শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

তাড়াশে চার বছর ধরে বাবার ধর্ষণের স্বীকার দুই মেয়ে

admin
  • Update Time : সোমবার ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৩১৫ বার পঠিত

আরিফুল ইসলামঃ চার বছর ধরে কুলাঙ্গার বাবার ধর্ষণের স্বীকার দুই মেয়ে । এমন জঘন্নতম এ ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের চর হামকুড়িয়া গ্রামে।

সরেজমিনে সোমবার বিকেলে (১৬ আগষ্ট) উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের চর হামকুড়িয়া গ্রামে দোবির উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা খাতুন, দুই মেয়ে, বড় মেয়ের স্বামী শাজাহান আলী, দবির উদ্দিনের পিতা আব্দুল খালেক, মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং চর হামকুড়িয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেনসহ ঐ গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হয় এ বিষয়ে ।

তারা বলেন নিজ পিতা দোবির উদ্দিন (৪৩) তাদের ধর্ষণ করতে থাকেন। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ সারে চার বছর। একাধারে সারে চার যৌন নির্যাতনের পর মেয়েটির বিয়ের মাধ্যমে তার পিতার বিকৃত যৌন লালসা থেকে রক্ষা পায়।

তারা দুই বোন। এখন তার ছোট পঞ্চম শ্রেণিতে পড়–য়া যে বোনটি বাড়িতে আছে । তার বয়সও ১০থেকে ১২ বছরি হবে। সেই মেয়েটিকেও নির্মম যৌন নির্যাতন করা ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার পিতা লম্পট দবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গত কোরবানির ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে লম্পট দবির উদ্দিন দিনের বেলায় ছোট মেয়েকে ধর্ষণ করার জন্য পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালায়।

কিন্ত মেয়েটি ভয়ে কাঁদতে শুরু করে। তখন তার পিতা ছোট বোনকে বুঝিয়ে তার বিকৃত যৌন চাহিদা পুরুনের জন্য রাজি করাতে বড় বোনের স্বামীর মুঠোফোনে কল করে। তার যে মেয়েকে সে টানা সারে চার বছর ধর্ষণ করে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। কথায় আছে পাপ বাপকেও ছাড়েনা।

তার ওই কথোপকথন রের্কড হয়ে যায়। সেই কল রেকর্ড ধরেই প্রকাশ পায় নিজ পিতা কর্তৃক দুই শিশু কন্যাকে পৈশাচিক যৌন নির্যাতন ও বিকৃত যৌন লালসা মেটানোর লোম হর্ষক তথ্য।

এদিকে এ ঘটনার জের ধরে দবির উদ্দিনের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আতিকুল ইসলাম বুলবুল। তিনি আরো বলেন, লোক মুখে এসব কথা শুনেছেন।

কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ভুক্তভোগীদের খোঁজ খবর ও তাদের সাথে কথা বলা হয়ে ওঠেনি। স্থানীয়রা তাদের সমাজচ্যুত করে রেখেছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দবির উদ্দিনের বড় মেয়ে বলেন, প্রায় ১১ বছর বয়স থেকে তার পিতা তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করতে শুরু করে। আর এসব কথা কাউকে বলে দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখাতো। মেয়েটিকে এও বোঝানো হতো যে বিয়ের আগে এসব শিখতে হয়, নয়তো স্বামীর বাড়িতে খুব কষ্ট হবে। কোনটি সঠিক আর কোনটা বেঠিক অসহায় শিশু মেয়েটি তা বুঝতে পারতো না। প্রাণ ভয়ে কাউকে কিছু না বলে অধিকাংশ সময় একদম একা চুপচাপ থাকতো।

দবির উদ্দিনের বড় মেয়ের স্বামী শাজাহান আলী বলেন, আমার মুঠোফোনে অটো রেকর্ড চালু করা আছে, আমার শশুর সেটা জানতেননা। আমার স্ত্রী সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কখনও নিজে থেকে আমাকে কিছুই বলেনি। তাছাড়া বিয়ের আগে যাই ঘটুক সেটা আমার স্ত্রীর সাথে অন্যায় করা হয়েছে। আমি কল রের্কড শোনার পর আমার স্ত্রী সব খুলে বলেছেন। ওর কোনো দোষ নেই। ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার মাত্র। বরং তার দুঃখ ও কষ্টের কথা শুনে আমি নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

এদিকে দবির উদ্দিনের ছোট মেয়ের সাথে তার বাবা এমন পৈশাচিক আচরণ করার পর থেকে সে শুধু কেঁদে চলেছে। ধর্ষণ করা না হলেও তাকে যে নির্মম যৌন নির্যাতন করা হয়েছে, মেয়েটির কথায় ও আচরণে তা সুষ্পষ্ট। মেয়েটি বলে, এসব কথা কাউকে বলে দিলে তার পিতা তাকে হাঁসুয়া দিয়ে জবাই করার ভয় দেখিয়েছে।
দবির উদ্দিনের স্ত্রী সেলিনা খাতুন বলেন, গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে ফাঁকা জায়গায় তাদের বসতঘর। অভাব অনটনের সংসার। আমি দিন মজুরের কাজ করতে গেলে বা কোন কারণে বাড়িতে না থাকলে তার স্বামী তার দুই মেয়ের সাথে ওসব করতেন, আমি জানতাম না। মেয়েরা কখনও আমাকে জানায়নি।

মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং চর হামকুড়িয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন বলেন, এহেন ঘটনার কারণে আমরা বাবা’রা সন্তানের কাছে লজ্জায় পড়েছি। তিনি আইন অনুযায়ি অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার দাবি তুলেছেন। তিনি আরো বলেন, গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, এখুন পর্যন্ত এ ঘটনার অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..