্তি কোথায় গিয়ে হবে, এই মুহূর্তে বলা মুশকিল।

মালি মুসলিম ঐতিহ্যের দেশ। এর প্রতিটি শহরেই রয়েছে নান্দনিক মসজিদ। সব মসজিদেরই রয়েছে ঐতিহাসিক গৌরবময় অধ্যায়। যেমন মালির ডিজেনি শহরে ১২০০ থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে তৈরি হয়েছিল বড় মসজিদ নামে পরিচিত মাটির মসজিদটি। এটি আফ্রিকার অন্যতম নিদর্শন। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা এই শহরের মসজিদগুলো বেশ জনপ্রিয়। ইট-কাদার তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদ এটি।

মালিতে প্রতি চার জনে তিন জন বাস করেন দারিদ্র্যসীমার নিচে। গড়ে প্রতি চার জনের তিন জন অশিক্ষিত। আয়তনে বাংলাদেশের আটগুণ হলেও মালিতে বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র একটি। কয়েকশ বছর আগে মুসলিম শাসনের সময় ছিল কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।

আফ্রিকায় ইসলামের প্রচার-প্রসারে মালির গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম। এখন দরিদ্র হলেও এর ইতিহাস হারিয়ে যায়নি। পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিমদের জীবনে এই ইতিহাস এখনো জীবন্ত এবং বিশ্বে মালি যে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে তা আজও অব্যাহত।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..