রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

নওগাঁর মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৮৩ বার পঠিত

কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, মহাদেবপুর (নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় সৃষ্টি হয়েছে নানা সমস্যার। তৎকালীন জমিদার পরিবারের সন্তান রামগোপাল রায় চৌধুরীর ছেলে শিক্ষানুরাগী ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরীর দান করা ৪৩ শতক জমিতে ১৯৪৭ সালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে।
ভালো ফলাফল ও পড়ালেখায় বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম রয়েছে। এক সময় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত থাকতো বিদ্যালয় অঙ্গন। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪শ ৯২ জন।
আজও সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। ১২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়ে থাকে।
২০১৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন ট্যালেন্টপূলে এবং ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে।
২০১৯ সালে ১৩ জন ট্যালেন্টপূলে বৃত্তি লাভ করে। ফলে অনেক সচেতন অভিভাবক তাদের সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে থাকেন। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতায় শিশু শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান করানো হয়ে থাকে।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানের পরও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে জরাজীর্ণ টিনশেডের ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত আধাপাকা ৬ টি রুমের মধ্যে ৩ টি ভেঙ্গে ইউআরসি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু অংশ ভেঙ্গে বাথরুম নির্মাণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ রুম অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যা যেকোনো সময় ভেঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের প্রাণহানিসহ বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর তুলনায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো কম হওয়ায় সুষ্ঠ পাঠদান ব্যহত হয়।

সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী এ বিদ্যালয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর জোর দাবী জানান।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান জানান, শ্রেণি কক্ষের স্বল্পতায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৈরি পরিবেশে বাধ্য হয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠাকালীন ভবনের রুমগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি সাধন হতে পারে। তাই ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা একান্ত জরুরী।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবক সঞ্জয় মুখার্জী জানান, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে ৩ রুম বিশিষ্ট টিনসেডের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সেটিও অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সেটির অপসারণ অথবা মেরামত করা জরুরী।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবিউল আলম জানান, বিদ্যালয়টি মহাদেবপুর উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এখানে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে নতুন ৪ তলা ভবন নির্মাণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাফিয়া আক্তার অপু বলেন, আমি সবেমাত্র এ উপজেলায় যোগদান করেছি। বিদ্যালয়টিতে আমার এখনও যাওয়া হয়নি, তবে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, নতুন ভবন নির্মাণসহ যেসব প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..