মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘাটাইলে মুনসুর আলীর একমাত্র সম্বল কলা পাতার ছাউনি

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৪৪ বার পঠিত

বিধান চন্দ্র রায়, (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ সময়ের সংবাদঃ

এ যুগের মুনসুর আলীর ঘর দেখলে মনে পরে যায় কবি জসীমউদ্দিনের কবিতার ফরিদপুরের রসুলপুরে আসমানীর ঘর ভেন্না পাতার ছাউনির কথা। কেননা তারি অনুরুপ এ যুগের মুনসুরের ঘর কলা পাতার ছাউনির। সে যুগের আসমানীর বাড়ি ভিটে থাকলেও কিন্তু মুনসুরের নেই সরকারি খাস জমিতে তার বাস। কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে স্ত্রী আর ঝুপড়ি ঘর আঁকড়ে ধরে থাকেন। তার শেষ সম্বল বলতে ওই ঝুপড়ি ঘর। বৃষ্টির পানি কলাপাতা চুয়ে পরার আগেই তাদের গা ভিজে যায়। এমনি ভাবে মানবতায় জীবন কাটছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের সরাবাড়ি গ্রামে মুনসুর আলী। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। পাঁচ মেয়ে আর দুই ছেলে সন্তানের জনক। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন আর ছেলেরাও বিবাহিত। দিনমজুর ছেলেরাও ব্যস্ত তাদের সংসার নিয়ে। সন্তানরা কেউ খোঁজ নেয়না বাবা মা’র।

মুনসুর আলী বলেন,কেউ খোঁজ নেয়না,না সন্তান না মেম্বার চেয়ারম্যান । অনেকবার একটা ঘরের কথা সবাইকে বলেছি, কেউ দেয়না। ছেলে মেয়েদের সংসারই চলে না আমাগো কিবা কইরা দেখবো। তিনি আরও বলেন, কি জানি রোগ আইছে দেশে, যার জন্য কাম বন্ধ, ঘরেও খাবার নাই। আট নয় দিন আগে কয়ড়া চাইল আর ডাইল পাইছিলাম, তাও ফুরাইয়া গেছে। জানা যায়, সরকারি ত্রাণ এখনো জোটেনি তার ভগ্যে। যে চাল ডাল পেয়েছিলেন তা ছিল সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ব্যক্তিগত সাহায্য।

রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক সরকার বলেন, ঘরের বিষয়টি স্থানীয় এমপি ,উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও দেখে থাকেন। আমাদের কাছে ঘরের কোনো বরাদ্দ আসেনা। ত্রাণের বিষয়ে তিনি জানান ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণ পেয়েছি মাত্র তিনশত পেকেট তারপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ দিয়েছি। সে না পেয়ে থাকলে পরবর্তিতে পাবে। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান খান বলেন, পরবর্তিতে ঘরের কোন প্রকল্প আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর উপজেলায় কেউ না খেয়ে থাকবেনা, অসহায় দরিদ্র যারা আছেন সবার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..