রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২২ অপরাহ্ন

News Headline :
মহান বিজয় দিবস উদযাপন বাস্তবায়ন লক্ষ্যে তাড়াশে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন কৃষক মতিন তাড়াশে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করার অভিযোগ শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশে সুফলভোগীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ বিতরণ  তাড়াশে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাড়াশে মাধাইনগর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৩টি ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আমি কালো বলেই আমার সেক্স অ্যাপিল রয়েছে- বিস্ফোরক বিপাশা বসু

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২০
  • ৩৩৫ বার পঠিত

সময়ের সংবাদ ডেস্ক:-‘ফেয়ার’ মানেই সে ‘লাভলি’ আর ‘লাভলি’ মানেই সে ‘ফেয়ার’… এই ধারনার ইতি ঘটতে চলেছে এ বার। ভারতের ইউনিলিভার কোম্পানির ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি’ ক্রিম থেকে চিরতরে বাদ যেতে চলেছে ‘ফেয়ার’ কথাটি।

তৃতীয় বিশ্বের দেশে ফর্সা হওয়ার অমোঘ আকর্ষণ আজন্মলালিত। কালো মেয়ের নাকি এ দেশে বিয়ে হয় না, এমনকি সে নাকি ভাল জায়গায় চাকরিও পায়না, তা সে যতই শিক্ষিত হোক না কেন। এই ধারণাকেই এত দিন সযত্নে লালন করেছি আমি, আপনি, আমাদের চারপাশের মানুষজন। আর তারই মুনাফা লুটেছে এ সব ‘স্কিন লাইটেনিং’ ক্রিমগুলো। সে আপনি আম আদমি হন অথবা সেলেব, চোখে আঙুল দিয়ে যোগ্যতার বিচার করা হয়েছে গায়ের রঙে। ঠিক যেমন বেশ কয়েক বছর আগে ঘটেছিল বিপাশা বসুর সঙ্গে।

‘কালো’ মেয়ে বিপাশা আজ আবেগঘন। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁরই সহকর্মী এক ফর্সা ত্বকের অভিনেত্রী বিপাশাকে ডেকেছিলেন ‘কালি বিল্লি’ বলে। চুপ ছিলেন বিপাশা। আজ আর চুপ থাকতে পারেননি। তিনি লিখছেন, ‘‘ছোট থেকে, সেই ছোট থেকে বোনের সঙ্গে আমাকে তুলনা করে বলা হত, সোনির থেকে বনি অনেক কালো না? আমার পরিজন, আত্মীয় সবার মুখেই এক কথা। বনি কালো’’ বনির যেন পরিচয় হয়ে উঠেছিল তাঁর গায়ের রং। ছোট্ট বনি মুম্বই এল। সুপারমডেল প্রতিযোগিতায় ছিনিয়ে নিল প্রথম স্থান। বিপাশা ভেবেছিলেন এ বার হয়ত তাঁর গুণের কদর হবে। গুণের কদর হল নিঃসন্দেহে। তবে, পরের দিনই খবরের কাগজে বড় বড় করে ছাপা হল, ‘ডাস্কি গার্ল ফ্রম কলকাতা ইজ দ্য উইনার’। পরিশ্রমী নয়, সুন্দরী নয়, বিপাশার নামের আগে শোভা পেতে লাগল ডাস্কি বিশেষণ।

মেয়ে দমবার পাত্র নয়। পাড়ি দিল বিদেশে। ওখানে গিয়ে সে তো অবাক। তাঁর রংই যেন তাঁর পরিচয় হতে থাকল সে দেশে। দুধ সাদা ‘মেমসাহেব’দের এক টুকরো কলকাতা সহজেই জায়গা করে নিল দূর দেশে। সেটাও চাননি বিপাশা। রং নিয়ে প্রশংসা-নিন্দা কিছুই চাননি। যা স্বাভাবিক, যা নিজস্ব, তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করাতেই বেশি খুশি ছিলেন তিনি। দেশে ফিরলেন। বলিউডে যাত্রা শুরু হল তাঁর। একের পর এক ছবি হিট। কিন্তু কালো শব্দের যত সমার্থক হয় তাঁর নামের সঙ্গে জুড়তে থাকল একের পর এক।

২০০৩-০৪… একের পর এক হিট হচ্ছে বিপাশার ছবি। তাঁর সেক্স অ্যাপিল হিল্লোল তুলছে বক্সঅফিসে। ‘জিসম’, ‘রাজ’ বিপাশা আকাশ ছুঁয়ে ফেলছেন ক্রমশ। তাতে কি? মিডিয়া বড় বড় করে ছেপে দিল তাঁর র‌ং তাঁর সেক্সিনেসের ইউএসপি। নায়িকা হবে ঢলঢলে চোখ, দুধে আলতা গায়ের রং, ‘কালো’ মেয়ে আবার নায়িকা নাকি! উড়ে এসেছিল টিপ্পনিও।

আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ফর্সা করে দেওয়ার দাবি করা ব্র্যান্ডগুলো বিপাশার কাছে কোটি কোটি টাকার অফার নিয়ে গিয়েছিল তাঁদের ফেয়ারনেস ক্রিমের মুখ হয়ে ওঠার। কালো নায়িকা তাঁদের ক্রিম মেখে রাতারতি ফর্সা হয়ে যাচ্ছে, এ একবার দেখাতে পারলেই যে কেল্লাফতে!

মুখের উপর না বলেছিলেন বিপাশা। বাঁচতে চেয়েছিলেন নিজের শর্তে। একটা দেশে যেখানে বেশির ভাগ মানুষের রং কালো সেখানে ফেয়ার কী করে লাভলি হয়ে গেল তা আজও বুঝতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘এ এক শিকড় প্রোথিত কলঙ্ক। এ এক মিথ্যে স্বপ্ন বেচা’’ বিপাশা পেরেছিলেন, কিন্তু না পারার সংখ্যাটা তার চেয়েও বেশি। বর্ণবিদ্বেষ আমাদের মজ্জায়, রক্তে।

দেরিতে হলেও ইউনিলিভারের এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত সারা দেশ। সুন্দরের সংজ্ঞা কি তবে বদলাবে এবার?

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..