সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

News Headline :
তাড়াশে পুকুর খননের প্রতিবাদে মডেল প্রেসক্লাবের মানববন্ধন তাড়াশে মডেল প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন তাড়াশে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ম্যাগনেট আঃলীগের মনোনয়ন পেয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ তাড়াশে বিজয় দিবস বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন না করার দাবীতে মানববন্ধন তাড়াশে স্কুলের সভাপতি হলেন আওয়ামীলীগ নেতা জহুরুল ইসলাম মাষ্টার মাটির চুলায় খড়-কুটোর রান্না তাড়াশে বাল্য বিবাহ ও ধর্ষণকে লাল কার্ড তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পেলেন জিল্লুর রহমান তাড়াশ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হলেন সাইদুর রহমান

পটিয়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: গোপনে দাফন

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, পটিয়া (চট্টগ্রাম):

পটিয়ায় মুর্শিদা বেগম (২০) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হলে  জ্বিনে মেরে ফেলছে বলে এলাকায় প্রচার চালিয়ে আসছে অভিযুক্তরা । জ্বিনে মেরে ফেলার অভিযোগ তুলে গত ৫ দিন আগে গোপনে দাফন করা হয়। নিহত গৃহবধূর স্বামী মো. রফিকের অভিযোগ স্থানীয়দের সাথে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ থাকায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তবে গৃহবধূর স্বামী রফিকও বিষয়টি গোপন রাখায় স্থানীয়দেের সন্দেহ হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে গৃহবধুর স্বামী রফিক ও তার ভাড়াটিয়া মফজল আহমদকে একটি রশি দিয়ে বেঁধে ঘরে আটকে রাখে  স্থানীয়রা। এরপর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শত শত নারী-পুরুষ ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলের গিয়ে রফিক, তার ভাড়াটিয়া মফজল, মফজলের স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে আটক করে পটিয়া থানায় নিয়ে যায় পুলিশের একটি দল। আটক হওয়া মফজলের স্ত্রী শাহীনা আক্তার বলেন, মুর্শিদার বাড়ি দক্ষিণ আশিয়ায়, সাত বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। তার মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। এক বছর আগে মুর্শিদার সঙ্গে রফিকের বিয়ে হয়। গত ২৫ এপ্রিল রাতে মুর্শিদাকে তার স্বামী রফিক ও আমার স্বামী মফজলসহ তিনজন মিলে গলা টিপে হত্যা করে। হত্যা করার বিষয়টি আমি জানতাম। আমার স্বামী অন্যজনকে বলার সময় তার বক্তব্য রেকর্ডিং করে রেখেছি।

অন্যদিকে মৃত মুর্শিদা বেগমের বড় বোন খুরশিদা বলেন, রফিকের অন্য একটা মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো। আমার বোনের কাছে থাকা দুই ভরি স্বর্ণ নিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে পালাতে চেয়েছিল সে। বিষয়টি জানাজানি হলে মুর্শিদাকে হত্যা করে রফিক। মুর্শিদার ৫ মে সন্তান জন্মদানের তারিখ ছিল। এর আগেই আমার বোনকে হত্যা করলো তারা। এ হত্যার বিচার চাই।

নিহত গৃহবধুর স্বামী মুহাম্মদ রফিক বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি চকরিয়ায়। ৭ বছর বয়সে আমাকে পটিয়ার আশিয়া এলাকায় নিয়ে আসে স্থানীয় বাসিন্দা মৃত তফাজ্জল মাস্টার। তিনি আমাকে পালকপুত্র হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার আগে আমাকে বাড়ি-ভিটার কিছু জায়গা দান করে যান। ওই জায়গাতে আমি আমার বউকে নিয়ে সংসার করে আসছিলাম। রফিক বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পর সে মারা যায়। আশপাশের সবাই এসে দাফন-কাফনে অংশ নেয়। স্ত্রী মারা যাওয়ার ৫ দিন পর হত্যার অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মূলত জায়গা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার বউকে জিনে মেরেছে বলে কাউকে বলিনি প্রচারও করি নাই। স্বাভাবিক নিয়মে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আমার স্ত্রীর দাফন  সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার ৫ দিন পর কেন এ ঘটনা তা আপনার খতিয়ে দেখুন। রফিক বলেন, আমার স্ত্রীর কাছে যে দুই ভরি স্বর্ণ ছিল সেটা আমি ধরেও দেখনি কোন সময়। এখন মারা যাওয়ার পর আমার ভাড়াটিয়ার স্ত্রী শাহীনা আক্তারের কাছে পাওয়া গেল সেই ২ ভরি স্বর্ণ। এখন শাহীনা আক্তারই আমার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছেন। এখানে পরিকল্পিতভাবে কিছু হচ্ছে।

আশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বলেন, রফিক গলা টিপে হত্যা করার পর জিনে মেরে ফেলেছে বলে বউকে দাফনও করেছে বলে এলাকায় প্রচার হয়। গত বুধবার রাতে রফিক ও তার ভাড়াটিয়াকে মৃত মুর্শিদার বাড়ির লোকজন রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া পটিয়া থানার এসআই মাকছুদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। শত শত এলাকাবাসীর ভিড় থেকে একটি রুমে বেঁধে রাখা অবস্থায় নিহত গৃহবধুর স্বামী ও তার ভাড়াটিয়া স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। উভয় পক্ষের মৌখিক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। মূল রহস্য বের করে আনার জন্য নিখুতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পটিয়া থানার ওসি বোরাহান উদ্দিন বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন কি কারণে এ ঘটনা, সেটার মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..