শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

চলছে নিষেধাজ্ঞা: তবুও পর্যটকমুখর জাফলং-বিছনাকান্দি

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার ৩ আগস্ট, ২০২০
  • ১৮৫ বার পঠিত

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে ভিড় করছেন পর্যটকরা। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে জড়ো হন প্রকৃতি কন্যায়। এর আগে ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন রোববারও মানুষের ভিড় ছিলো। করোনা ভীতি আর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই মায়াবি ঝর্না আর স্বচ্ছ জলের কাছে ছুটছেন মানুষ।
গেলো বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো পৃথিবী। কোথাও থেমে নেই করোনার তাণ্ডব। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর দিনযথ যাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে।
এমন অবস্থায় সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ‘সাধারণ সরকারি’ ছুটি ঘোষণা করে। এতে সবাইকে ঘরে থাকতে নির্দেশনা দেয়। সেই নির্দেশনা মোতাবেক মানুষ ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন ঘরবন্দি ছিলো। এরপর ছুটি না থাকলেও চলাচল সীমিত আছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিষেধাজ্ঞা আছে পর্যন্টকেন্দ্রগুলোতেও।
গত ১৮ মার্চ থেকে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ রয়েছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছুটছেন মানুষ।
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে প্রকৃতি কন্যা জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও সাদাপাথরসহ সিলেটের বিভিন্ন পর্যন্টকেন্দ্রগুলোতে ছুটছেন মানুষ। অদৃশ্য করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠা মানুষজন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতেই ছুটছেন এসব পর্যটন কেন্দ্রে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সিলেটের জাফলং পর্যটনস্পটেও ছিলো মানুষদের ভিড়। দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে মায়াবি ঝর্ণায়। তীব্র তাপদাহ আর ভ্রমণ ক্লান্তি ভুলতে মানুষ মায়াবি ঝর্নার স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন। দিচ্ছেন ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে। পাথর আর স্বচ্ছ জলের জাফলংয়ের প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে ভুলে যাচ্ছেন করোনা ভয়াবহতা। খুঁজে নিচ্ছেন স্বস্তি। কাটিয়ে উঠছেন ঘরবন্দি জীবনের দুঃসময়।
ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি আর নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হয়েছে। সেজন্য একটু প্রশান্তির খুঁজে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরছেন।
বন্ধুদের সাথে জাফলংয়ে ঘুরতে এসেছেন মামুন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে স্কুল বন্ধ রয়েছে। তবে স্কুল বন্ধ থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে কোথাও বের হতে পারছি না। সেজন্য এবার ঘুরতে বের হলাম।
একই কথা বলছেন বেসরকারি চাকরিজীবী বাবুল আহমদও। তিনি বলেন, অদৃশ্য করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ দীর্ঘদিন থেকেই নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে। দেশের প্রতিটি মানুষ নিজেকে বিচ্ছিন্ন কওে রাখার ফলে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছে। সেজন্য এখন মানুষ সীমিত পরিসরে ঘুরতে বের হচ্ছে। আমরাও পরিবারের কয়েকজন এখানে এসেছি। দীর্ঘদিন পর বের হতে পেতে ভালো লাগছে।
তবে করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে আরেকটু সচেতন হওয়ার আহবানও জানান এ চাকরিজীবী।
তবে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমার জানা নেই। কারণ সবশেষ সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে পর্যটন বন্ধ বা খোলার বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই। সেজন্য আমরা কাউকে আসতেও বলছি না আবার নিষেধও করছি না। তবে যারাই আসছেন তারা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সেজন্য বলা হয়েছে। একই সাথে নৌকার মাঝিদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম বলছেন, পর্যটন কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা এখনো তুলে নেওয়া হয়নি। জেলা কোভিড-১৯ বিষয়ক কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবত আছে। তাই করোনা মহামারির কথা বিবেচনায় পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের না যাওয়ার জন্যও বলেন তিনি।
আর সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ পিসিএম বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ একটু স্বস্তির নিশ্বাসে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছুটছেন। তবে আমরা জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের আসতে নিরুৎসাহিত করছি। একই সাথে যারা আসছেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করছি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..