রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

চারঘাটে করোনা মহামারীর কারণে দুঃসমযয়ে বাঁশ শিল্প

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২০
  • ২৫১ বার পঠিত

মোঃ তারিক হোসেন,চারঘাট ( রাজশাহী ) প্রতিনিধি ; রাজশাহী চারঘাট উপজেলায় বাঁশের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারও শ্রমজীবী নারী ও পুরুষ। আজ রবিবার ৩০ আগস্ট) সকালের দিকে চারঘাট উপজেলার সদরে অবস্থিত পৌরসভা ৮ ও ৯ নং ওয়াডের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে তাদের কার্যক্রম দেখা যায়।

গ্রামগুলোতে যেতেই কানে ভেসে আসে ঠুকঠাক শব্দ। কেউ দা দিয়ে বাঁশ কাটছেন, আবার কেউ ‘বেতি’ প্রস্তুত করছেন রকমারি পণ্য তৈরির জন্য। নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে এ কাজ করেন।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের এ কর্মযজ্ঞ। এভাবে এক সময় দক্ষ হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় বাঁশ নিত্য ব্যবহার্য ও আকর্ষণীয় পণ্যে রূপ নেয়। উপজেলার ডালি পাড়া গ্রামের সান্দিরা ‘বাঁশ শিল্পখ্যাত গ্রাম’ হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত। এসব গ্রামের হাজারও নারী-পুরুষ বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার ডালিপাড়া এলাকার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বাঁশ শিল্পের সঙ্গে বংশ পরম্পরা ধরে জড়িত তারা ও তাদের সন্তানরা। চাটাই, ধারাই, ডালা, ঝুড়ি, কড়পা,ডালি টুকরী দারকিসহ বাঁশ দিয়ে মাছ ধরার বিভিন্ন সামগ্রী বানান তারা।

গ্রামবাসীরা জানান, এমনিতেই বাঁশশিল্প এখন ধ্বংসের পথে এর মধ্যে করোনা মহামারী কালে দুঃসময়ের মধ্যে বাস করছেন অনেকে এসব সামগ্রী বুনোনের সিংহভাগ কাজ নারীরা করেন। অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় ও প্রস্তুতির কাজে সাহায্য করেন বাড়ির পুরুষরা। কিশোর-কিশোরীরাও এসব কাজে তাদের সঙ্গে হাত মেলায়।আামাদের ছেলে-মেয়েরা অনেকেই স্কুলে লেখাপড়া করে। আবার স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেও অর্থাভাবে অনেকে যেতে পারে না।

অভাব-অনটনের কারণে ইচ্ছে থাকলেও অনেকের পরিবারের পক্ষে তাদের স্কুলে পড়ানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।
গ্রামের প্রায় শত শত পরিবার বাঁশের বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা অভাবে জীবন যাপন করছেন । তাদের জমিজমা নেই বললেই চলে। আছে মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁই এবং হাড়ভাঙা খাটুনির শরীর। ব্যাংকগুলো তাদের ঋণ দেয় না। সামান্য পুঁজি নিয়ে বাঁশ কিনতে হয় অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্তর মধ্যে পড়তে হয় তাদের।

গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নুর নবী হযরত জানান, বাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী আশপাশের জেলা শহরের ব্যাবসায়ীরা কিনে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করেন।

জেলায় বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা জানান, আমরা বিভিন্ন উপজেলায় থেকে বাঁশ শিল্পের সামগ্রী ক্রয় করে নিয়ে আসি সেগুলো স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করি বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় বাঁশের দামও বেড়েছে। প্রতি পিস বাঁশ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনতে হয় তাদের। কিন্তুু বাঁশের তৈরি পণ্য সামগ্রী গুলো ডালি, টাপা,ঝাকা ইত্যাদি ক্রয় করে সীমিত দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের কারণ পণ্য সামগ্রী জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য তেমন কোন কাস্টমার আসেন না।

গ্রাম বাসীর দাবি বাঁশ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তারা করোনা মহামারীর কারণে দুঃসময় পার করছেন অনেকেই। সংকটের এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চারঘাট উপজেলার যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তারা।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..