সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে সদ্য যোগদানকৃত শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বরণ অনুষ্ঠান তাড়াশে ২ হাজার শীতার্তদের মাঝে এমপি আজিজের কম্বল বিতরণ বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে রাতে বিয়ে বাড়িতে ইউএনও তাড়াশে ৭০লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ একজন আটক তাড়াশে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় সুরক্ষার জন্য স্পিড ব্রেকার দিলেন ছাত্রলীগ তাড়াশে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় অনুষ্ঠানে আসেননি চেয়ারম্যান ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচার করায় প্রতিবাদ ২৬ দিনেও তদন্ত শেষ হয়নি, উদ্ধার হয়নি আট লক্ষাধিক টাকার ওষুধ তাড়াশে এক দিনের ব্যবধানে আরেকজন স্কুল ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে তাড়াশে যৌথ কর্মীসভা

ইসলামের স্বর্ণযুগের একটি কাহিনী

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার ২২ মে, ২০২০
  • ৩১১ বার পঠিত

মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ:

ইসলামের স্বর্ণযুগের একটি কাহিনী”
হযরত উমার (রাঃ) এর শাসন আমল।
একদিন দু’জন লোক এক বালককে টেনে ধরে নিয়ে আসল তাঁর দরবারে। উমর (রাঃ) তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, ব্যাপার কি, কেন তোমরা একে এভাবে টেনে এনেছ..??
তারা বলল, এই বালক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে।
উমর (রাঃ) বালকটিকে বললেন, তুমি কি সত্যিই তাদর পিতাকে হত্যা করেছ..??
বালকটি বলল, হ্যা, আমি তাদের বাবাকে হত্যা করেছি তবে তা ছিল দূর্ঘটনাবশত। আমার উট তাদের বাগানে ঢুকে পড়েছিল এবং তা দেখে তাদের পিতা একটি পাথর ছুড়ে মারল, যা উটের চোখে লাগে।
আমি দেখতে পাই যে উটটি খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। যা দেখে আমি রাগান্বিত হই এবং একটি পাথর নিয়ে তার দিকে মারি, পাথরটি তার মাথায় লাগে এবং সে মারা যায়।
উমর (রাঃ) দু’ভাইকে বলেলন, তোমরা কি এ বালককে ক্ষমা করবে..??
তারা বলল, না, আমরা তার মৃত্যূদণ্ড চাই। উমর (রাঃ) বালকটির কাছে জানতে চাইলেন, তোমার কি কোন শেষ ইচ্ছা আছে..??
বালকটি বলল, ‘আমার আব্বা মারা যাওয়ার সময় আমার ছোট ভাইয়ের জন্য কিছু সম্পদ রেখে যান, যা আমি এক যায়গায় লুকিয়ে রেখেছি। আমি তিন দিন সময় চাই, যাতে আমি সেই জিনিস গুলো আমার ভাইকে দিয়ে আসতে পারি। আমার কথা আপনি বিশ্বাস করুন।
উমর (রাঃ) বললেন, আমি তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি যদি তুমি এক জন জামিন জোগাড় করতে পার, যে নিশ্চয়তা দেবে যে তুমি ফিরে আসবে..??
বালকটি দরবারের চারদিকে তাকাল এত মানুষের মধ্যে কেউই তার জামিন হল না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
হঠাৎ দরবারের পেছন থেকে একটি হাত উঠল। কার হাত ছিল এটি..??
তিনি ছিলেন প্রখ্যাত সাহাবী আবু যর গিফারী (রাঃ)।
তিনি বললেন, আমি তার জামিন হব। “”চিন্তা করুন জামিন মানে হল, যদি বালকটি ফিরে না আসে তবে আবু যর গিফারী (রাঃ) এর শিরচ্ছেদ করা হবে।””
সুতরাং বালকটিকে ছেড়ে দেওয়া হল। এক দিন গেল, দ্বিতীয় দিনেও বালকটি আসল না, তৃতীয় দিনে দু’ভাই আবু যর গিফারী (রাঃ) এর কাছে গেল।
আবু যর (রাঃ) বললেন, আমি মাগরিব পর্যন্ত অপেক্ষা করব। মাগরিবের কিছুক্ষণ আগে আবু যর গিফারী (রাঃ) দরবারের দিকে রওনা হলেন। মদিনার লেকজন তাঁর পেছন পেছন যেতে লাগল। সবাই দেখতে চায় কি ঘটে আজকে।
আবু যর (রাঃ) একটি বালকের ভুলের কারণে আজ জীবন দিচ্ছেন। হঠাৎ আজানের কিছুক্ষণ আগে বালকটি দৌড়ে আসল। লোকেরা সবাই অবাক হল।
উমর (রাঃ) বললেন, হে বালক তুমি কেন ফিরে এসেছ..??
আমি তো তোমার পিছনে কোন লোক পাঠাইনি। কোন জিনিসটা তোমাকে ফিরিয়ে আনল..??
বালকটি বলল, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলিম কথা দিয়েছিল কিন্তু সে তা রাখেনি, তাই আমি ফিরে এসেছি।
উমর (রাঃ) আবু যর (রাঃ) কে বললেন, হে আবু যর তুমি কেন এই বালকের জামিন হলে..??
আবু যর (রাঃ) বললেন, আমি দেখলাম একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন, আমি চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমানের সাহায্য প্রয়োজন ছিল কিন্তু কোন মুসলমান তাকে সাহায্য করে নি।
এই কথা শুনে অভিযোগকারী দুই ভাই বলল, আমরাও চাই না যে, কেউ বলুক একজন মুসলমান ক্ষমা চেয়েছিল কিন্তু অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করে নি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..