মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে পুকুর খননের প্রতিবাদে মডেল প্রেসক্লাবের মানববন্ধন তাড়াশে মডেল প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ম্যাগনেট আঃলীগের মনোনয়ন পেয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ তাড়াশে বিজয় দিবস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন না করার দাবীতে মানববন্ধন তাড়াশে স্কুলের সভাপতি হলেন আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম মাষ্টার মাটির চুলায় খড়-কুটোর রান্না তাড়াশে বাল্য বিবাহ ও ধর্ষণকে লাল কার্ড তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেলেন জিল্লুর রহমান তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হলেন সাইদুর রহমান

পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে হরিরামপুরে শতাধিক গ্রাম

আবিদ হাসান, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ:
  • Update Time : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২০৬ বার পঠিত

অব্যাহত পদ্মার ভাঙনের ফলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের সর্ম্পূণটাই চলে গেছে সর্বনাশী, রাক্ষুসী খ্যাত পদ্মা নদীর ভূ-গর্ভে। ভৌগলিক মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া গ্রামগুলো এখন কেবলই নামের ওপর দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত স্মৃতির বোঝা। ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে আজিমনগর, লেছড়াগঞ্জ এবং সুতালড়ী ইউনিয়নের সম্পূর্ণ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৬০/৭০ বছর পূর্বে।

বিভিন্ন এলাকার প্রবীণ লোকদের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, পঞ্চাশ দশকের গোড়ার দিকে সর্বপ্রথম হরিরামপুরের আজিমনগর ইউনিয়নের ২৭টি গ্রাম ও লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ১৯টি গ্রাম এবং ষাটের দশক এসে সুতালড়ী ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামসহ বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ৭০ দশকের গোড়ার দিকে এই তিনটি ইউনিয়নে চর জাগতে শুরু করে এবং ছন্নছাড়া মানুষগুলোর অনেকে পুনরায় বাপদাদার ভিটেবাড়ি সনাক্তকরে সেখানে বসবাস আরম্ভ করে। বর্তমানে তিনটি ইউনিয়নই নদীর মাঝ খানে অবস্থান করছে এবং আস্তে আস্তে জনবসতী বেশি হওয়ায় বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করে পুরোপুরি চরাঞ্চল হয়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চাষাবাদ করে চরাঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। একই সাথে পঞ্চাশ দশক থেকেই কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১০টি গ্রাম সম্পূর্ণরূপে নদী গর্ভে চলে যায় এবং অব্যাহত ভাঙনের ফলে বাকি ৯টি গ্রামেরও অধিকাংশ নদীগর্ভে। পরবর্তীতে ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামে চর জেগে উঠলে সেখানে লোকজন বসবাস শুরু করে। ১৯৯৬ সালে বালিয়াকান্দির চরে ছন্নছাড়া ৫০টি পরিবারের জন্য আশ্রয়কন্দ্রে নির্মাণ করে দেয়া হলেও ২বছর পর সেটিও ভাঙন কবলে গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নগুলোর মধ্যে বয়ড়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মধ্যে ১০টি, হারুকান্দি ১৭টি গ্রামের মধ্যে ১৪টি গ্রাম (যা বর্তমানে চর জেগে ওঠায় লোকজন বসবাস করছে), ধূলসুড়া ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রামের মধ্যে ১০টি, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ১৩টি গ্রামের মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নদী গর্ভে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী বাহাদুরপুর বাজার গতবছর বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে নদী তীরবর্তী গোপীনাথপুর ভাটিকান্দি সরকাকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বয়রা ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মধ্যে ১০টি, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১০টি, যা পুরোপুরি নদী গর্ভে এবং সদ্য ভাঙন দেখা দেয় বলড়া ইউনিয়নে ১টি গ্রামে। বর্তমানেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে উপজেলাটিতে। আকস্মিক বন্যাও মধ্যে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ইউনিয়নে। বিলীন হয়ে যায় বসতবাড়িসহ জমিজাতি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে সাতটি উপজেলায় বিভক্ত করে মানিকগঞ্জকে জেলায় রূপান্তরিত করা হয়। সাতটি উপজেলার মধ্যে পদ্মা-যমুনা-ইছামতির অববাহিকায় অবস্থিত এই হরিরামপুর উপজেলাটিই ছিল আয়তনের দিকে থেকে সবচেয়ে বড়। ২৪৫.৪২ বর্গকিলোমিটারের আয়তনে ২৫০টি গ্রামটি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় জেলার এই সর্ববৃহৎ উপজেলাটি হরিরামপুর। ভৌগলিক অবস্থানের দিকে দিয়ে দেখা যায়, এই উপজেলার উত্তরে ঘিওর উপজেলা এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা, পূর্বে সিঙ্গাইর উপজেলা এবং ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে ফরিদপুর সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে শিবালয় উপজেলা।

