সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

News Headline :

দেশের নামকরা রেজাল্টের শীর্ষে থাকা স্কুল গুলো সত্যিই কি তারা কৃতিত্বের দাবিদার?

মেহেদী হাসান মিলন:
  • Update Time : রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৩০ বার পঠিত

অনেক দিন থেকে ভাবছি দেশের নামকরা রেজাল্টের শীর্ষে থাকা স্কুল গুলো নিয়ে কিছু লিখবো।তাই আজ অবসর সময়ে লিখতে বসে গেলাম। আমার লেখা পড়ে কথাগুলো অনেকের সঠিক মনে নাও হতে পারে।আমার লেখায় আমি শুধুমাত্র আমার মতামত তুলে ধরছি। বাকি বিবেচনাটা আপনাদের।দেশের প্রত্যক জেলায় দুএকটা করে সরকারী বা নামকরা স্কুল রয়েছে।আবার প্রতিটি ইউনিয়নেও বেশ কয়েকটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।আমরা সকলে জানি নামকরা রেজাল্টের শীর্ষে থাকা ও সরকারী স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হলে পঞ্চম শ্রেনী পাশ করে ক্লাস সিক্সে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়।সেখানেও একটি পয়েন্ট নির্ধারন করা থাকে।তারপর শুরু হয় ভর্তি হতে আবেদনের পর আবেদন।ভর্তি পরীক্ষা। যাকে আমরা ভর্তিযুদ্ধ বলে থাকি।যুদ্ধ মানে বোঝেনই তো ঢাল তলোয়ার,অস্ত্রসস্ত্র, পারমানবিক বোমা নিয়ে রনকৌশলে নেমে বিপক্ষ শক্তিকে পরাজিত করে জয়লাভ করা।ভর্তি পরীক্ষাতে অবশ্য ঢাল তলোয়ার,পারমানবিক বোমা লাগেনা তবে লাগে এমন শক্তির মেধা।কারন কয়েকশত আসনের বিপরীতে কয়েক হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী আবেদন করে।যাদের অধিকাংশ গোল্ডেন এ প্লাস,এপ্লাস পাওয়া ও প্লাসের কাছাকাছি পয়েন্ট পাওয়া শিক্ষার্থী।শিক্ষকরাও এবার আধাজল খেয়ে সব সেরা শিক্ষার্থীদের মাঝখান থেকে সেরাদের সেরা শিক্ষার্থীদের বেছে নেন।যারা চান্স না পান তারা ভালো কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যান।পঞ্চম শ্রেনীতে সব শিক্ষার্থী কিন্তু গোল্ডেন, বা এ প্লাস পাইনা।২,৩ তার চাইতে কম পয়েন্ট পেয়েও পাশ করে আর তাদের সংখ্যাই সব চাইতে বেশী।তবে এসকল শিক্ষার্থী কি আর কোন বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়না? না পড়াশোনা ছেড়ে দেন।না, এরা পড়াশোনা ছাড়েন না। এরা ভর্তি হোন অজপাড়াগাঁয়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে অবশ্য ভর্তিযুদ্ধ নেই।কোন রকমে একটা পাশের সার্টিফিকেট নিয়ে গেলেই শিক্ষকরা সন্তানের মত বুকে টেনে নিয়ে ভর্তি করে নেন বিদ্যালয়ে।এবার শুরু হয় পড়াশোনার পালা।নামকরা স্কুলগুলোতে চলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা তার পাশাপাশি হাজার হাজার টাকা খরচ করে কোচিং,প্রাইভেট,রাত দিন বাবা মার কঠোর গাইড।সন্তান নিয়ে সকালে বের হয়ে আবার স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি আসা।এদিকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থীরা কোন রকমে কষ্ট করে স্কুল ড্রেস বানিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে।অনেক শিক্ষার্থীর খাতা,কলম কেনার ও টাকা থাকেনা।নোট গাইডের যুগে অনেকে তাও কিনতে পারেনা(যদিও নোট গাইড বুক নিষিদ্ধ)।কোন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া সে তো স্বপ্নের ব্যাপার হয়ে দাঁ ড়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছে ।