গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার মেধাবী প্রাণবন্ত জাকিয়া সুলতানা রুপার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার তাড়াশ প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন নাগিরিক সমাজ এর আয়োজন করে। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
এ সময় অপরাধীদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তৃতা করেন, সচেতন নাগরিক সমাজের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজু, প্রবীন শিক্ষক রহমত উল্লাহ, সনাতন সংস্থার সভাপতি বাবু তপন কুমার গোস্বামী, জেলা বাসদ এর সমন্বয়ক নবকুমার কর্মকার, অধ্যাপক সাব্বির আহম্মেদ, নারী নেত্রী মোছা. রোকসানা খাতুন, ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ, মাই টিভির চলনবিল প্রতিনিধি সনাতন দাস, দৈনিক ইত্তেফাকের তাড়াশ সংবাদদাতা গোলাম মোস্তফা, সমকালের আতিকুল ইসলাম বুলবুল, নয়া দিগন্তের মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ। রুপা হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সচেতন নাগরিক সমাজ বিভিন্ন ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যহত রাখার ঘোষণা দেন।
প্রসঙ্গত: শিক্ষক হবার স্বপ্ন নিয়ে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে চাকরিস্থল শেরপুর থেকে বগুড়া গিয়েছিলেন জাকিয়া সুলতানা রুপা। ২৭ বছর বয়সী ঐ তরুণী পরীক্ষা দিয়ে ওই দিন বিকালে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী নিরাপদ পরিবহনের ‘ছোয়া’ নামের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) একটি বাসে ওঠেন। সঙ্গে ছিলেন আরেক সহকর্মী। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় আসার পর রুপার ওই সহকর্মী নেমে গিয়ে ঢাকার উদ্দেশে অন্য গাড়িতে ওঠেন। ময়মনসিংহে এক আত্মীয়ের বাসায় রাত কাটিয়ে পরদিন শেরপুর শহরের কর্মস্থলে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রুপা আর গন্তব্যে পৌছাতে পারেননি। ওই বাসের ভেতর তিন হেলপার তাকে একে একে ধর্ষণ করে পৈশাচিক কায়দায় খুন করে জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে রক্তাক্ত লাশ।
এদিকে পরিচয় না মেলায় গত শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারীশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে মধুপুর থানা পুলিশ। গত সোমবার ছবি দেখে নিহতের বড় ভাই লাশ সনাক্ত করার পর জানা যায় সে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রামানিকের মেয়ে। এ ঘটনার পর আটক ঘাতকদের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে তাড়াশের সচেতন নাগরিক সমাজ।