বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

পানির জন্য হাহাকার সৌদিআরবে

শাকিল আহমেদ রাজীব, বিশেষ প্রতিনিধি সৌদিআরবঃ
  • Update Time : শুক্রবার ৭ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৪১ বার পঠিত

হজ্ব, খনি, যুবরাজ, মরুভূমি এই শব্দগুলো শুনলেই আমরা ধারণা করতে পারি যে সৌদি আরবের কথা বলা হচ্ছে। প্রচলিত আছে সৌদিতে ধুলোয় সোনা আর বাতাসে খনিজ তেলের গন্ধ ছড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের এই ধনী দেশটি জল ছাড়া কমবেশি সকল প্রাচুর্যে ভরপুর। বাংলাদেশে যেমন মাটি খুঁড়লেই জল বের হয় তেমনি সৌদি আরবে মাটি খুঁড়লে বের হয় তেল, গ্যাস, সোনা। আমাদের দেশে সোনার মূল্য যেমন অত্যধিক তেমনি সৌদিতে পানির মূল্য অসম্ভব রকমের বেশি। ভারতের প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটির জনবহুল শহর দিল্লিতে একদিন পানি না থাকলে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে আসে। সেখানে ৩০ কোটি মানুষের দেশ সৌদি আরবকে প্রতিটি দিন পোহাতে হয় পানিকেন্দ্রিক ভোগান্তিতে।

পানি এ দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়ে। তাইতো ২০১১ সালে তৎকালীন সৌদি শাসক মোহাম্মদ ঘানী স্বীকার করেছিলেন যে সৌদি আরবে সোনার চেয়েও পানি যোগান অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। সৌদিতে মাটির নিচে পানি নেই, বছরে একদিন থেকে দু’দিন বৃষ্টিপাত হয় আবার যে বৃষ্টি হয় তা ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রবল ঝড়ের বাতাসে মিলিয়ে যায়,
তাই পানি নিয়ে ভোগান্তি এই দেশে সব চেয়ে বেশি।

সৌদিআরবের রিয়াদ শহরের হারা এলাকায় প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ পানির অভাবে হাহাকার করে,সপ্তাহে একদিন পানি আসলে বাকি ৬ দিন আসে না কখনো কখনো ১৫ দিনেও একবার আসে না, তাই এই ব্যবহারের একটাই মাধ্যম তা হলো ড্রামে এবং বালতীতে সংরক্ষন করে রাখা, আর তাতেই বেধেছে সমস্যা এভাবে অস্বাস্থ্যকর ভাবে পানি সংরক্ষণ করাতে তা থেকে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ তাতে আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, সাথে সমস্যা দেখা দিয়েছে চুল পড়া, যার প্রভাব পরেছে অল্প বয়স্ক থেকে বৃদ্ধ মানুষ পর্যন্ত।

এখানকার বসবাসরত মোঃ সেলিম মিয়া জানান, আমরা ভোর ৫ টায় কাজে চলে যাই আর ফিরি বিকাল ৫টায় কখন পানি আসে আমরা জানতেও পারি না তাই আমাদের বাইরে থেকে বেশি টাকায় (এক লিটার পানি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০ টাকা) পানি কিনে ব্যবহার করতে হয়, গোসলের জন্য ও কিনা পানি ব্যবহার করতে হয়।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..