মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন

হাটহাজারী মাদ্রাসা চিরতরে নিষিদ্ধের ও উচ্ছেদের দাবী

মোঃ আবুল কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি, সময়ের সংবাদ:
  • Update Time : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪২৪ বার পঠিত

চট্রগ্রামের আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম ক্বওমী মাদ্রাসা, সংক্ষেপে কথিত হাটহাজারী মাদ্রাসা চিরতরে নিষিদ্ধের ও উচ্ছেদের দাবী উঠেছে। হাট হাজারী মাদ্রাসার আহম্মেদ শফি মরনোত্তর তার ছেলে আনাস মাদানী বাহিনী ও জুনায়েদ বাবু নগরী বাহিনীর মধ‍্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে‌। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে খুন করার জন‍্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। অদ‍্য সারাদিন যাবত হাটহাজারী মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, ভাংচুর, হামলা, পাল্টাপাল্টি হামলা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সারাদেশের মত ভোলা জেলায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ছড়িয়ে না পড়ার জন‍্য কৌশলে ভোলা জেলার বিদ‍্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতে কেউ টিভির পর্দায় ঐ খবর দেখতে না পারে ও মুসলমানদের অত‍্যাচারের মুখে না পড়ে। আনাস মাদানী বাহিনী ও জুনায়েদ বাবুনগরী বাহিনীর মধ‍্যে পাল্টাপাল্টি মামলা-মোকদ্দমার প্রস্ত্ততির খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিকে অপসারণসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যেই কওমি মাদ্রাসাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে হাটহাজারীর ওই মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও অধ্যক্ষকে বৃহস্পতিবার একটি চিঠি পাঠিয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। সেখানে বলা হয়েছে, মহামারীর মধ্যে কয়েকটি শর্তে কওমি মাদ্রাসাগুলোর কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। “কিন্তু আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসাটি পুরানাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হল।” করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই ছুটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে- সরকারের তরফ থেকে। তবে ক্বওমি মাদ্রাসাগুলোর আবেদনে গত অগাস্টের শেষে তাদের ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে’ ডিগ্রি ও মাস্টার্স পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মত আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে।
হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা দেওবন্দের পাঠ্যসূচিতে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো ও বড় কওমি মাদ্রাসা। সাত হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেখানে অধ্যয়ন করে। এ মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) শাহ আহমদ শফী বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশেরও (বেফাক) সভাপতি। ৯৫ বছরের বেশি বয়সী শফীই ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সর্বোচ্চ নেতা। দীর্ঘদিন ধরে এর মহাপরিচালকের পদে থাকা আহমদ শফীকে দেশের কওমি শিক্ষার্থীরা ‘বড় হুজুর’ বলে সম্বোধন করেন। তবে শফীর বয়স হওয়ায় এই মাদ্রাসার কর্তৃত্ব নিয়ে সম্প্রদি বিরোধ দেখা দেয়।
গত জুন মাসে মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠকে জুনাইদ বাবুনগরীকে সহকারী পরিচালেকের পদ থেকে সরিয়ে শেখ আহমদকে নিয়োগ দেওয়ার পর আহমদ শফীর সমর্থকদের সঙ্গে বাবুনগরী পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্য হয়। তারই জের ধরে বুধবার ওই মাদ্রাসায় শফীর ছেলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানান, বুধবার দুপুরে হঠাৎ করেই কয়েকশ শিক্ষার্থী মাদ্রাসার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক (শিক্ষা) আনাস মাদানির পদত্যাগ দাবি করে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা ছয় দফা দাবিও তুলে ধরেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আনাস মাদানির কক্ষ এবং জুনাইদ বাবুনগরীর পদে নিয়োগ পাওয়া শেখ আহমদের কক্ষও ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা মাদ্রাসার সামনে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদ্রাসার ভেতরে বৃহস্পতিবারও উত্তেজনা চলছে, পুলিশ সদস্যরা বাইরে অবস্থান নিয়ে আছেন। অন‍্য দিকে মৃত: আহম্মেদ শফিকের নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি করার দাবী নিয়ে নারায়নগঞ্জে আলাউদ্দিন নামের এক মাওলানাকে গ্রেফতার করিয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। তবে আলাউদ্দিন মাওলানাও আনাস মাদানী বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলার ন‍্যায়সঙ্গত প্রস্ত্ততি নিচ্ছে। আবার বহুদিনের পুরাতন ঘটনা হাটহাজারী মাদ্রাসা ও মসজিদ নামে স্থানীয়দের জমি দখল সংক্রান্ত ঘটনা। যা নিয়ে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়েছে তাদের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন‍্য। এবং সরকারি জমি ভিন্ন দাগৈ এস: এ: খতিয়ান ও ডিয়ারা খতিয়ান করে মাদ্রাসার নামে দখল করে রাখায়- সংশ্লিষ্ট ভূমি কমিশনার উক্ত সরকারী জমি উদ্ধার করতে না পারায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দোষী হয়ে আছে। সরকার সহ কেউ কেউ আহমেদ শফির মৃত্যু হওয়ার পর ঐ মসজিদ ও মাদ্রাসার দখলে থাকা স্বীয় মালিকানার জমি উদ্ধার করে নিতে চাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে ঐ মসজিদ মাদ্রাসার স্থাপনা অবৈধ ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন। যেভাবে সম্রাট কামাল আতাতুর্ক তার নিজ দেশে মসজিদ মাদ্রাসা উচ্ছেদ করেছিলেন সেভাবে ঐ দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম ক্বওমী মসজিদ ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করা লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। আসলে বাস্তবতা যা দিয়েছে – সে হিসেবের আলোকে ও মাদ্রাসা উচ্ছেদের দাবীর আলোকে ঐ মাদ্রাসা ও মসজিদ চিরতরের জন‍্য নিষিদ্ধ করে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

এদিকে ভোলা জেলায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা সৃষ্টি করে জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে সংখ‍্যালঘুদের বাড়ীঘর, অর্থ-সম্পদ লুটপাটকারী চক্র গত কালের টর্নেডো ও আকাশের অবস্থা খারাপ দেখে সরকারের নিকট সরকারি সাহায‍্যের নামে ট্রানের টাকা-পয়সা চাঁদাবাজিতে মনোনিবেশ করেছে। এবং তারা নিজেদেরকে আনাস মাদানী বাহিনীর পক্ষে জানান দিবে না জুনায়েদ বাবুনগরী বাহিনীর পক্ষে জানান দিবে সেই ব‍্যাপারেও খোঁজ-খবর রাখছে। যেই পক্ষ জয়ী বলে ধারনা করবে- ভোলা জেলার সকল লোকজন নিজেদের আখের আগাম গোছানোর জন‍্য ওই পক্ষের বলে পেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..