মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধঃ শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না যায় শিক্ষা জীবন থেকে

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ১০১ বার পঠিত

শিতাংশু ভৌমিক অংকুর, শিক্ষানবিশ সাংবাদিক, সময়ের সংবাদঃ

বাংলাদেশে সরকারী,বেসরকারী বিদ্যালয়, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনন্যা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ কোটির বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করছেন।

তাদের মধ্যে একটা অংশ যার সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ, তারা বিভিন্ন শহরের বাসা বাড়ি মেস বানিয়ে থাকে।কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় ৩৫ লক্ষের মতো! এদের বেশিরভাগই নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা সাধারণত পরিবারের থাকেন।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর ১৮ মার্চ মেস ত্যাগ করে চলে যান প্রায় ৯০% শিক্ষার্থী। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তারা নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সাথে অবস্থান করছেন। সঙ্গত কারণেই তারা মেসের গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ কিছুই ব্যবহার করেননি। তবে বাড়িওয়ালা সবকিছুর বিলসহ এপ্রিলের বাড়ি ভাড়া পরিশোধের জন্য বারবার তাদের তাগিদ দিচ্ছেন এবং অনেক বাসা-বাড়ির মালিক শিক্ষার্থীদের বলছেন, টাকা পরিশোধ না করতে পারলে বাসা ছেড়ে দাও।

এভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকলে,মেসে অবস্থান না করেই শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৭ মাসের বাড়ি বাড়া ও আনুসাঙ্গিক বিল!আমরা সবাই জানি এখন দেশের বেশিরভাগই দরিদ্র, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থাই মারাত্মক রকম খারাপ।

এরা ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছে।সেই সকল পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা মোটেই সম্ভব নয়। তাছাড়া এই অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা চাইলেও বাসা ছেড়ে দিতে পারছে না। ৭ মাস বাসায় না থেকে,বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহার না করে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হলে অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিক শিক্ষা জীবনে ফিরতে পারবে না;বন্ধ হয়ে যাবে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ।

কিন্তু সরকারি একটি নির্দেশনা পারে সব ঠিক করে দিতে।যেহেতু মালিকপক্ষ এতদীর্ঘ সময় নিজ থেকে বাসা বাড়া মওকুফ করবে না।সরকারকে নিন্মোক্ত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য অনুরোধ সাধারণ শিক্ষার্থীদের-

সরকারি সাধারণ ক্ষমার আওতায় এনে সকল শিক্ষার্থীদের মেসবাসার বিদ্যুৎ,গ্যাস,পানি বিল মওকুফ করে দেওয়া অথবা সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তথ্য গ্রহণ করেছেন, সরকার জানেন কোন শিক্ষার্থীর পারিবারের অবস্থান দারিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। সেই সুবাদে যদি সরকার সকল দ্ররিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের অর্থ সহয়তা প্রদান করা যেতে পারে।একজন শিক্ষার্থী একটি জাতির ভবিষ্যৎ কান্ডারি তাই এই দুর্যোগ কালে সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে।রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজের শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন আমাদের মাথায় রাখতে হবে আগামী দিনে বিশ্বের চরম অর্থনৈতিক সংকট আসতে চলেছে,করোনা দুর্যোগে একটি শিক্ষার্থী ও যেন শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে না পরে, এখনই সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের সমস্ত ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষাবিদের সমন্বিত মতামত এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী দিনে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রুখতে সমন্বিত উদ্যোগ।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..