শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে দলিলকৃত জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ পদ্মা সেতু দেখতে গেছেন স্বামী, বউ-শাশুড়িকে প্রেমিকের সঙ্গে ধরলেন জনতা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে তাড়াশে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে তাড়াশে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ তাড়াশে আওয়ামীলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত তাড়াশে মাদক সেবন করে মাতাল অবস্থায় ছাত্রদলের নেতা আটক তাড়াশে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত অসুস্থ তফেরের পাশে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খাঁন সারাদেশে বিএনপির অরাজকতার সৃষ্টির প্রতিবাদে তাড়াশে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে?

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩৮৯ বার পঠিত

পরকালের জবাবদিহি ও হিসাব-নিকাশ ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিশ্বাস। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের হিসাব-নিকাশ অতি কাছে। অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ১)

অবিশ্বাসীরা কিয়ামত ও পুনরুত্থান বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়। অথচ যারা পুনরুত্থান দিবস কিংবা কিয়ামতকে অস্বীকার করে তাদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘বলে দাও, তোমরা হয়ে যাও পাথর বা লোহা অথবা এমন কিছু, যা তোমাদের ধারণায় খুবই কঠিন তারা বলবে, কে আমাদের পুনরুত্থিত করবে। বলে দাও, তিনিই, যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তারা তোমার সামনে মাথা নাড়বে এবং বলবে, তা কবে? বলো, সম্ভবত তা শিগগিরই হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৯-৫১)

হাড়, মাংস ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং সহজ একটি ব্যাপার। মানুষ যদি মরে লোহা কিংবা পাথরেও পরিণত হয়, তথাপি মহান আল্লাহ মানবদেহের ওপর জীবনের পোশাক পরাতে সক্ষম।

কেননা মানুষের দুটি গন্তব্য রয়েছে। এক. ব্যক্তিগত পরিণতি, যাকে মৃত্যু বলা হয়। দুই. মানুষের সমষ্টিগত পরিণতি, যাকে কিয়ামত বলা হয়। মানুষ মরণশীল এ নির্মম সত্যকে অদ্যাবধি কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি। অমরত্বের সুধা পান করার অভিলাষ অনেকেই দেখিয়েছে, কেউ সফল হয়নি। কাজেই মৃত্যু মানুষের অনিবার্য নিয়তি ও পরিণতি। মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুকে যুক্তি ও প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে গোটা বিশ্বের ব্যাপক মৃত্যু অর্থাৎ কিয়ামতকে প্রমাণ করা স্বাভাবিক বিষয়। মানুষ একসময় এ পৃথিবীতে ছিল না। পর্যায়ক্রমে বংশপরম্পরায় তারা এ দুনিয়ায় আসে। কালক্রমে তারা নশ্বর এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। এভাবে মৃত (রক্ত-মাটি) জীবিত হওয়া এবং জীবিত বস্তু মৃত হওয়ার বহু নজির মানুষের সামনে প্রতিনিয়তই হাজির হয়। বিশাল এ পৃথিবী পূর্বদৃষ্টান্ত ছাড়া শূন্য থেকে অস্তিত্বে আনা যে স্রষ্টার কাজ; ধ্বংস হয়ে যাওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া মৃত বস্তুকে পুনরায় জীবিত করা তার পক্ষে অসম্ভব নয়।

কিয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ বিষয়ে কোরআনের বক্তব্য হলো, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। কিন্তু কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় সম্পর্কে না জানার মানে এই নয় যে কিয়ামত বলে কিছু নেই। বিষয়টি মৃত্যুর মতো। মানুষ কি জানে সে কখন মারা যাবে? মৃত্যুর সময় জানা না থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে তো কারও কোনো সন্দেহ নেই যে একদিন সে মারা যাবেই! ঠিক তেমনি কিয়ামতের সময় সম্পর্কে মানুষ না জানলেও এটি নিশ্চিত যে একদিন অবশ্যই কিয়ামত হবে।

কারও মনে প্রশ্ন আসতে পারে, পৃথিবীতে এত এত প্রাণী আছে, সেগুলোর হাশর-নশর না হয়ে শুধু মানুষের হাশর-নশর কেন হবে? এ প্রশ্নের জবাব হলো, আসলে কিয়ামতের দিন মানুষসহ সব জীবজন্তু বিচারের মুখোমুখি হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন বন্য পশুদের একত্র করা হবে।’ (সুরা তাকভির, আয়াত : ৫)

অন্য প্রাণীর মতো চতুষ্পদ জন্তুরও হাশর হবে। এগুলোকেও কিয়ামতের দিন জীবিত করা হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল জীব এবং নিজ ডানায় উড়ন্ত পাখি তারা সবাই তোমাদের মতো একেকটি জাতি। কিতাবে (লাওহে মাহফুজ বা কোরআনে) কোনো কিছুই আমি বাদ দিইনি। অতঃপর তাদের রবের দিকে তাদের একত্র করা হবে।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তার (আল্লাহর) অন্যতম নিদর্শন আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এই দুইয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো। তিনি যখন ইচ্ছা তখনই এগুলোকে সমবেত করতে সক্ষম।’ (সুরা শুরা, আয়াত : ২৯)

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সবার হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করা হবে। এমনকি শিংবাহী ছাগল যদি শিংবিহীন ছাগলকে গুঁতা দিয়ে কষ্ট দিয়ে থাকে, কিয়ামতের দিন শিংবাহী থেকে কিসাস (মৃত্যুদ-) নেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৪৫)।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..