মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

স্বামী প্রতারক এবং স্ত্রী ভুয়া চিকিৎসক।

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার ৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।

চিটাগাং রোড সংলগ্ন মৌচাক নিমাইকাশারী এলাকায় অবস্থিত মামাভাগিনার দোকানের পাশের রোডে অবস্থিত আমজাদের ব্যাগের ফ্যাক্টরী। দীর্ঘদিন ধরে এই ফ্যাক্টরীতে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোসহ তাদের বেতনের টাকা না দিয়ে চরম হয়রানী এবং প্রতারণা করা হচ্ছে। বেতনের টাকার আশায় প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা আমজাদের অফিসে দাঁড়িয়ে থাকে দারিদ্র্য শ্রমিকগন অথচ আমজাদ যেন তাদের কাউকে দেখেও দেখেনা। এমনই একজন ভুক্তভোগী হয়েছেন মিম নামের একজন মেহনতী নারী শ্রমিক। দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজ করিয়ে মাত্র একশত টাকা করে পারিশ্রমিক ধার্য করা হত মিমের নামে। এভাবে তাকে দিয়ে দুই মাস দশদিন কাজ করানোর পর মোট পারিশ্রমিক মাত্র সাত হাজার টাকা প্রদান না করেই বিভিন্ন বদনাম দিয়ে ছাটাই করে দেয়া হয় তাকে। অত:পর বেতনের টাকা চাইতে গেলেই টাকা প্রদান করতে অস্বীকার করে আমজাদ। এমনকি মিমের সাথে একজন মেহনতী শ্রমিকের কথা বলার ভিডিওকে প্রেমালাপ বলে অপবাদ দিয়ে মিমকে অফিসে এনে জঘন্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বের করে দেওয়া হয়। বিগত দুই মাস দশদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পারিশ্রমিক হিসেবে মিম পেল জঘন্য গালিগালাজ আর চারিত্রিক অপবাদ। এর আগে মহসিন নামের একজন মেহনতী শ্রমিককেও পার্টনার বানানোর নাম করে তার নিকট থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে আমজাদ। তারপর মহসিনকে দীর্ঘদিন যাবৎ দিনরাত পরিশ্রম করিয়ে বেতন না দিয়েই ছাঁটাই করা হয়। মহসিনের মোট বেতন হয়েছে এক লাখ উনচল্লিশ হাজার টাকা এবং তার কাছ থেকে আমজাদ নিয়েছিল আরও একলাখ টাকা। মোট দুই লাখ উনচল্লিশ হাজার টাকা। এদিকে শাকিল নামের আরেক মেহনতী শ্রমিককে মাত্র তিনশত টাকা হাতখরচ প্রদান করে তার নামে তিন হাজার টাকা লিখে রাখে তারা। এভাবেই তার ফ্যাক্টরিতে কৌশলে শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। মুন্না নামের আরেক স্টাফকে শুক্রবার ছুটির দিনে ব্যাবসায়িক কাজে পাঠালে মুন্না সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেংগে ফেলে। তারপরও মুন্নাকে হাসপাতালে দেখতে যায়নি কেউ বরং বেতন প্রদান না করেই ছাঁটাই করে তার টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে আমজাদ। বিষয়টি নিয়ে আমজাদের অফিসে গেলে গণমাধ্যমকে বিভিন্নরকম হুমকি প্রদান করে আমজাদ। হুমকি দেয়ার কারনে ইতিমধ্যে আমজাদের নামে থানায় একাধিক হুমকি মামলা ও জিডি করা হয়েছে। এদিকে আমজাদের স্ত্রী আফরোজা আক্তার হচ্ছেন একজন ভূয়া চিকিৎসক। প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত পড়াশোনাও করেনি ল অথচ নিজের নামে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার চেম্বার খুলে নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগীদের ভূয়া চিকিৎসা প্রদান করছে এই মহিলা প্রতারক। থাইগ্লাস লাগানো চেম্বার সাজিয়ে চশমা পড়ে রোগীদের রোগের বিবরন শুনে এমন ভাবে তাদের পরামর্শ দেয় যে সেটা দেখে কারো বোঝার উপায় নেই এই মহিলা আসলে একজন প্রতারক। নিজেকে প্রশ্নের বেড়াজাল এড়াতে ভিজিটিং কার্ডে আরও দুজন চিকিৎসকের নাম সংযুক্ত করা হলেও বাস্তবে সে নিজেই চিকিৎসক সেজে রোগীদের ভূয়া চিকিৎসা প্রদান করে আসছে। বিষয়টা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর সে নিজের চেম্বার ছেড়ে দেয়। তারপর বাসা পাল্টে নতুন বাসার ভেতর চেম্বার সাজিয়ে আবার নতুন কায়দায় ভুয়া চিকিৎসা প্রদান করছে এই মহিলা প্রতারক।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..