মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন

বাহুবলে ত্রাণ বিতরণের তালিকায় কোটিপতি ব্যবসায়ীরা

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ১০৮ বার পঠিত

শাব্বীর আহমদ উসমানী: হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের জন্য সারা দেশের মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। রিক্সা চালক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর জন্য বর্তমান সরকার ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলের মিরপুর ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে ত্রাণ সামগ্রী। কিন্তু স্হানীয় গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের অভিযোগ ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য দিকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে। তখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে ত্রাণ সামগ্রী কোথায় গেলো!এলাকাবাসীর এমন প্রশ্নে মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকত ত্রাণের তালিকা গত শনিবার ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছেন। তবে আশ্চর্য হলেও সত্যি যে ত্রাণের তালিকায় রয়েছেন মিরপুর বাজারের কয়েকজন কোটিপতি ব্যবসায়ী। ত্রাণ পেয়েছেন আরাধন নামের বিলাশ ফ্যাশনের মালিক জয়পুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ত্রাণ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কাশফুলের মালিক যুবলীগ নেতা এমরান।পেয়েছেন মিষ্টি ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মিয়া। আরো পেয়েছেন শিল্পপতি মোগল র্কাটন ফ্যাক্টরীর মালিক ময়না মিয়া। তালিকায় রয়েছেন দিদার আলী নামের এক ইউপি সদস্যের নামও। তালিকাটি খতিয়ে দেখা গেলো একই পরিবারের তিন চার জনকেও পেয়েছেন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী। তালিকা খুঁজে আবার গায়েবি কিছু নামও পাওয়া যায়। তাতে অনেকের পিতা/স্বামীর নাম এবং গ্রামের নামও খোঁজে পাওয়া যায়নি। ত্রাণ বিতরণে পাওয়া গেছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। চেয়ারম্যান তার পছন্দমত লোকদের ত্রাণ বিতরন করেছেন। স্হানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব সাইফুদ্দীন লিয়াকত বেশির ভাগ আত্মীয় স্বজনের নামে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তালিকায় শাহিন মিয়া নামের এক পান ব্যবসায়ীর নাম থাকলেও তিনি ত্রাণ পাননি । তালিকায় পিতার নামের স্থলে লিখা হয়েছে, টং দোকান, পানের দোকান, চায়ের দোকান,সেলুন ইত্যাদি। আরো জানা গেছে যে মিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা না হয়েও ত্রাণ পেয়েছেন পার্শ্ববর্তী ভাদেশ্বর ইউনিয়নের একই পরিবারের ৩ জন। ত্রাণ পাওয়া ব্যক্তির নাম-ফয়েজ মিয়া, পিতা-কদ্দুছ আলী, তার আপন ফুফু জয় বানু, পিতা-রোশন আলী, তার বড়ভাই জাহাঙ্গীর মিয়া, পিতা-কদ্দুছ আলীর ঠিকানা দেখানো হয়েছে মিরপুর বাজার কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা উভয়ই ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তারা পূর্ব জয়পুর গ্রামেই বসবাস করে আসছে। মিরপুর ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, তালিকায় ইউনিয়নের ভিতরে অনেক গ্রামের নাম নেই। চেয়ারম্যান তার পছন্দমতো লোকজনকে ত্রান বিতরণ করেছে।তাছাড়া তালিকায় একজনের নাম দুবারও এসেছে বলে ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ। তারা আরো অভিযোগ করেছেন আমাদের কিছু নাম তালিকায় আসলেও আমরা ত্রাণ পাইনি। ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব শামীম বলেন, আমি পেয়েছি মাত্র ১৫ জনের নাম। বাকীগুলি কোথায় গেল আমার জানা নেই। মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন লিয়াকতকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বাহুবল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার জানান, অনিয়মের কোন সুযোগ নেই, প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি রয়েছে, অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা, তালিকায় গরমিল শিল্পপতিদের নাম বিষয়গুলি আমার জানা নেই, পরবর্তী তালিকায় বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব। এ ব্যাপারে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..