বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে প্রতীমা বিসর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • Update Time : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৫৮ বার পঠিত

আবদুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে বিজয়া দশমীতে প্রতীমা বিসর্জন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বাঁকখালী, মাতামুহুরী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে প্রতীমা বিসর্জন দেয় হিন্দু ধর্মের ভক্ত-অনুরক্তরা। কেন্দ্রীয় স্বরস্বতী বাড়ির প্রতিমা ছাড়াও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতীমাগুলো উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে চুবিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। মহাষষ্ঠীতে দোলায় চড়ে এসেছিলেন দুর্গা। আর গজে (হাতি) চড়ে কৈলাশে ফিরছেন। কক্সবাজার জেলায় এবার ১৪৪ টি মন্ডপে প্রতিমা পূজা হয়েছে। বিজয়া দশমীর দুর্গোৎসবকে ঘিরে সমুদ্রসৈকতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যে কারণে বিসর্জন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিসর্জন ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো আয়োজন না থাকলেও উলুধ্বনি, শঙ্খ ও ঢোল বাজিয়ে পানিতে ভাসানো হয় প্রতিমা।
তবে, করোনাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিধি মানার জন্য নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। বিসর্জন উৎসবে মাস্ক ব্যবহারী লোকের সংখ্যা খুব কমই চোখে পড়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘মা দুর্গা’ বিসর্জনের সময় আনন্দের পাশাপাশি বিষাদের ছাপও ছিল।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উন্মুক্ত মঞ্চে প্যান্ডেল তৈরী হলেও এবার বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সৈকতের বালিয়াড়িতে হয়নি বিদায় অঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠান। তবু বেলা ৩ টা থেকে কক্সবাজার জেলা বিভিন্ন উপজেলা থেকে শুরু করে পাশ্ববর্তী বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে একে একে প্রতিমা বোঝাই ট্রাক আসতে থাকে। আর ওই সব প্রতিমা ধর্মীয় রীতি মেনে সৈকতে দেয়া হয় বিসর্জন।
সোমবার বেলা ৩টা থেকে ট্রাকযোগে লাবণী পয়েন্টে একে একে আনা হয় প্রতীমা। এরপর ভক্তদের কাঁধে চড়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিসর্জনের জন্য। প্রতীমা বিসর্জনে জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য, ফায়ার সার্ভিস বাহিনী ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
বিসর্জনে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সদর থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..