সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালিত তাড়াশে ছাত্রলীগ নেতা ছোটনের ধুমধামে জন্মদিন পালিত তাড়াশে এমপি আজিজের পূজা মন্ডপ পরিদর্শন তাড়াশে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন আওয়ামীলীগ নেতা শামীম সরকার তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বাকীর পূজা মন্ডপ পরিদর্শন। তাড়াশে শারদীয় দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হান্নান তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর উঠান বৈঠক যেন জনসভায় পরিণত তাড়াশে চেয়ারম্যান প্রার্থীর উঠান বৈঠক যেন জনসভায় পরিণত তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ তাড়াশে নওগাঁ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল।

মিলের ৬শ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে জেলা প্রশাসকের সকল সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত

খুলনা ব্যুরো প্রধান জিয়াউল ইসলাম :
  • Update Time : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ১৪৮ বার পঠিত

নগরীর মীরেরডাঙ্গা শিল্পাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানা বন্ধকৃত এ্যাযাক্রা জুট মিল মালিকানা পরিবর্তন করে ট্রেক্রাটাইল পল্লীর মহা পরিকল্পনা দীর্ঘ ছয় বছরেরও বাস্তবায়ন হয়নি। মূল মালিক মো. কাওছার জামান বাবলা মিলটি বায়নাচুক্তি করে পকেটে নিয়েছে প্রায় বিশ কোটি টাকা। শ্রমিকদের চুড়ান্ত বিল পরিশোধে কমিশন লুটেছে কতিপয় শ্রমিক নেতা। ন্যাায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে মিলের শ্রমিক কর্মচারী। বর্তমানের মিলের ছয়শত শ্রমিকের চুড়ান্ত বিলের পাওনা টাকা পরিশোধে জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত, চলছে নানা ষড়যন্ত্র। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রি-পক্ষিয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় গতকাল শনিবার সরেজমিন পরিদর্শন করেন গঠিত কমিটির সদস্যগণ।
মীরেরডাঙ্গা শিল্পাঞ্চালের ব্যক্তিমালিকানা এ্যাযাক্রা জুট মিল ১৯৭২ সালে প্রথম সরকারি ভাবে চালু করা হয়। পরে মিলটি ব্যাক্তিমালিকানা ছেড়ে দেওয়া হয় সর্বশেষ ২০১৩ সালে মিলের মালিক শ্রম আইন লঙ্গন করে মিলটি বন্ধ করে দেয়। বন্ধকৃত এই মিলের ২ হাজার ৬০জন শ্রমিক-কর্মচারী তাদের পাওনা চুড়ান্ত বিলের টাকার জন্য শুরু করে আন্দোলন সংগ্রাম। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা বাবদ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা এবং মিলটি সোনালী ব্যাংকের কাছে ৮৫ কোটি ঋণের বোঝা নিয়ে মালিক মিলটি বিক্রির পরিকল্পনা করে। ২০১৪ সালে মিলের মূল মালিক মো. কাওছার জামান বাবলা নিউ বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আ. মান্নান তালুকদারের সাথে প্রায় বিশ কোটি টাকায় বায়না চুক্তি করে। বায়নাসুত্রে মিলটি গ্রহনের পর মান্নান তালুকদার মিল অভ্যন্তরে ব্যাপক শো ডাউনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা দেন শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করে মিলটিকে ট্রেক্রাটাইল পল্লী করা হবে।
ঘোষনা অনুযায়ী মিলের ২ হাজার ৬০জন শ্রমিকের মধ্যে গত বছরের ১৯ মে’র মধ্যে প্রায় ১৫শ শ্রমিক-কর্মচারীর চুড়ান্ত বিলের এককালিন নগদ টাকা পরিশোধ করা হয় তবে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পায়নি বলে একাধিক শ্রমিকের অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের চুড়ান্ত বিলের টাকা কম দিয়ে নিজে মোটা অংকের টাকা কমিশন নিয়েছে বলে মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা অভিযোগ করেছে। মিলের শ্রমিক আব্দুর রহমান, চুন্নু মিয়া বলেন, যারা চুড়ান্ত বিলের টাকা পেয়েছে কেহ তাদের প্রাপ্য টাকা পায়নি। প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা সিবিএ নেতা এবং ফেডারেশনের এক নেতা হাতিয়ে নিয়েছে । এছাড়া ২শ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে চেক প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিষদের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এবং ব্যাংক একাউন্টে যথেষ্ট পরিমান টাকা না থাকায় চেকগুলো ডিজঅনার হয়েছে। সম্প্রতি কাওছার জামান বাবলা একটি মহলকে হাত করে মিলের প্রধান ফটকসহ ১৩টি গেটে তালা লাগাতে গিয়ে শ্রমিকদের তোপের মুখে ফিরে যায়। বিষয়টি নিয়ে মিল এলাকায় শ্রমিকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে মহসেন ও এ্যাযাক্রা জুট মিলের শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধ এবং বর্তমান সার্বিক অবস্থান সংক্রান্ত ত্রি-পক্ষিয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এ্যাযাক্রা জুট মিলেটির সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, শ্রমিক প্রতিনিধি মো. আজাহার উদ্দিন. শেখ ইমরানসহ উপস্থিত শ্রমিক বলেন, নতুন মালিক আব্দুল মান্নান তালুকদার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের চুড়ান্ত বিল পরিশোধে একটি কমিটি গঠন করে দেন যার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন বেসরকারি পাটকল ফেডারেশনের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক ও দৌলতপুর দিবা নৈশ কলেজের শিক্ষক জাহাঙ্গীন আলম সবুজ। তার তৎপরতায় শ্রমিকরা তাদের চুড়ান্ত বিলের প্রাপ্ত টাকার থেকে কম পেয়েছে। এছাড়া তার কারণে এ্যাযাক্রা জুট মিলের সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। সভায় আরো বলা হয় জাহাঙ্গীর আলম সবুজ শ্রমিক প্রতিনিধি হয়েও মালিকের অনুকুলে কাজ করে চলেছে। কাওছার জামাান বাবলা এবং মো. আব্দুল মান্নান তালুকদারের সাথে দ্বন্দের পিছনে তার ইন্ধন রয়েছে। তার হাত থেকে শিল্প রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ্যাযাক্রা জুট মিলের সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বৈঠকে ৩০ জুলাই এর মধ্যে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধ, শ্রমিক-কর্মচারীদের ঈদ উৎসবের জন্য ৬হাজার টাকা করে প্রদানসহ কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। গ্রহন করা হয়নি চুড়ান্ত বিল পরিশোধে ব্যার্থ হলে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহনের। বন্ধ হয়নি অভিযুক্ত শ্রমিক নেতার ষড়যন্ত্রের তৎপরতা।এই অবস্থায় মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের চুড়ান্ত বিলের পাওনা পরিশোধ, শ্রমিকদের শেষ সম্বল কষ্টের টাকা যারা লুটে নিয়েছে এবং যারা মিলটিকে ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুক ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে জেলা প্রশাসকের সিন্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়ন এবং শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আনতে টেক্রাটাইল পল্লীর যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী।
এদিকে এ্যাযাক্রা জুট মিলের সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রি-পক্ষিয় বৈঠকের সিন্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং অরক্ষিত মিলের বর্তমান সার্বিক অবস্থা শনিবার বিকালে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে আসেন জেলা প্রশাসকের গঠিত কমিটির সদস্যগণ। এ সময় তারা মিলের মূলমালিক কাওছার জামান বাবলা গোপনে যাদের কাছে মিলের বিভিন্ন সম্পদ লিজ দিয়েছে তাদের সাথে কথা বলেন।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..