শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত দল মাঠে: মা ও দুই মেয়ের জামিন

আবদুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৮ বার পঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির অপবাদে কারান্তরীণ পাঁচজনের মধ্যে মা ও দুই মেয়েকে জামিন দিয়েছে আদালত। সোমবার (২৪ আগষ্ট) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজীব কুমার দেব তাদের জামিন মঞ্জুর করলে তারা আদালত থেকে ছাড়া পান। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-পটিয়ার শান্তিরহাট কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৫৫), তার দুই মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলী (২৫) ও রোজিনা আক্তার (২০)।
এদিকে মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় সোমবার ভোর রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হারবাং ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বৃন্দাবনখীল এলাকার বাসিন্দা গরু চুরি মামলার বাদী মাহমুদুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী একই এলাকার ইমরান হোসনের ছেলে জসিম মিয়া ও জিয়াউল হকের ছেলে নাসির উদ্দিন। তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, রোববার সন্ধ্যায় মা-মেয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুলেন ৮জন আইনজীবি।
এসময় বিচারক রাজিব কুমার দেব আসামিদের আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ সোমবার সকালে মা পারভীন আক্তার, মেয়ে সেলিনা আক্তার ও রোজিনা আক্তারকে আদালতে হাজির করেন। এসময় শুনানী শেষে আদালত মা-মেয়েসহ তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য দুই আসামির মধ্যে একজন পারভীন আক্তারের ছেলে আরমান এবং অপরজন সিএনজি চালক মোহাম্মদ ছুট্টুর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। পরে সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জামিনপ্রাপ্তদের কাছ থেকে ঘটনার জবানবন্দি নেন।
এনজিও সংস্থা কর্মনীড়ের নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী শাহানা আক্তার বলেন, আমরা মা-মেয়ের জামিনের ব্যাপারে আইনী সহায়তা দিয়ে আসছি। সোমবার সকালে ৮-৯জন সিনিয়র আইনজীবির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করে জামিন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে এ ঘটনায় প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত কমিটির মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শ্রাবন্তী রায় সহ তিনজন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে চকরিয়ার সার্কেল এএসপি মো: মতিউল ইসলামকে প্রধান করে অপর আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুটি তদন্ত কমিটি মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে ২৪ আগষ্ট সোমবার জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত দল হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ ও নির্যাতনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় হারবাং ইউপি’র বির্তকিত চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম, তিন নারী সদস্য ও ৯ পুরুষ সদস্যদেরকে দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত দল। এরপর ঘটনাস্থল হারবাং ২নং ওয়ার্ডের পহরচাঁদা এলাকা পরিদর্শন করেন তারা। পরে তদন্তদলের প্রধান উপস্থিত স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন।
এসময় শ্রাবন্তী রায় সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন পেশ করা হবে। কতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিদির্ষ্ট কোন তারিখ নেই। তবে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মাঠে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ যে, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় ‘গরু চুরির অপরাধে’ বয়স্ক মা ও দুই তরুণী মেয়েকে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। পরে কোমরে রশি বেঁধে মা ও দুই মেয়েকে প্রকাশ্যে প্রায় ৬কিলোমিটার সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যান নিজেও তাদের আবার মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চেয়ারম্যান পুলিশের হাতে মা, দুই মেয়ে ও ছেলেকে দেন। পুলিশ তাদের চকরিয়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। ওই দিন রাতেই হারবাং বৃন্দাবনখীল লালব্রিজ এলাকার কথিত মাহবুবুল হক বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় গরু চুরির মামলা করেন। ওই মামলায় শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে তাদের কারাগারে নেয়া হয়। পরে এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে সবখানে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..