বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

তাড়াশে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে দশ হাজার ভাতাভোগীর ভোগান্তী!

admin
  • Update Time : বুধবার ৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ১২০ বার পঠিত

 

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
তাড়াশে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ১০ হাজারেরও অধিক ভাতাভোগী। ভাতার টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকে বয়োবৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারো কারো ভাতা পেতে সকাল থেকে রাত অবদি লেগে যায়।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা জুড়ে মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ১শ’ ১২ জন। ৫ হাজার ৯শ’ ৮৮ জন বয়স্ক ভাতাভোগী, ২ হাজার ৭শ’ ৩৬ জন বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতাভোগী এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩শ’ ৮৮ জন। প্রতি তিন মাস অন্তর ওই তিনটি ব্যাংকে থেকে ভাতার টাকা তোলার জন্য আসেন বারুহাস, তালম, দেশীগ্রাম, মাধাইনগর, নওগাঁ, মাগুড়া বিনোদ, সগুনা ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ভাতাভোগীরা।
নিয়মানুযায়ী তাঁরা প্রতি তিন মাসে বয়স্ক ভাতা ১ হাজার ৫শ’ টাকা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা ১ হাজার ৫শ’ টাকা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ২ হাজার ১শ’ টাকা পেয়ে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাতার টাকার জন্য ব্যাংকগুলোর সামনের সড়ক আর আশপাশের দোকান ঘেষে দাঁড়িয়ে ও মাটিতে গাদাগাদি বসে আছেন সব ভাতাভোগী। সকালে বাড়ি থেকে এসে দিনভর প্রখর রোদ আর প্রচন্ড গরমে সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। কখনও বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়। তাদের না আছে প্রসাব-পায়খানার ব্যবস্থা। ভাতা তুলতে আসা বয়োবৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখে সর্বস্তরের লোকজন আপসোস করতে থাকেন!
ভাতাভোগী কুলছুম, সাবুরি, জরিনা বেগম, মর্জিনা বেগম, আমেনা খাতুন, বাহারন নেছা, এন্তাজ আলী, তমেজ আলী, নুরুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, সামছু প্রামানিক, এসাহাক সরকার প্রমূখ জানান, একমাত্র তাড়াশ সদর ইউনিয়ন বাদে ৭টি বাকি ইউনিয়নই ভাতাভোগীদের বাড়ি থেকে বেশ দূরে। তাঁদের অনেকে চোখে কম দেখেন, হাঁটতে পারেন না। আবার কেউ গুরুতর অসুস্থ। অথচ নিরুপায় হয়ে সেইসব ভাতাভোগীদেরও টাকা তুলতে ১২/১৫ কিলোমিটার দূর থেকে ব্যাংকে আসতে হয়। আর অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। ব্যাংকগুলোর আশপাশে না আছে তাঁদের বসার জায়গা নাতো দাঁড়িয়ে থাকার। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে একটু ঠাঁই খুজতে গেলে মালিকরা বলে ওঠেন “এ বাপু এখান থেকে সরে যাও”!
তাঁরা আরও জানান, এত মানুষ ব্যাংকগুলোর সামনের প্রধান সড়কের সামনে যত্রতত্র ঘুরতে ঘুরতে কখনও সড়ক দূর্ঘটনারও শিকার হন। এর আগে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা আলাদা দিনে দেওয়া হত। তখন তাঁদের এমন সীমাহীন কষ্ট করতে হত না।
এদিকে ব্যাংকগুলোর সূত্র জানিয়েছেন, প্রতিবার এক ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের টাকা নেওয়ার জন্য তারা খবর দিয়ে থাকেন। অথচ একই দিনে আট ইউনিয়নেরই ভাতাভোগীরা চলে আসেন। যে কারণে তাঁদের টাকা দিতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
এ প্রসঙ্গে সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, আর হয়তো ২/৩ বার ভাতাভোগীদের এমন কষ্ট করে টাকা নিতে হবে। ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএম) সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ইউনিয়ন থেকেই স্ব স্ব আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে খুব সহজেই টাকা তুলে নিতে পারবেন।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..