বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

সমাজে সব অত্যাচার জুলুম-নির্যাতন যেন অসহায় শিক্ষকদের উপর

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৬৭ বার পঠিত

রবিউল হোসাইন সবুজ, (স্টাফ রিপোর্টার): সময়ের সংবাদঃ

করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে সচেতনতামূলক পোস্ট দেয়ায় লাকসাম উপজেলার আজগর হাজী অালতাপ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক ওমর ফারুকের উপর হামলা করা হয়। তাকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে রক্তাক্ত করা হয়।

জানা যায়, আনোয়ার উল্লাহ নামে একজন চট্টগ্রাম থেকে নিজ বাড়িতে এসে হোম কোয়ারান্টাইনে না থেকে এলোমেলো ঘুরাফেরা করতে থাকেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আনতে এবং সচেতনতাকল্পে ঐ শিক্ষক ফেসবুকে পোস্ট দেন।

এ সমাজ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে হতে এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যাঁরা জাতি গড়ার কারিগর এ দেশে তাঁদের কোনো সম্মানই নেই। একসময় প্রতিটি এলাকায় দু-একজন শিক্ষক থাকতেন যাঁদেরকে সবাই সম্মান করতেন, তাঁদের কথাকে সবাই গুরুত্ব দিতেন। বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে সব সামাজিক উৎসবে তাঁরা সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পেতেন। যে পক্ষ কোনো শিক্ষককে হাজির করতে পারতেন ঐ পক্ষের মর্যাদা বহুগুণে বেড়ে যেত।

বর্তমান লকডাউনে মানুষকে ঘরমুখী করতে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে থেকে শুরু করে বহু রাজনৈতিক নেতাকর্মী তো আছেনই—উপজেলা থেকে বড় বড় কর্মকর্তাকে এসে নজরদারি করতে হয়। এতেও হিমশিম খেতে হয়। এর বাইরে বড় বড় কর্মকর্তাকে সাধারণ লোকজন ঠিকমতো সম্বোধন বা ‘স্যার’ সম্বোধন না করতে জানার কারণে কত হুমকি-ধমকিও খেতে হচ্ছে শুনি। অথচ একজন শিক্ষকের ইশারায়-কথায় মানুষজন ঘরমুখী হয়ে যাওয়ার কথা। হাটে-বাজারে বা কোনো জনসমাগমে শিক্ষক সবাইকে লক্ষ্য করে কোনো কথা বললেই তা মানতে স্বচক্ষে দেখেছি। এর প্রমাণ এ বাংলাদেশেই আছে। অতীতে ফিরলেই তা স্পষ্ট দেখতে পাই। বর্তমানে শিক্ষকরা অন্যকে কী ঘরে থাকতে বলবেন, নিজেই ভয়ে লুকাতে ইঁদুরের মত গর্ত খোঁজেন। এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। সমাজের মানুষ দেখছে শিক্ষকের কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁর সম্মান, ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। স্কুলে ক্ষমতাবান কেউ দূরের কথা, পুচকে কোনো রাজনীতিবিদ এলেও তাঁর চেয়ার ছেড়ে দিতে হয়। গোবেচারার মত শিক্ষককে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কথার বাইরে গেলে শাস্তি পেতে হয়। কানে ধরে ওঠবস করতে হয়।
দুঃখজনক বিষয় হলো— স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার করার পর যেই একটু রাজনীতিতে যুক্ত হলো বা কোনো সাহেবের চাকরি পেল, বেশিরভাগই যেন শিক্ষককে আর চিনেন না। অন্যগ্রহের মানুষ হয়ে যান তারা। কেউ কেউ বড় সাহেব হয়ে গ্রামে গিয়ে শিক্ষকের পায়ে সালাম করার ছবি তুলে ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে দিয়ে নিজেকে খুব উদার দেখানোর চেষ্টা করেন। বাস্তবে এটি কতটুকু হৃদয়ে ধারণ করেন তা কাজে-কর্মেই বুঝা যায়!

করোনাকালেও লক্ষ করছি শিক্ষকসমাজকে অপদার্থ, কাজ-কর্মহীন, শুধু বেতন তুলে তুলে খায় কেউ কেউ এমন অসার প্রমাণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি ভাবি, উনাদের অনেক সাহস! যাঁর কাছে পড়ে, যাঁর স্নেহ -মমতায় এত বড় হয়েছেন তাঁকে ছোট করার মধ্য দিয়ে এত তৃপ্তি পান কী করে? এর চেয়ে নিমকহারাম আর কিছুই হতে পারেনা।

শিক্ষক-সম্প্রদায় হলো সমাজ বা রাষ্ট্রের ইন্ডিকেটর। শিক্ষকদের মর্যাদার দিকে তাকালেই একটা রাষ্ট্রের অবস্থান সহজে অনুমান করা যায়। শিক্ষা এবং শিক্ষকদের মর্যাদার যত অবনমন ঘটবে ততই রাষ্ট্রের অবনমন যে ঘটবে তা বলার অপেক্ষাই রাখে না!

আমি আজগরা হাজী আলতাপ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক ওমর ফারুকের উপর হামলাকারীদের অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..