রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

চরফ‍্যাশনে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন

মোঃ আবুল কাশেম:
  • Update Time : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২০
  • ২২০ বার পঠিত

রাজনীতির সিংহাসন অপব‍্যবহারের জন‍্য সন্ত্রাসবাদী চরফ‍্যাশনে নয়া ফর্মূলা শুরু করেছে সন্ত্রাসবাদী মহাজন বাহিনী। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টি বোর্ডের বিনা অনুমতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যামিক বিদ্যালয় নাম রেখে সন্ত্রাসবাদী ভোলা জেলার সন্ত্রাসবাদী চরফ‍্যাশন উপজেলার সন্ত্রাসবাদী কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের সন্ত্রাসবাদী সাত ও আট নং ওয়ার্ডের সন্ত্রাসবাদী চরপাতিলায় রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক প্রতারনার উদ্দেশ্যে চালু হচ্ছে চরপাতিলা শিক্ষার্থীদের এক মাত্র অপভরসা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চরে উঠানো হচ্ছে। ভোলা জেলার সন্ত্রাসবাদী চরফ‍্যাশন উপজেলায় প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র পদ্ধতি গত ব‍্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে সরকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র (ছবি), চরফ‍্যাশনের বাসিন্দা হয়ে বাংলাদেশে একজন এমবিবিএস ডাক্তার হতে পারি নাই। সেই চরফ‍্যাশনে কিভাবে মায়ের কোলে থাকা ও পিতার হোটেলে খাওয়া অবুঝ নাবালক সন্তানেরা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যামিক বিদ্যালয়” নামক প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী হয়ে প্রথম শ্রেণী, দ্বিতীয় শ্রেণী, তৃতীয় শ্রেণী, চতূর্থ শ্রেনী ও পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ন হবে? এছাড়াও ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, চরফ‍্যাশন উপজেলা ও মনপুরা উপজেলার মুজিবাদী জনগোষ্ঠির অতিষ্ঠতা, এদেশের রাজাকার, পাক-দালাল ও যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয়। যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বেয়াই কামাল উদ্দিন জাফরীর আত্মীয় চরফ‍্যাশন উপজেলার মহাজন বংশীয় পরিবারের লোক হাসেম মহাজন। অন‍্যান‍্যরাও অনুরূপ। তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম করনে মোটেও বঙ্গবন্ধুর জন‍্য সন্মান জনক নয় বরং বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন ফায়দা লোপাটের জন‍্য তেঁতুলিয়া নদীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর নামে বঙ্গবন্ধুর নাম জুড়ে বসেছে। বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠান করতে হলে চরফ‍্যাশন সদরের সরকারি কলেজটি ঐ নামে হতে পারত, আরো একাধিক মহাবিদ‍্যালয়ের নাম ঐ রকম হতে পারত। যা হয়নি তা হবার ও নয় বলে চরফ‍্যাশন উপজেলার সন্ত্রাসবাদী বাসিন্দারা মনে করে। এছাড়াও চরফ‍্যাশন উপজেলার বহু জমিজমা স্বনামে-বেনামে বন্দোবস্ত করে ঐ মহাজন পরিবারের লোকেরা ল‍্যান্ড লর্ড হয়েছে। তাদের চরফ‍্যাশনের পৌরসভায়-ই তারা দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের নামে আমাকে বিশ্বাস একর জমি দিতে পারে। সেই সব হয় নাই। তাই পরিষ্কার যে, চরপাতিলায় বঙ্গবন্ধুর জন‍্য এমন কোন প্রেম নাই যে, যার দ্বারা চরফ‍্যাশনের চরপাতিলায় আ‍্যামেরিকার ক‍্যালিফোর্নিয়া বা ইতালির রোম জেগে উঠবে। তবে চরপাতিলায় কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন থাকলে উহা যথাযথ ব‍্যবস্থার মাধ‍্যমে হাসেম মহাজন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হউক। বাংলাদেশের কোন আপত্তি নাই। চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ চর পাতিলা৷ বঙ্গোপসাগরের উপ-কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী বেষ্টিত এ চরে নেই কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়৷ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকে অপ্রতুল৷ স্থানীয়ভাবে কয়েকজন শিক্ষিত যুবক সে চরে চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়৷ সরেজমিনে দেখা যায় যে, কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড মিলিয়ে চর পাতিলা৷ শরিফ পাড়া, পূর্ব বাজার, পশ্চিম বাজার, পাতিলা, উত্তর কান্দি নামে পাঁচটি গ্রামের মধ্যে প্রায় এক হাজার পরিবারে, শিক্ষা স্বাস্থ্য বঞ্চিত পাঁচ হাজার দরিদ্র, হতদরিদ্র, ভাগ‍্যাহত ও নিন্মবিত্তমানুষের বসবাস৷ তার মধ্যে স্কুলগামী শিশুর সংখ্যা দুই হাজারের উপরে। এরমধ্যে কিছু সংখ্যক শিশু প্রাইমারী গন্ডি পার হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা গরুছাগল প্রকৃতির লোক হয়ে আছে। কোন মা-বাবা তার সন্তানকে মাধ্যমিক পর্যায়ে লেখাপড়ার স্বপ্ন দেখলে তেতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে জল-স্থল মিলিয়ে ২ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করে ৮ কিঃমিঃ দুরে দক্ষিণ আইচা থানায় আসতে হবে৷ স্থানীয় প্রভাবশালীদের অত‍্যাচারে ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনে পড়ে কোন মা-বাবা ছেলে-সন্তানদেরকে নিয়ে দক্ষিণ আইচা, শশীভূষন, কিংবা চরফ‍্যাশন এলাকায় এসে বসবাস করতে পারে না। কুকরী-মুকরী যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সমগ্র চরফ‍্যাশন উপজেলার যাতায়াত ব‍্যবস্থা খুবই খারাপ। ইতিপূর্বে উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা চরফ‍্যাশন-এ আসলেও একটি টাকাও উন্নয়নে ব‍্যায় হয় নাই। দক্ষিণ আইচা থানায় রেখে সন্তানকে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা করানোর ইচ্ছা থাকলেও প্রতি মাসে গুনতে হবে হাজার হাজার টাকা যা চরফ‍্যাশন উপজেলার কেউই ব‍্যায় করার পক্ষে নয়। বিএনপি ও জামায়াতের দ্বারা মানব সৃষ্ট আর্থিক জিম্মি দশা প্রয়োগের কারনে ও অনটন প্রয়োগের কারনে তা আর সম্ভব হতে দেয়া হয় না৷ তাদের স্বপ্নকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের নেশাধারীরা স্বপ্নই রেখে দেয়৷ নতুন প্রতিষ্ঠিত চর পাতিলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নামে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিই তাদের শেষ ভরসা৷ চর পাতিলা গ্রামবাসীদের নামে চরফ‍্যাশনের রাজনীতি ব‍্যবসায়ীরা এ প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাজনীতির নয়া যোগ বিয়োগ অংকের নয়া ফর্মুলার ধারক ও বাহক চর পাতিলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম ইউসুফ তার চামচামি বক্তব্যে বলেন, এ চরে কোমলমতি শিশুদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্য কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় আজ আমরা এই পর্যন্ত এসেছি৷ এখন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৮০ জন৷ করোনা ট্রাজেডি থেকে মুক্তি পেলে ছাত্র-ছাত্রী বসানোর জায়গা দিতে পারব না৷ আমাদের বিদ্যালয়ের ঘর নেই, জরাজীর্ণ একটি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠদান চালাচ্ছি৷ সমাজের বিত্তবান, কোন প্রতিষ্ঠান বা সরকারি বেসরকারি অনুদান অথবা সাহায্য পেলে বিদ্যালয়ের ঘর, আসবাবপত্রসহ মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবো৷ চর পাতিলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আবিষ্কারক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কুকরী-মুকরী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, চর পাতিলা শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা খুবই নাজুক৷ একটিমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে নিরক্ষরতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন কৌশল খাটিয়ে বাল্য বিয়ে, এমনকি অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা ও এলাকার মানুষ ৷ এলাকার নারী ও যুবতি পাচারের ব‍্যবসায়ীরা এ চরে ১৩/১৪ বছরের একজন মেয়েকে তার বাবার পরিবারের অভিশাপ বলে বর্ননা করতে চাচ্ছে৷ যা পড়া লেখার মধ্যে নিমজ্জিত থাকলে হয়তোবা হতো না৷ আমি কর্তৃপক্ষের নিকট চরাঞ্চল ক্যাটাগরিতে, চর পাতিলায় আরো একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন, শতভাগ নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জোর দাবি জানাচ্ছি৷ চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে৷ চর পাতিলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির যেকোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে আমি বদ্ধপরিকর৷ উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামের ছাড়পত্রও নেই। কিভাবে চরফ‍্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহায়তা করবেন তার কোন হদিস নেই। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের পরিচালক মনির আহমেদ শুভ্র গত ১৯ মে ২০২০ ইং তারিখে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায়, করোনা সিচুয়েশনে ক্ষতিগ্রস্ত চর পাতিলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রতিজনকে দুই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার নামে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে৷ পরে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে ছিনতাইকারীদের মত চরে আটকা পরে স্থানীয় খুনীদের হামলায় ও আক্রমনে মৃত‍্যুর ভয়ে ও প্রানে বাঁচার আকুল ইচ্ছায় সার্বিক সহযোগিতার অন‍্যায়, প্রচারনামূলক ও অনৈতিক আশ্বাস দেন তারা৷ ছবিতে সন্ত্রাসবাদী চরফ‍্যাশন উপজেলার এমবিবিএস ডাক্তারী কোর্সের ছাত্র মোঃ আবুল কাশেম।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..