রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩০ অপরাহ্ন

News Headline :
মহান বিজয় দিবস উদযাপন বাস্তবায়ন লক্ষ্যে তাড়াশে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৫২ বছর বয়সে এসএসসি পাশ করলেন কৃষক মতিন তাড়াশে গোপনে ম্যানেজিং কমিটি করার অভিযোগ শপথ নিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশে সুফলভোগীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি উপকরণ বিতরণ  তাড়াশে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ কলেজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাড়াশে মাধাইনগর ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত তাড়াশে ৩টি ওয়ার্ড যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪০২৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদঃ

রবিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে (আইডি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের এটিই করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু বলে জানা গেছে।

এদিকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৩৮ হয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন দুইজন। একজন মৃতকে বাদ দিয়ে বাকি ৩৫ জনের মধ্যে ১০ জন রামেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এবং অপর ২৫ জন নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। অন্যদিকে করোনার উপসর্গ জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০ জন। এদের চারজনকে মিশন হাসপাতালে এবং ছয়জনকে রামেক হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। রবিবার দুপুরে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিভাগে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য জানান, রবিবার সকাল পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের সাত জেলায় করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে আটজন, বগুড়ায় ১৭ জন, জয়পুরহাটে ছয়জন, পাবনায় দুইজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুইজন ও নওগাঁয় একজন রোগী শনাক্ত হন। তবে নাটোরে করোনা পজেটিভ রোগী পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগের আক্রান্ত ৩৮ জনের মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তারা দুইজনে বগুড়ায় চিকিৎসা নিয়েছেন। আর রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তি মারা গেছেন। যে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের ১০ জন হাসপাতালে রয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে একজন, বগুড়ায় সাতজন ও জয়পুরহাটে দুইজন। অপর ২৫ জন নিজ বাড়ি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতিদিন দুইবার করে তাদের সঙ্গে কথা বলে শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তাদের শরীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। এছাড়া শনিবার পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় ৮৪৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪০, নওগাঁয় ১৭৪, নাটোর ১৪, জয়পুরহাটে ২০৬, বগুড়ায় ১৪৮, সিরাজগঞ্জ ৭৭ ও পাবনায় ৭৮ জন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নওগাঁয় ১৬ এবং নাটোর ও সিরাজগঞ্জ একজন করে মোট ১৮ জন।

মৃতের চিকিৎসায় দুর্ভোগের বর্ণনা দিলেন ছেলে

এদিকে করোনা পজেটিভ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গাওপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুস সোবহান (৮০) রবিবার সকালে রামেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যান। তাঁর করোনায় আক্রান্ত ও চিকিৎসা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগে জানিয়েছেন ছেলে মনি। রবিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯ দিন থেকে তার বাবার খাওয়া বন্ধ ছিল। হাসপাতালে আসলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি তিনি। বাবার কখনো শ্বাসকষ্ট ছিল না। করোনায় আক্রান্তের পর বাবার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হত, জোরে নিঃশ্বাস নিতেন। শেষ ক’টা দিন মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন। কথা বলতে পারতেন না। ইশারা-ইঙ্গিতে চাহিদা বোঝানোর চেষ্টা করতেন।’

মনি বলেন, ‘তার বাবাকে আইসিইউতে নেওয়ার জন্য বললেও বিভিন্ন অজুহাতে নেওয়া হয়নি। দুর্ভোগের ভয় দেখিয়ে আইসিইউ সুবিধা পাননি তিনি। আইসিইউ’র কথা বললে সংশ্লিষ্টরা বলেন, ‘তোমাকে নিজের গাড়িতে করে আইসিইউতে নিয়ে যেতে হবে। রোগের কারণে কেউ গাড়ি নিয়ে আসবে না। থাকা খাওয়ার সমস্যাও হবে। সেখানে অনেক দুর্ভোগ, তাই যেখানে তোমার বাবা আছে, সেখানেই ভালো আছে বলে জানানো হচ্ছিল।’ মনি আরও বলেন, ‘আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানালা থেকে একজন চিকিৎসক তার বাবাকে দিনে একবার মাত্র পর্যবেক্ষণ করতেন। কেউ কাছে না আসায় বাবার শরীরে স্যালাইন আমাকেই পুশ করতে হয়েছে। তিনি নিজে বাবার নাকে পাইপের মাধ্যমে অক্সিজেন দিয়েছেন বলেও জানান মনি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..