গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
মাস জুড়ে বন্যা আর অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় এবারে সিরাজগঞ্জের জেলার তাড়াশে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৯ হাজার বিঘা জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে একেবারে পচে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকরা জানিয়েছেন, চারদিকে চারার জন্য হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। তীব্র চারা সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
সরেজমিনে বানে ডোবা খেতগুলোতে দেখা গেছে, চারা পচে কালো হয়ে আছে। অনেক জমিতে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এসব জমিতে চারার অভাবে কৃষকরা নতুন করে আবাদ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। চারার জন্য হন্নে হয়ে জেলা ছাড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। অনেকে দুরদুরান্ত থেকে চারা সংগ্রহ করে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার ও রাস্তার মোড়ে ভ্রাম্যমান দোকান পেতে বসেছেন। এখানে সকাল থেকে রাত অবদি চারা কেনার জন্য হুমড়ী খেয়ে পড়ছেন কৃষকরা। তবে সবখানেই চরা দামে চারা কিনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষক মন্টু খন্দকার, আলহাজ্ব দুদু মিঞা, আমজাদ হোসেন, বাবুল আকতার, ছাত্তার প্রামানিক, এসহাক আলী, আব্দুল লতিব, হান্নান প্রামানিকসহ আরও অনেকে জানান, এবারে বন্যার সময় রোপা আমনের মৌসুম চলছিল। বন্যার অল্প কিছুদিন আগে জমিতে চারা রোপন করা হয়েছিল। যে কারণে পানিতে তলিয়ে পুরো জমির চারাই পচে গেছে। নতুন করে আবাদ করতে চারার দাম তিনগুণেরও বেশি পড়ছে। বন্যার আগে যেখানে খরচ পড়ত ৮শ’ থেকে হাজার টাকা।
চারা বিক্রেতা আব্দুর রশিদ, জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইদুর রহমান, সেরাজুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, মোরশেদ খন্দকার জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ায় পানির নিতে তলিয়ে থাকা জমি জেগে উঠতে শুরু করেছে। এসব বেশিরভাগ জমিতে হালচাষ করাই ছিল। একযোগে রোপন কাজ শুরু হওয়ায় চারার দাম আরও বেড়ে গেছে। প্রতি বিঘা রোপা আমন ধানের চারা ২৮শ’ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন, বন্যায় হাজার-হাজার বিষা জমির ফসল নষ্ট হলেও সরকারিভাবে তাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। এখন পর্যন্ত তারা সরকারি-বেসরকারি কোনো তরফ থেকেই কৃষি সহায়তা পাননি।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চারা সংকট রয়েছে ঠিকই। তবে চারার অভাবে কোন জমি ফসলহীন পড়ে থাকবে না। অনেকে বাড়ির আঙিনা এবং উঠোনে বীজতলা করে রেখেছিল। এ ছাড়াও তারা নিজেদের মতো করে চারা সংগ্রহ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমি নতুন করে আবাদ করছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ১২-১৫ দিনের মধ্যে সব জমিতে রোপন কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কৃষকদের অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিগগিরই মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের মধ্যে ভুট্রা, গম ও সরিষার বীজ কৃষি প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আরশেদ আলী জানান, পুরো জেলায় মাত্র ৪শ’জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য রোপা আমনের চারা সহায়তা পাওয়া গেছে। এ থেকে তাড়াশ উপজেলায় ৫০জন কৃষককে চারা দেওয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ইতোমধ্যে জেলায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯২ হাজার ৩শ’ ৮০ টাকার কৃষি প্রণোদনা পাওয়া গেছে। এ থেকে তাড়াশে ৩ হাজার ৭শ’ ৬৫ জন কৃষককে বিভিন্ন ধরনের বীজ দেওয়া হবে।