বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

গতকাল ৬০ বছর পূর্ণ করলেন নন্দিত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২০
  • ৪১২ বার পঠিত

গতকাল ৬০ বছর পূর্ণ করলেন নন্দিত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। দিনটি কীভাবে কাটল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একেবারেই সাদামাটাভাবে ঘরেই জন্মদিনটি কেটেছে। আমি আসলে ধুমধাম করে জন্মদিন পালনের মানুষ নই। তবে সবাই এ দিনে শুভেচ্ছা জানায়, দোয়া করে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

জীবনের এতগুলো বসন্ত পার করে ফেলেছেন। অভিনয়ের ক্যারিয়ারও নেহায়েত ছোট নয়। জীবনের এই লগ্নে এসে অনুভূতি কেমন? জানতে চাইলে বাবু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বলেন, ‘আমি ইদানিং পেছনে ফিরে যাই। ভাবি, জীবনের এতগুলো বছর পার করলাম, কিন্তু কী করলাম? শিল্পী হিসেবে, মানুষ হিসেবে কতটুকু করতে পারলাম? এই হিসাব হয়তো আরও পরে মিলবে। কিন্তু এখন এটুকু মনে হয় যে, আমি চেষ্টা করেছি জীবনে সার্থক করতে। এমন কিছু কাজ করতে যা নতুন প্রজন্মের কাছে আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।’

একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের অবতারণা করলেন বাবু, ‘আমাদের দেশের অনেক নামকরা অভিনেতা এখন আমাদের মাঝে নেই। আমরা বলি, তারা অনেক বড় অভিনেতা ছিলেন। কিন্তু তাদের কাজ দেখলে তা বোঝা মুশকিল। নতুন প্রজন্মের কাছে হয়তো বিশ্বাসযোগ্যই করা যাবে না যে তিনি বড় মাপের অভিনেতা ছিলেন। আমি বা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতারা যেন মৃত্যুর পর নতুন প্রজন্মের কাছে ভালো অভিনেতা হিসেবে বেঁচে থাকতে পারেন, সেই চেষ্টাই করা উচিত। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

বৈশাখী থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু বাবুর। এরপর আরণ্যকে, মোট ৩৭ বছর ধরে অভিনয় করছেন তিনি। থিয়েটার, নাটক, সিনেমা যেখানেই কাজ করেছেন তাতে জীবনঘনিষ্ট চরিত্রেই দেখা গেছে তাকে। বাবুর ভাষায়, ‘শুধু বিনোদন দেওয়ার জন্য কাজ করতে চাইনি। তাই জীবনবিবর্জিত কাজ আমি খুব একটা করিনি। আমার করা চরিত্রগুলো মানুষের কথা বলে, জীবনের কথা বলে। এ জন্যই হয়তো দর্শক আমাকে এত ভালোবাসে। তবে অভিনয়কে শুধু শিক্ষণীয় বিষয় বললেও ভুল হবে। এটি প্রধানত বিনোদন মাধ্যম। তাই দর্শককে নির্মল বিনোদন দিতে নিত্যদিন চেষ্টা করি অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ বা জনপ্রিয়তার জন্য কখনো কাজ করিনি, যা পেয়েছি সবই বাড়তি প্রাপ্তি। অভিনয় করতে এসেছি ভালোবাসা থেকে। শিল্পীর দায়িত্ববোধ নষ্ট হয় এমন কাজ কখনো করতে চাইনি।’

নানা ধরনের চরিত্রে সাবলীল ফজলুর রহমান বাবু। একটি চরিত্র পেলে কীভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে থিয়েটারের অভিনেতা হিসেবে একটি চরিত্র কীভাবে নির্মাণ করতে হয় সেটা তো জানিই। তাছাড়া যে চরিত্রগুলো আমি করি তা তো আশপাশের মানুষেরই চরিত্র। তাই গল্পটি পড়ে চরিত্রটির ভিতর ও বাহির থেকে দেখার চেষ্টা করি। গল্পে চরিত্রটির কী রোল প্লে করছি সেটা বুঝে চরিত্রটি নির্মাণ করি।’

করোনাকালে কোনো কাজই করেননি এই অভিনেতা। তাই দুই ঈদের নতুন কোনো নাটকে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই এখন টেলিভিশন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছি। বৈচিত্র্যময় গল্প হলে অল্প কিছু কাজ করি। সিনেমা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। করোনার উপদ্রব শুরু হলে পরিবার থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরিবেশ স্বাভাবিক না হলে যেন কাজে না ফিরি। দীর্ঘ পাঁচ মাস পর গত ১৩ আগস্ট বাংলাভিশনে প্রচার-চলতি ধারাবাহিক নাটক ভদ্রপাড়ার শ্যুটিং করেছি। বৃন্দাবন দাসের রচনা ও সাগর জাহানের পরিচালনায় এ ধারাবাহিকে আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী, শাহনাজ খুশি, আরফান আহমেদসহ অনেকে। এই একটি মাত্র ধারাবাহিকই এখন করছি। আগামী ২৮ আগস্ট একটি শর্টফিল্মের কাজ করব। তবে ২৬ তারিখে করব আবু শাহেদ ইমনের একটি দারুণ প্রজেক্ট। এর নাম ‘আড়াই মন স্বপ্ন’। এতে তার সহশিল্পী মেধাবী অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। একেবারেই এ সময়ের গল্প। করোনায় একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের স্ট্রাগল দেখানো হবে এতে। আশা করছি এই কাজটি খুব ভালো হবে।’ ফজলুর রহমান বাবু অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে মুক্তির অপেক্ষায় আছে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পাপ-পুণ্য, চয়নিকা চৌধুরীর বিশ্বসুন্দরী, নোনা জলের কাব্য, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, পায়রার চিঠি সিনেমাগুলো। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ হওয়া ছবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শ্যাম বেনেগালের ছবি, জয়া আহসানের ‘ফুড়ুৎ’, শিশু একাডেমির ছবি ‘উড়াল’, মীর সাব্বিরের পরিচালনায় সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ছবি ‘রাত জাগা ফুল’সহ কলকাতার আরও দুটি ছবি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..