শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

তাড়াশে বিএডিসি সেচ কমিটির সেচ লাইসেন্স বৈধ করতে নীতিমালা ভেঙে ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ
  • Update Time : বুধবার ৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৩৪ বার পঠিত

 সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের চৌরা গ্রামের তায়জুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিএডিসি সেচ কমিটি কর্তৃক বিএডিসি সমন্বিত ক্ষুদ্র সেচ নীতিমালা-২০১৭ বহির্ভূতভাবে একটি অগভীর নলকূপের লাইসেন্স পেয়ে তা বৈধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা উপেক্ষা করে রাতারাতি ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন করে চলেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযুক্ত তায়জুল হোসেন অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তার যে পুকুরের ঢালে বিএডিসি সেচ কমিটি কর্তৃক অগভীর নলকূপের লাইসেন্স নিয়েছেন, সেই পুকুরে ভেক্যু মেশিন লাগিয়ে পুকুরের পাড় কেটে আবাদি জমি করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে অন্য লোকজনের পতিত জমিতেও পানি সেচ দিয়ে বোরো ধানের চারা রোপনের জন্য প্রস্তুত করছেন। অভিযোগকারী কৃষক উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের গুড়পিপুল গ্রামের শামছুল হক (৫৫) বলেন, “তায়জুল হোসেনের যে জমিতে কৃষি কাজে সেচের জন্য অগভীর নলকূপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, বস্তুত সে জমির শ্রেণি পুকুর। তাছাড়া তায়জুল হোসেনের অগভীর নলকূপের সংযোগ স্থলের মাত্র ৪৯০ ফুট দূরত্বের মধ্যেই মোহাব্বত আলী নামে এক কৃষক বিএডিসি সেচ কমিটি হতে অগভীর নলকূপের লাইসেন্স নিয়ে সেচ কাজে ব্যবহার করছেন।” কৃষক শামছুল হক আরো বলেন, বিএডিসি সেচ কমিটি ও সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি হতে প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরে অবশেষে তা না পেয়ে ২৪/১২/২০২০ তারিখে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বরাবর, ০৮/১১/ ২০২০ তারিখে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি মো. মেজবাউল করিম বরাবর ও ০৪/১১/২০২০ তারিখে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের গুড়পিপুল মৌজায় কৃষক শামছুল হকের কৃষি জমি অবস্থিত। সেখানে কৃষি সেচ দেওয়ার জন্য জলাশয় বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তিনি ০৫/১২/২০১৮ তারিখে বিএডিসি সেচ কমিটি বরাবর একটি অগভীর নলকূপের লাইসেন্সর জন্য আবেদন করেন। যার জে/এল নং ৪৭, দাগ নং ৩২৮/২৬৬ ও খতিয়ান নং ৭/২৯১। কিন্তু উপজেলা বিএডিসি সেচ কমিটি সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ঐ মোজাতেই তায়জুল হোসেন নামে এক কৃষকের আবেদনের অনুকূলে ২৩/০৬/২০২০ তারিখে অগভীর নলকূপের লাইসেন্স প্রদান করেন। লাইসেন্স নং ৪৪৪। লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, তায়জুল হকের ২৭৩ নং দাগের যে জমিতে অগভীর নলকূপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেই জমি পুকুর শ্রেণি হিসাবে দলিলে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। যা সম্পূর্নভাবে নীতিমালা বহির্ভূত। তাছাড়া বিএডিসি সেচ কমিটির দেওয়া একটি অগভীর নলকূপ হতে আরেকটি অগভীর নলকূপের দূরত্ব ৮২০ ফুট হওয়া ব্যঞ্চনীয়। কিন্তু তায়জুল হকের অগভীর নলকূপের মাত্র ৪৯০ ফুটের মধ্যেই ০৮/০৪/২০১৯ তারিখে বিএডিসি সেচ কমিটির দেওয়া মোহাব্বত আলী নামে আরেক কৃষকের একটি অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি মো. মেজবাউল করিম  বলেন, বিষয়টি তদন্তধীন। শিগগিরই বিধি মোতাবেক সমাধান হয়ে যাবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ভঙ্গের বিষয়টিও দেখা হবে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..