মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:২২ অপরাহ্ন

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে বিলীন হওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৭টি গ্রাম

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২১ বার পঠিত

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তাণ্ডবে বিলীন হওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জামালপুর ও খুকনি ইউনিয়নের ৭টি গ্রাম।

বন্যার পানি কমতে ধাকায় যমুনা নদী তীরবর্তী গ্রাম গুলিতে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙনের এ তাণ্ডব শুরু হয়েছে।

বিলীনের পথে থাকা গ্রামগুলো- খুকনি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, ঘাটাবাড়ি, পাকুরতলা, বাঐখোলা ও কুঠিরপাড়া। ইতোমধ্যেই এসব গ্রামের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এতে এসব এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ বাড়িঘর,ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অবশিষ্ট যেটুকু আছে তাও বিলীন হওয়ার পথে।

এ বছর বর্ষার শুরুতে ব্রাহ্মণগ্রাম ও আরকান্দি, গ্রামে বালু ভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলার কারণে ওই গ্রাম গুলিতে ভাঙন কম। কিন্তু অন্য গ্রাম গুলি ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ফলে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে পথে বসছে এলাকাবাসী।

ভাঙনে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ শতাধিক বাড়িঘর, ১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২টি মসজিদ, ২টি ঈদগাহ মাঠ, ১২০টি তাঁত কারখানা, ৪০০ বিঘা আবাদি জমি, ২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ১টি কবরস্থান, ১টি শ্মশান ঘাট, ১টি মন্দির ও ৪ শতাধিক গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জালালপুর গ্রামের,আসাদ আলী,আতিক হাসান,রহম আলী,বাবলু মিয়া, দেরাজ মোল্লা,আব্দুল হামিদ,দুলাল শেখ,তয়জাল মোল্লা, রবি চান,আলম শেখ, ব্রাহ্মণগ্রামের এমদাদুল হক মিলন,আরকান্দি গ্রামের নুরু মির্জা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এ সব গ্রাম ও ঘরবাড়ি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। মানুষজন সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এ থেকে এলাকাবাসীকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মহির উদ্দিন বলেন,এলাকার সব বাড়িঘর ভেঙে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষজন ঘরবাড়ি হারিয়ে পলিথিন টানিয়ে খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। তাদের মলমূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা নাই। তারা কি খায় কোথায় থাকে তার কোন খোঁজ নেয় না কেউ। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে এ সব গ্রামের সব শেষ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ ও জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা সময় মত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ৭টি গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি যে টুকু আছে তা রক্ষা করা না গেলে মানুষজন নিঃস্ব হয়ে পথে বসে যাবে। তাই অবিলম্বে ভাঙ্গনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন,কয়েক দিন আগে সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করেছি। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ভাঙন রোধে ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে হাট পাচিল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় বাঁধ ও তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। করোনার কারণে এ প্রকল্পটি একনেকে পাশ হতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রকল্পটি পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..