বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন

লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না রোহিঙ্গারা

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২০
  • ৬৯ বার পঠিত

তানভীর শাহরিয়ার, উখিয়া, কক্সবাজার প্রতিনিধি, সময়ের সংবাদঃ    

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো ঘোষণা করেছেন লকডাউন । এর মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী অধ্যুষিত জনপদ জেলা অন্যতম কক্সবাজার । এ জেলার উখিয়া-টেকনাফে ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে প্রায় বাস করছে ১১-১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।

ব্যাপক জনসমাগম এই শিবিরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘঠলে তার পরিণাম ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউন মানছে না। এ নিয়ে শিবিরের মানুষজনের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সরজমিন উখিয়ার জামতলি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৬-১৫ ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্প বাজারে প্রচুর রোহিঙ্গা সমাগম ও রোহিঙ্গা মালিকানাধীন দোকান খোলতে দেখা যায় । তাদের কাছে করোনার কোনো ভয় অথবা তেমন কোনো সচেতনতা নেই।

হামিদ হোসেন (২৬) নামে এক রোহিঙ্গা জানান, তিনি মাঝি ও মাইকে নিকট থেকে করোনা নামক ভাইরাসের কথাটি শুনেছেন। ক্যাম্পে ১৫-২০ দিন আগে মাইকিং করে ঘর থেকে বের না হতে বলেছিলেন। এরপর থেকে আর কোনো কিছু জানেন না তিনি।

ক্যাম্পের আগের মতই ত্রাণ ও গ্যাস সিলিন্ডার দিতে দেখা যায়। সিলিন্ডার নিতে আসা রোহিঙ্গা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা একজন আরেকজনের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সেবা সংস্থার লোকজনও তাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করছে না।

গোয়েন্দা সংস্থা সহ প্রশাসনের এত কড়াকড়ির মাঝেও রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে থাইংখালী,পালংখালী, টেকনাফ স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি করছে রোহিঙ্গারা । তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো আতঙ্ক নেই। রোহিঙ্গাদের এমন আচরণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে স্থানীয়রা।

ক্যাম্প ১৬ চীপ মাঝি তাহের বলেন, করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে যেভাবে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে এই মাঝি জানান, রোহিঙ্গাদের মাঝে এসব বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। কিন্তু ক্যাম্প প্রশাসন বিভিন্ন লিফলেট, পোস্টার দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ১৫০টি শয্যা প্রস্তুতের কাজ চলছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার ৩০০ জন ডাক্তার, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতার ব্যাপারে তিনি বলেন, বার্মিজ ভাষায় লিফলেট, পোস্টার তৈরি করে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু তাদেরকে সচেতন করার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইসোলেশন সেন্টার, কোয়ারেন্টিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও টিঅ্যান্ডটি আর্মি চেকপোস্ট এলাকায় জাতিসংঘের বিশেষায়িত বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) পার্টনারে ইউএনএইচসিআর তত্ত্বাবধানে ২০০ বেডের করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। উক্ত হাসপাতালে স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সেবা নিতে পারবেন বলে তিনি জানান।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..