রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

News Headline :
মহান বিজয় দিবস উদযাপন বাস্তবায়ন লক্ষ্যে তাড়াশে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন কৃষক মতিন তাড়াশে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করার অভিযোগ শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশে সুফলভোগীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ বিতরণ  তাড়াশে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাড়াশে মাধাইনগর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৩টি ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন ও কুপিবাতির ব্যবহার

এম এ করিমঃ
  • Update Time : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৮৯২ বার পঠিত

প্রযুক্তির এই যুগে আমরা গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্য হারিয়েছি,হারিয়েছি পরিবার ও সমাজ,রাষ্ট্র ব্যবহৃত অতি অপরিহার্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই। যা ছিল একেবারেই মানুষের অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নিত্যনতুন আবিষ্কারের ফলে এসব প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে অন্যতম ছিল হারিকেল ও কুপিবাতি।যা ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছেন এমন সব প্রাচীন জনপ্রিয় প্রয়োজনীয় ব্যবহারিত মানুষের জাঁতা, ঢেঁকি, পালকি থেকে শুরু করে লাঙল-জোয়াল ও মই সহ অারও অনেক কিছুই।

আর প্রযুক্তির আবির্ভাবে এদের মধ্যে মানুষের অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিদায় নিতে প্রহর গুনছে। হয়তো ইতিমধ্যে তারা বিলুপ্ত হবে খুব নিরবে এবং নিঃশব্দে, বিজ্ঞানীদের নব নব আবিষ্কার এদের স্থান দখল করে নিয়েছে বেশ দাপটের সাথে। এ কথা শতভাগ আস্থা সাথে বলা যায় যে, কালের বিবর্তনে যারাই হারিয়েছে তারাই জনমানুষের স্মৃতিপটে গৌরবময় হিসেবে প্রদর্শনী হয়ে থাকবে ইতিহাসে নতুনদের কাছে।

হারিকেন হল কেরোসিন তেলের মধ্যে বদ্ধ এক কাচের পাত্রে ঢাকা আলো জ্বালানোর একটা সু-ব্যবস্থা মাত্রই, যার বাইরে অংশ হালকা কাঁচের আবরণ দিয়ে মোড়ানো থাকে যার কোন টা লম্বা আবার কোনোটা অাবার চ্যাপ্টা গোলাকার হয়ে থাকে, যাকে আমরা চিমুনি বলেও থাকি।

মানুষের অতি পরিচিত এবং শতভাগ প্রয়োজনীয় জিনিস হারিকেন ও কুপিবাতি, বিভিন্ন খানে ও স্থানে ভিন্ন নামে পরিচিত হলেও হারিকেন ও কুপিবাতি বলেই এরা খুবই সবারই কাছে পরিচিত।

হারিকেন ও কুপিবাতি আমাদের অস্তিত্ব সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে একমাত্র আলোর উৎস ছিল হারিকেন ও কুপিবাতি।যা সন্ধ্যা নামলেই হারিকেন ও কুপিবাতি নিয়ে পড়তে বসতো গ্রামীণ জনপদে শিশুরা, এবং বর্ণমালার সুন্দর ছন্দে আলো-আঁধারির এক মজার দৃশ্য ফুটে উঠত তখন গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি ঘরেই।

হারিকেন ও কুপিবাতির আলোর ঝলকে বাড়ির প্রতিটি গৃহে টাঙগানো হত হারিকেন ও কুপিবাতি।এছাড়াও, আলোর মশাল গৃহকর্তা এটা সেটা কাজ এমনকি রাত্রি যাপনে নিজ গৃহে হারিকেনের ব্যবহার লক্ষ্য করা যেত।

শুধু তাই নয় হারিকেন আর কুপিবাতি এই দুই ছিল তাদের পরিবারের একটি সদস্যের মতো,দিনে আলোতে তাদের প্রয়োজন না হলেও সূর্য ডোবার সাথে সাথে এদের কদর বেড়ে যেত বহুগুণ। গ্রামীণ জনপদে গ্রামের বাড়িতে হারিকেল ছিল না এমন কথা ভাবাই যেত না।

হারিকেনের পাশাপাশি কুপিবাতি নামক এক প্রকার বাতিল প্রচলন ছিল,যা সন্ধ্যা নামলেই গ্রাম গঞ্জের রাস্তা ঘাতে পাড়ি দিতে সাহায্য করত হারিকেন ও কুপিবাতি। কিন্তু বর্তমান সভ্যতায় হারিকেন উপ-প্রজাতির প্রভাব অনেক অংশই লোপ পেয়েছে। আগে যেখানে হারিকেন বাতির দাপট ছিল সেখানে আজ বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ এর আগমন ঘটেছে।

দেশের বেশিরভাগ জনপদ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে ভুলে গেছে প্রাচীন হারিকেন আর কুপিবাতির সহযোগিতার কথা। বিজ্ঞানের এই যুগে বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন আর কুপিবাতির ব্যবহার প্রযুক্তির ধাপের টিকবে না তার যুক্তি বাস্তবতা। এটা আমাদের কাছে মেনে নিতেই হবে।

তাই বলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য হেলায় ফেলে দিব না, তা কিন্তু নয়,আমরা আমাদের ঐতিহ্য যত্নসহকারে লালন করব এবং টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টারত থাকব।যা নতুন প্রজন্ম উপলব্ধি করতে পারে হারিকেন ও কুপি বাতির ব্যবহার সমন্ধে।

মানব সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সুতরাং বিজ্ঞানের এই যুগে বাংলার ঐতিহ্য হারিকেন আর কুপিবাতি বিদায় করে বিজ্ঞানীর অগ্রযাত্রা মানুষকে বিদ্যুৎ নামক আলোর পথ দেখিয়ে দিয়েছি।

আর তাই আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে লালন করে ও সংরক্ষন করে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মৃতি হিসাবে রেখে দেবো।যা ইতিহাসের পাতায় নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে জানবে শুনবে এবং দেখিয়ে দিবে তার পরবর্তী প্রজন্ম।

সন্ধ্যা নামতেই গ্রাম বাংলার হারিকেন ও কুপিবাতির ব্যবহার এ মনটা নতুন প্রজন্মকে জানাশোনা এবং দেখিয়ে দেওয়া দায়িত্ব নিয়ে আমাদেরই করে দিতে হবে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..