সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করার অভিযোগ শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশে সুফলভোগীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ বিতরণ  তাড়াশে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাড়াশে মাধাইনগর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৩টি ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ হলেন তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ

দশ হাজার টাকায় লেবু চাষ – এখন দশ লাখ টাকার মালিক রংপুরের ওয়ালিদ

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ২৮ জুন, ২০২০
  • ৫৯৮ বার পঠিত

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, রংপুর বিভাগীয় প্রধান:-রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের খলেয়া ইউনিয়নে লেবু চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন মুহম্মদ ওয়ালিদ প্রামাণিক ।খুবই অল্প সময়ের মধ্যে হতাশার আঁধার কাটিয়ে আলোর সন্ধান যেন পেয়েছেন ওয়ালিদ।

ওয়ালিদ প্রামাণিক জানান, ২০১২-১৪ সালে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে নিচের ম্যাচ খরচসহ কলেজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন এবং টিউশনির বাকী টাকা জমিয়ে রাখতেন।এভাবে হাটিহাটি পাপা করে তার জমানো দশ হাজার টাকা হয়। তারপর ২০১৫ সালে পড়াশোনার ফাকে পরিবারের অার্থিক সংকটের দিকে তাকিয়ে সংসারের হাল ধরার জন্য বাড়িতে আসেন।এমতাবস্থায় সংসারের জন্য কিছু করার দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয় তার।সেই জমানো টাকা দিয়ে ২০১৫ সালে ১০০ লেবু চারা কিনে ১০ শতাংশ জমিতে একটি ছোট্ট লেবু বাগান তৈরি করেন এবং তার মা এবং ছোট বোন বাগানের পরিচর্যা করতো। অপরদিকে নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যান ওয়ালিদ৷২০১৭ সালে
স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন৷ওয়ালিদ পড়াশুনার ফাঁকে তার বাগানে তেমন সময় দিতে পারতেন না বলে হতাশা কাটছিল না।তারপর নিজেই পুরোপুরি দায়িত্ব নেন তার বাগানের৷

এরই মধ্য ২০১৭ সালে রংপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তার স্বপ্নের বাগানকে আকড়ে ধরে আবারো নতুনরূপে লেবু চাষে যাত্রা শুরু করেন৷তার ১০০ টি লেবুর গাছ থেকে কাটিং কলম করে ২০১৯ সালে তার দুই বিঘা জমিতে লেবু গাছের সংখ্যা দারায় প্রায় সাত শতাধিক।বর্তমানে তার বাগানে তিন ধরনের লেবুর জাত আছে৷এরপর থেকে আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি, সফলতার যাত্রা শুরু সেখান থেকেই। এখন ৭০০ টি লেবু গাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় দশ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি করেন। ২০২০ সালে শুরুর দিকে লেবু গাছে আবারো কলম কাটা শুরু করেন। এ বছর প্রায় বারো হাজার কলম কাটেন। ইতোমধ্যে ৯০০০ টি কলম বিক্রি করেছেন ১১০ টাকা দরে।

লেবু চাষ এবং কলম কেটে বিক্রি করে এখন স্বাবলম্বী ওয়ালিদ। তার সংসারে আর কোনো অভাব অনটন নেই। বর্তমানে তার নিজস্ব একটি মানবিক ফাউন্ডেশন রয়েছে। এবং ৩ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। এখন তার লেবু বাগানে দৈনিক ৫/৭ জন শ্রমিক কাজ করেন।

ওয়ালিদের জীবনের হতাশা দূর হয়েছে। তার উদ্যোগ দেখে এলাকার জুয়েল মাহমুদ, সাজ্জাদ হোসেন,মমিনুল হক বাবু, মুশফিক ইয়াছিন মিশন, বাবুসহ অন্যান্য এলাকার ৫০/৬০ জন লেবু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

এদিকে লেবু চাষের পাশাপাশি ওয়ালিদ নিরাপ সবজি বাগান করবেন বলে ভাবছেন৷ তার নিরাপদ সবজি যাবে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ওয়ালিদ তার নিজ এলাকার গরিব দুস্থ মানুষের কাছে এখন মানবতার ফেরিওয়ালা নামেই বেশি পরিচিত।ত্রাণ বিতরণ থেকে শুরু করে তার পুরো এলাকাকে স্যানিটেশনের আওতাভুক্ত করেছেন ওয়ালিদ৷

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মাশরেফুল আলম জানান,লেবু চাষে স্বাবলম্বী ওয়ালিদ। তার চাষ দেখে এলাকার অনেকে আগ্রহী হয়েছে। তারাও লেবু চাষ শুরু করেছে।

রংপুর সদর কৃষি অফিসার এএইচ এম মনিরুজ্জামান রব্বানী বলেন,ওয়ালিদ খুব ভালো একজন উদ্যমী চাষী, তার পরিশ্রম তাকে সফলতা এনে দিয়েছে।উপজেলা কৃষি বিভাগ তার পাশে আছে।তিনি আরো বলেন আমি শুনেছি
ওয়ালিদ প্রামাণিক নিরাপদ সবজি চাষ খুব শীঘ্রই শুরু করবেন।আমাদের সকল দপ্তর থেকে ওয়ালিদকে পরামর্শ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..