বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে সভাপতিকে পেটালেন পৌর মেয়র

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ১২৪ বার পঠিত

আসিফ জামান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, সময়ের সংবাদঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতিকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে পৌরমেয়রের বিরুদ্ধে। রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র শাহা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে রাণীশংকৈল পৌরসভার মেয়র আলমগীর সরকারসহ প্রবীর দত্ত, মাজহারুল ইসলাম, অমিত বসাককে আসামী করা হয়। পৌর মেয়রের পাশাপাশি আলমগীর সরকার রানীশংকৈল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। রাণীশংকৈল উপজেলা দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র শাহা অভিযোগ করে বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে আমাদের এলাকায় সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ওইসব দোকানের কর্মচারীরা। তিনি বলেন, প্রায় একমাস ধরে দোকানপাট বন্ধ থাকার কারণে বেতনভাতাও দিচ্ছেন না মালিকরা। এতে খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে কর্মচারীদের। বেতনভাতার দাবিতে গত বুধবার দুপুরে দোকান ও প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে রাণীশংকৈল চৌরাস্তা মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে সকল দোকানের কর্মচারীরা। এসময় দোকান কর্মচারীরা বিভিন্ন বক্তব্য প্রদান করেন। পরে ইউএনও মৌসুমী আফরিদা ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না এসে আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এর আগে মেয়র আলমগীর সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে সেরকম মাথা ঘামায়নি। প্রদীপ চন্দ্র শাহা বলেন, দোকান কর্মচারীদের মাঝে ত্রাণ তহবিল দেয়ার জন্য পৌর মেয়র আলমগীর সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আশ্বাস দেন। ত্রান দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে কয়েকবার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি মেয়র ও তার লোকজন নেন। কিন্তু ত্রাণ সামগ্রী দেননি। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মেয়র আলমগীর মঠোফোনে আমাকে অকথ্য ভাষা গালিগাজালজ করে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আমাদেরকে মেয়র আলমগীর সরকার তার বাড়িতে আমাদের সংগঠনের সবাইকে ডাকেন। আমরা তার বাড়িতে গেলে সকলের সামনে মেয়র আলমগীর সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও কোষাধ্যক্ষ সাগর সাহাকে বেধরক মারপিট করে। এছাড়াও মেয়রের লোকজনও মারপিট করে বলে অভিযোগ প্রদীপ চন্দ্র শাহার। পরে সাথে থাকা অন্যা্ন্য কর্মচারীরা আমাদের দুইজনকে উদ্ধার করে রানীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি করে। কেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের মারপিট করা হলো এমন প্রশ্নে রাণীশংকৈল পৌরসভার মেয়র আলমগীর সরকার বলেন, দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মচারীরা বেতনভাতা পায়নি বিষয়টি আমাকে অবগত করা হলে আমি তাৎক্ষণিক মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করি। এরপর মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষকে নিয়ে ২৫ এপ্রিল বসার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও আমার পক্ষ থেকে দোকান কর্মচারীর দেড় শতাধিক ব্যক্তির মাঝে ত্রাণসামগ্রী দেয়া হয়েছে। মেয়র বলেন, সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা গত বুধবার বেতনভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে। সেই আন্দোলন থেকে বক্তব্যে বলা হয় আমি তাদেরকে কোন ত্রাণসামগ্রী দেয়নি। তাদেরকে ত্রাণ দেয়া হয়েছে, তারপরও তারা প্রকাশ্যে বলল ত্রাণ দেয়নি; এ বিষয়ে কথার বলার জন্য শুক্রবার রাতে ওই সংগঠনের সভাপতি প্রদীপ শাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে আমার বাড়িতে ডেকে আনা হয়। এখানে কাউকে মারপিট করা হয়নি, তারা উচ্চস্বরে কথা বলে ধাক্কাধাক্কি হয় বলে স্বীকার করেন মেয়র আলমগীর সরকার। রাণীশংকৈল দোকান মালিক সমিতির সভাপতি উজ্জ্বল বসাক বলেন, মাস ভিত্তিক নয়, আমাদের এখানে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে টাকা দেয়া হয় কর্মচারীদের। লকডাউনের কারণে প্রায় মাসখানেক ধরে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। লকডাউনের সময় প্রত্যেক কর্মচারীকে ১ হাজার করে টাকাও করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আরও অন্যান্য দিক দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৌরমেয়র আলমগীর সরকারের হস্তক্ষেপে ২৫ তারিখে কর্মচারীদের সাথে বসার সিদ্ধান্ত হয়। মেয়রের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২৩ এপ্রিল কর্মচারীরা উপজেলার সরকার-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ আন্দোলন করে কর্মচারীরা। কর্মচারীরা আমাদেরই মানুষ, তাদেরকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু তারা আন্দোলন ও আমাদের অপমান করা ঠিক করেনি। পৌর মেয়র আলমগীর সরকার সহ আরও ৩ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান। রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিদা এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেয়র আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে মারপিট করার একটি অভিযোগ আমার কাছে দিয়েছিল দোকান ও প্রতিষ্ঠান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়ন। এরপর আমি তাদেরকে থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..