মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে পুকুর খননের প্রতিবাদে মডেল প্রেসক্লাবের মানববন্ধন তাড়াশে মডেল প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ম্যাগনেট আঃলীগের মনোনয়ন পেয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ তাড়াশে বিজয় দিবস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন না করার দাবীতে মানববন্ধন তাড়াশে স্কুলের সভাপতি হলেন আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম মাষ্টার মাটির চুলায় খড়-কুটোর রান্না তাড়াশে বাল্য বিবাহ ও ধর্ষণকে লাল কার্ড তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেলেন জিল্লুর রহমান তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হলেন সাইদুর রহমান

পুলিশ জনগণের বন্ধু

সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২০৫ বার পঠিত

খুপড়ি ঘরে জীবন কাটছিল হিন্দু পরিবারটির। জমি থাকতেও আদালতের নির্দেশ মান্য করে ঘর উত্তোলন করতে পারেনি এই পরিবারটি। কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, আবার কখনো রোদে শুকিয়েছে, একাকার, কখনো রোদের তীব্রতায় জলে ওঠে প্রাণ। মাটির ঘরে ৩৬ বছর জীবন যুদ্ধ করে থাকতে হয়েছিল এই পরিবারটির। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথাও বন্ধ সেই থেকে। বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগড় গ্রামের দুই পরিবারের বিরোধ মিটে গেল। চোখের কোনের অশ্রুজল মুছে যায় নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তীর। পুরনো বিরোধ নিস্পত্তিতে খুশি প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝিও। একে অন্যের হাতে ফুল দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ভুক্তভোগীরা। এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে একমাত্র ঝালকাঠি জেলা পুলিশের সহযোগিতায়। তিনি হলেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে এই বিরোধ নিস্পত্তি হয়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পরমহল গ্রামে সৎ ছেলের কোপে এক হাত হারানো মিনারা বেগম (৪০)এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান। এবং তৎকালীন চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর তাকে বসবাসের জন্য নিজের টাকায় একটি বসতঘর নির্মাণ করে দিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসান।

ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি পুরাতন কলাবাগান এলাকায় জন্ম থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত ছিল শিশু তামিমা আক্তার। তার পিঠে একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। অথচ চিকিৎসকরা জানান, এটি টিউমার নয়। ধীরে ধীরে সেটি বড় হতে থাকে। পরে জানতে পারেন রোগটির নাম ‘মেনিংগোসেল’। একমাত্র সন্তানের এ রোগের চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা ও মা। হত দরিদ্র পরিবার স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়ে কোন সুফল পাচ্ছিলেন না। তখন শিশুটির বেড়ে ওঠাও থমকে যায়। দিন দিন মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

এমত অবস্থায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য শিশুটির বাবা স্মরণাপন্ন হন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের। তখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব দায়িত্বভার গ্রহণ করেন । ঢাকায় তাঁর এক চিকিৎসক বন্ধুর মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয় ওই শিশু তামিমার।

দেড় বছর বয়স হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করার ব্যবস্থা করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অপারেশন সফল হলে তামিমা ফিরে পায় নতুন জীবন। তখনই খুশিতে মন ভরে ওঠে তামিমার এবং বাবা আমার। ফিরে পেল এক নতুন জীবন।

শুধু নিরঞ্জন, মিনারা ও তামিমাই নয়, ঝালকাঠিতে যোগদানের পর অসংখ্য মানুষের বিরোধ নিস্পত্তি ও অসহায় মানুষের সহযোগিতা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় রাত দিন মাঠ পর্যায়ে নিরলস ভাবে মানুষের সেবাদানে কাজ করেছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম মাহমুদ হাসান । মানুষকে সচেতন করা, মাস্ক বিতরণ, পিপিই ও খাদ্যসামগ্রীও দিয়েছেন অসংখ্য মানুষকে। হারানো মোবাইলফোন উদ্ধার, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করে ঝালকাঠিবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসান । এছাড়াও মাদক, সন্ত্রাস ও চুরি-ডাকাতি রোধে কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুনাম অর্জন করেছেন মাহামুদ হাসান। তিনি জঙ্গিবাদ, বাল্যবিয়ে ও মাদক বিরোধী প্রচারণায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছিলেন। স্টুডেন্ট বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকান্ডে দক্ষতা ও সাফল্যের সাথে স্বীকৃতি স্বরূপ একাধিকবার বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পিপিএম-বার পদক গ্রহণ করেছিলেন । বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাধারণ মানুষের। নানা সামাজিক কর্মকান্ডে তাকে দেখা যেত অগ্রভাগে। অধিনস্তদের মাঝে জনপ্রিয় এম এম মাহামুদ হাসানের সাফল্যে খুশি জেলা পুলিশ বিভাগ।

নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী বলেন, আমার চোখের পানি মুছে দিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। আমি এখন নিশ্চিন্তে ঘর তুলে বসবাস করতে পারবো।

নজরুল ইসলাম ওরফে ইউনুস মাঝি বলেন, তুমি আমার জমি মামা নিয়ে ৩৬ বছর ধরে বিব্রতকর অবস্থায় মধ্যে পড়ে ছিলাম। মামলা-হামলা কত কিছুই না হয়েছে। সব কিছুই মিটিয়ে দিয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তা। আমাদের মধ্যে আজ থেকে কোন বিরোধ দেখা দেয়নি।

এক হাত হারানো মিনারা বেগম বলেন, আমি যে, বেঁচে আছি, তা মাহমুদ স্যারের জন্যই। তিনি আমাকে বাঁচার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। আমাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সহযোগিতা করেছিলেন। একটি খুপড়ি ঘরে থাকতাম, আমার বসতঘর তুলে দিয়েছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে সে আমাদের বাড়িতে এসে আমার সবসময় খোঁজ খবর নিত এবং টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। আমাকে মেরে টুকরো টুকরো করে ফেলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো সৎ ছেলে মাসুদ সরদার। তাকেও এই পুলিশ কর্মকর্তা সাবধান করে দিয়েছিলেন। স্যারের মতো লোক হয় না।

তানিমার বাবা তাবির হোসেন বলেন, আমার মেয়ের জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন আমি মাহমুদ হাসান স্যারের শরণাপন্ন হয় সাহায্য প্রার্থনা করেছিলাম। কখন তিনি আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এতে যত টাকা খরচ হয়েছে, মদ হাসান শারে নিজেই আমাকে দিয়েছিলেন । তাঁর কাছে আমরা চিরঋণি এবং কৃতজ্ঞ। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা সব জেলাতেই থাকা প্রয়োজন। আমরা সব সময় তাঁর জন্য দোয়া করি।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান বলেন, ঝালকাঠিতে চাকরিতে যোগদানের পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা বিরোধ নিস্পত্তি করেছি। মাদক ও সন্ত্রাস রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাল কাজের পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের কাছে আহ্বানও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি এখানে অনেক দিন চাকরি করে মানুষের ভালবাসা অর্জন করতে করেছি। এখন বদলীজনিত কারণে ঝালকাঠি থেকে ঢাকা এ

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..