অব্যাহত নদী ভাঙনের ফলে এই উপজেলার শতশত পরিবার জেলার বিভিন্ন স্থানসহ সাভারের বিভিন্নস্থানে আশ্রয় গ্রহণ করে। যার ফলে উপজেলাটির আয়তনসহ জনসংখ্যাও কমে যায় অনেকটা।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুস উদ্দিন গাজী বলেন, এই ইউনিয়নে তৎকালিন সময়ে ১৪টি মৌজা ছিল। তারমধ্যে বর্তমানে একটি মৌজার ৪০ শতাংশ আছে। ১০গ্রাম সম্পূর্ণ নদীর মাঝখানে। বাকি নয়টি গ্রামেরও অধিকাংশই নদীতে। এখন যদি নদী ভাঙনরোধ করা না যায়, তবে অব্যাহত ভাঙনের ফলে এই পুরো ইউনিয়নটিই মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার শংকা রয়েছে। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী জানাবো, এই হরিরামপুরকে রক্ষা করতে হলে স্থায়ীভাবে বেরিবাঁধ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।
‘পদ্মা ভাঙন থামাও হরিরামপুর বাঁচার’ আন্দোলনের কর্মী মাসুুদুর রহমান দাবী করে বলেন, আমাদের মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ মমতাজ বেগমের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি দাবিই জানাবো, বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে পূণ্যভূমি এই হরিরামাপুর যেন মুছে না যায়, সে জন্য তিনি একটি স্থায়ী বেরিবাধ নিমার্ণের ব্যবস্থা করে দেন।

হরিরামাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, হরিরামপুরবাসীর এখন একটাই দাবী যে কোনো মূল্যে এই হরিরামপুরকে বাঁচাতে হবে।। মানিকগঞ্জ জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে এই হরিরামপুর ছিল সবার বড়। কিন্তু সেই পঞাশ দশক থেকে অব্যাহত ভাঙনের ফলে এখন তা আয়তনে প্রায় অর্ধেকে নেমেে এসেছে। বর্তমানে হরিরামপুর থানা, আন্ধারমানিক বাজার, পাটগ্রাম স্কুল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনসহ এই উপজেলা চত্ত্বরটিইও পুরো হুমকির মুখে। তাই এই হরিরামপুরকে বাঁচাতে হলে একটি স্থায়ী বেরিবাঁধের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আর হরিরামপুরের আর একটি গ্রামও হারাতে চাই না এবং নদী ভাঙনের জন্য আর কোনো মানুষের আহাজারি শুনতে চাই না। এই পদ্মার ভাঙন রোধে অবশ্যই একটা স্থায়ী বেরিবাঁধের কোনো বিকল্প নেই।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, নদী ভাঙন রোধে দৌলতপুরের বাঁচামারা থেকে হরিরামপুরের ধুলসুরা ইউনিয়ন পর্যন্ত বেরিবাধের জন্য ধাপে ধাপে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সবই করা হবে। তবে এলাকার বিভিন্ন মহল থেকে দাবী নদীর মাঝ খানে জেগে ওঠা চর কাটলে হয়তো নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। তাছাড়া চর কাটার এখতিয়ার পানি উন্নয়বোর্ডের নেই। এটা সম্পূর্ণ ভূমি মন্ত্রণালয়ের।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস. এম. ফেরদৌস বলেন, নদী ভাঙন রোধে ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য রাস্তাসহ বেড়িবাধের নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলছে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..