সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের ভাগ্যন্নোয়নে মিনতি রানী

admin
  • Update Time : রবিবার ২৭ মে, ২০১৮
  • ৩৪০ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
তাড়াশের প্রত্যন্ত গ্রামের সংগ্রামী নারী মিনতি রানী বসাক। ক্ষুধা ও দারিদ্রতার কষাঘাত থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নারীদের ভাগ্যন্নোয়নে কাজ করে চলেছেন নিরালসভাবে। নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ২০০২ সালে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন আশার প্রদীপ নামে একটি সমবায় সমিতি। সমিতির মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের সংগঠিত করতে থাকেন। স্বাস্থ্য-স্যানিটেশন বিষয়ে পারিবারিক সচেতনতা তৈরি, পুষ্টি সচেতনতা, ছাগল পালন, হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ ও তাঁত শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে নারীদের জীবনমান উন্নয়নের অগ্রদুত তিনি। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসাবে মিনতী রানী রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে জেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতা হয়েছেন। উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের গুড়পিপুল গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাকের স্ত্রী মিনতি রানী ।
খোলা পায়খানার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা দিয়ে মানুষের সেবা করার যাত্রা শুরু মিনতি রানীর। পারিবারিক সচেতনতা তৈরি করতে এলাকার নারীদের নিয়ে স্বাস্থ্য-স্যানিটেশন ও পুষ্টি সচেতনতা বিষয়ে সভা করতেন পাড়ায়-পাড়ায়। হস্তশিল্প ও সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে বহু নারীকে উদ্যোগতা হতে সহায়তা করেছেন তিনি। সেই সময় নিজের অর্থ ও সদস্যদের আয়ের একটি অংশ দিয়ে ৯৪ জন সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীকে ছাগল পালনের জন্য প্রত্যেককে একটি করে ছাগল কিনে দেন। একই সঙ্গে গুড়পিপুল গ্রামে সারে চার লাখ টাকা দিয়ে ১৫ শতক জায়গা সমিতির নামে ক্রয় করেন। সেখানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ২০০৪ সালে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়।
এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি অনাগ্রসর নারীদের দিদি মিনতি রানীকে। ২০১২ সালে গড়ে তোলেন তাড়াশ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক মহিলা উন্নয়ন নামে আরো একটি সংস্থা। একই সঙ্গে স্থাপন করেন গুড়পিপুল আদিবাসী তাঁত শিল্প নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয় এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উন্নয়নে। হস্তচালিত তিনটি তাঁত ক্রয় করে শুরু হয় তাঁত শিল্প প্রশিক্ষণ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ২৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে গুড়পিপুল আদিবাসী তাঁত শিল্প উন্নয়নে। বর্তমানে হস্তচালিত তাঁত রয়েছে পাঁচটি, বিদ্যুৎ চালিত ১২ টি, সেলাই মেশিন পাঁচটি এবং এমব্রয়ডারী মেশিন রয়েছে তিনটি।
তাঁত শিল্পে নিয়োজিত নারী শ্রমিক জেসমিন উরাঁও, কাঞ্চন উরাঁও, ননীবালা উরাঁও, মিনু রানী উরাঁও, কল্পনা রানী উরাঁও, সাধনা বালা উরাঁওসহ আরো অনেকে জানান, মাঠে কাজ করে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পেতেন। তাঁতের প্রশিক্ষণ নিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছা তৈরি করে প্রতিদিনি ৪০০ টাকা আয় হয় তাদের। আগের চেয়ে সংসারও বেশ ভাল চলছে।
মিনতি রানী বসাক জানান, আশার প্রদীপ সমিতি, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা ও আদিবাসী তাঁত শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪৮০ জনের মত আদিবাসী নারীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিজরা উদ্যোগতা হয়ে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন। কয়েকজন আদিবাসী তাঁত শিল্পেই কাজ করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ টি শাড়ি, ১৫০ টি লুঙ্গি ও ১০০ টির মত গামছা তৈরি করা হয় এখানে। মিনতি রানী স্বপ্ন দেখেন, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গুড়পিপুল গ্রাম এলাকায় একটি বৃহৎ তাঁত শিল্প গড়ে তোলা। যেখানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..