বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন

কৃষকের চোখে স্বপ্ন ফসলকে ঘিরে

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ:

পরিপক্ব ধানের শীষ আঁকড়ে ধরে আছে বিস্তৃত ফসলের মাঠ। কৃষকের চোখে স্বপ্ন এই ফসলকে ঘিরে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বৈশ্বিক মহামারি প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস আতংক। ফসল কাটা এবং ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অনেকে। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগ-বালাই কম থাকায় ধানের ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার চিত্র ভিন্ন। দেশের নানা প্রান্তে কাজ করা হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান রিকশা শ্রমিক সবাই ফিরে এসেছে গ্রামে। এরা এখন কর্মহীন বেকার।

কথা বলছিলেন উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পুস্তিগাছার প্রবীন কৃষক নুরুল ইসলাম। চলনবিল অধ্যুষিত এই এলাকায় এখন তিনশত থেকে চারশত টাকায় যথেষ্ট দিন মজুর রয়েছে। প্রতিদিন যখন কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন মৌসুম শুরু হলে ধানকাটা শ্রমিকের সংকট হবে তা তিনি মনে করছেন না।

বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের কৃষক মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন, সাধারণ কৃষক ফসলের মাঠে কাজ করতে করোনা নিয়ে মোটেও আতংকিত নয়। তবুও কাজের সময় তাদের নিরাপদ দূরত্ব বিষয়ে সচেতন করা উচিত বলে মনে করেন। উধুনিয়া, লাহিড়ী মোহনপর, দূর্গানগর ইউনিয়নসহ অত্র এলাকায় ফসলের যে অবস্থা সে অনুযায়ী বিঘা প্রতি ২৫ মনের অধিক ফলন হবে বলে আশা করেন। যদি বৃষ্টি কম হয় তাহলে সহজেই ফসল ঘরে উঠবে এটা তার প্রত্যাশা।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আজমল হক জানান, চলতি বছর উপজেলায় ইরি বোরো ধান চাষ হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধান, অবশিষ্ট ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৯ । ব্রি-২৮ কিছুটা আগাম চাষ হওয়ায় ইতো মধ্যে কাটা শুরু হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াছমিন জানান, মৌসুমে মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত খরচের কারনে ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কৃষককে নানান বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
প্রান্তিক চাষীদের এই সমস্যা উত্তরনে সরকার কৃষিতে বিশেষ প্রনোদনায় অর্ধেক মুল্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে। চলতি মৌসুমে সাশ্রয়ে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে কৃষককে সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৫১ লক্ষ টাকা মূল্যের দুটি স্বয়ংক্রিয় ধান কাটা ও মাড়াই কল (কম্বাইন হারভেস্টার) মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে। এই মেশিন প্রতি ঘণ্টায় চার বিঘা জমির ধান কেটে মাড়াই করে বস্তায় ভরতে সক্ষম। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের খরচ হয় চার হাজার টাকা সে ক্ষেত্রে মাড়াই কলে খরচ পড়বে মাত্র ১৫শত থেকে ১৮শত টাকা। ২৪ জন শ্রমিক ১৬ হাজার টাকায় সারাদিন যে কাজ করবে, এই মেশিনে মাত্র ৬ হাজার টাকায় এবং তা ১ ঘণ্টায় সম্ভব। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হবে।

তিনি বলেন ইরি বোরো মৌসুমে গুরুত্ব বিবেচনায় করোনাকে উপেক্ষা করে কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ৫০টি করোনা নিরাপত্তা পোশাক পিপিই ক্রয় করেছে। করোনা মহামারি কারনে বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে সেই প্রেক্ষাপটে সরকার কৃষিখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বোরো মৌসুমে পরবর্তী ফসল চাষের জন্য সরকার প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নত বীজ ও সার বিতরণ করছে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..