অনেক শিক্ষার্থী আছে মাসে ২০ দিন ক্লাস করে বাকি দশ দিন বাড়ির কাজ করে,অনেক মেয়েরা বাড়ি বসে ছোট ছোট কাজ করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। অনেকে মাঠে কাজ করে নিয়মিত ক্লাস করে।তবে হ্যাঁ গ্রাম এলাকায় অনেক শিক্ষক আছেন যারা এসব গরীব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্য প্রাইভেট পড়ান বা নামমাত্র টাকা নেন।অন্যদিকে নামকরা স্কুল গুলোতো সেরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গাইড লাইন দিতে থাকে ।সব শেষ যখন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এসএসসি পরীক্ষা হয় ও তার রেজাল্ট আসে। তখন শোনা যায় নামকরা অমুক স্কুলের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ ৩০ পার্সেন্ট গোল্ডেন এ প্লাস বা এ প্লাস।এদিকে সেই চড়াই উৎরাই পার হওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে যখন ৭৫/৮০/৯০ ভাগ পাশ করে ২ থেকে ৫ পার্সেন্ট এ প্লাস পাই তখন আমরা হতাশ হই আর নামকরা স্কুলের দিকে তাকিয়ে থাকি।আচ্ছা তার আগে একটা প্রশ্ন করি, ধরুন আপনাকে খুবই উন্নত মানের জাতের এক বিঘা জমির চারা দেওয়া হলো। আপনি যত্ন করলেন। তাহলে সেখানে শতভাগ খুবই ভালো ফলন আসবে।আর আপনাকে যদি নিম্ন মানের বিভিন্ন ধরনের চারা দেওয়া হয়। তারপর আপনি কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জন করেন তাহলে আমি বলবো উন্নত মানের ভালো চারা পাওয়া ব্যাক্তির চাইতে আপনি বেশী সফল আপনার ফলন ভালো।আমরা একটা ইতিহাস জানি নবীজি এক যুদ্ধের জন্য সবার কাছে সাহায্য চাইলেন । সবাই যে যার মত সাহায্য করলো। তবে এক বৃদ্ধা তার কাছে থাকা সামান্য পরিমান শেষ স্বম্বলটুকুর সবটুকু দান করলেন।নবীজির কাছে বৃদ্ধার দানটিই সবচাইতে বড় মনে হলো। কারন তার দানের পরিমান সামান্য হলেও তিনি সব টুকু দান করেছেন।ঠিক তেমনি আমাদের গ্রামের শিক্ষার্থীরা নানান অবহেলায় মানুষ হওয়া, ঠিকমত পড়াশোনা করতে না পারা ছাত্র গুলো পাশ করে সম্মান জনক রেজাল্ট করে এটাই সবচাইতে বড় বিষয়।যেখানে নামকরা স্কুলগুলো শতভাগ সেরাদের সেরা বাছাই করে নিয়েও শতভাগ শিক্ষার্থীদের এ প্লাস বা গোল্ডেন এ প্লাস হয়না। সেখানে কি শিক্ষার্থীদের মান বাড়ে না কমে?যেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ৪ /৫ বিষয়েও শিক্ষার্থীরা টিউশনি করে।তবে এ কথা কিন্তু কেউ বলেনা।সবাই দেখে রেজাল্ট টা।এদিকে একেবারে কোন ভালো বিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা তো দূরের কথা কোন রকমে পাশ করা শিক্ষার্থীরাই যখন এসএসসিতে পাশ করে,প্লাস পাই,৪ পয়েন্টের উপরে পাই তখন এসব শিক্ষার্থীদের বুকে টেনে মাথায় হাত বুলাতে ইচ্ছে করে।এদের সেই নিম্নস্তর থেকে এ পর্যন্ত আনা যে কারিগররা কাজ করে সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের রাতদিন পরিশ্রমের জন্য তাদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে ইচ্ছা করে।আর চিৎকার করে বুক ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছা করে আমার অজপাড়াগাঁয়ের স্কুলই সেরা স্কুল।আমার এই স্কুলের রেজাল্টই নামকরা স্কুলের চাইতে ভালো রেজাল্ট।আমার এ স্কুলের শিক্ষার্থীরাই সেরা শিক্ষার্থী।আমার এই স্কুলের শিক্ষকরাই সেরা শিক্ষক।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..