মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

ভূরুঙ্গামারীতে অনাহারে-অর্ধাহারে শ্রমজীবি ও মধ্যবিত্ত মানুষ

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার ১০ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১৬ বার পঠিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ সময়ের সংবাদ: 

প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে সারাদেশের মত ভূরুঙ্গামারীর জনজীবনও স্থবির হয়ে পড়েছে। অঘোষিত লকডাউনের কারণে শ্রমজীবি মানুষের হাতে কাজ নেই, ঘরে খাবার নেই। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরাও ধুকছে এ সমস্যায়। কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের বিপরীতে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেনা ভূক্তভোগিরা। এ সব মানুষের চাপে
বিপাকে পড়েছেন জন প্রতিনিধিরা। নিম্ন আয়ের মানুষ জনের কোন আয় না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এ পর্যন্ত তিন
দফায় ৫৪.৩ মেঃটঃ চাল ও ২লক্ষ ১৯হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক
দল,সামাজিক সংগঠন গুলো ত্রাণ বিতরণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। যা এ অঞ্চলের গরীব ও কর্মহীন মানুষের তুলনায় অনেক কম।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে করোনা আতংকে লকডাউনের কারণে উপজেলার হাট বাজার ও যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে রিক্সা চালক, ভ্যান চালক,অটো চালক, নির্মাণ শ্রমিক,দর্জি শ্রমিক, বাস-মিনিবাস শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, নরসুন্দর ও ধোপা। অপর দিকে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের ঠিক মত কেনা বেচা না হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর।

তাই অনেকেই তাদের স্ত্রী-সন্তানদের একমুঠো ভাত তুলে দিতে সরকারের নিদের্শনা উপেক্ষা করেই
নামছে তাদের এক মাত্র উপকরণটি নিয়ে। কিন্তু এজন্য তাদের আইন শৃঙ্খালা বাহিনীর হাতে
লাঞ্চিতও হতে হচ্ছে। ফলে তারা চরম হতাশায় ভুগছে।

বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে ত্রাণ বিতরণে সময় বেশির ভাগ কর্মহীন মানুষরা ত্রাণ না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সরকারের নিদের্শনায় কর্মহীন মানুষের তুলনায় ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানগণ।এ জন্য তাদের ত্রাণ বিতরণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের রিক্সা চালক মোজাবফর হোসেন সময়ের সংবাদ কে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে রাস্তায় রিক্সা বেড় করতে পারছি না ঘরেও খাবার নাই। চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ঘুরেও ত্রাণের স্লিপ পাইনি।

হোটেল শ্রমিক জহুরুল ক্ষোভের সাথে বলেন, হোটেল বন্ধ থাকায় কোন আয়-রোজগার নাই।সংসার চলছে খুব কষ্টে । এখন পর্যন্ত সরকারী-বেসরকারী কোন ত্রাণ পাইনি।

জয়মনিরহাট ইউনিয়নের অটো চালক মোশলেম উদ্দিন বলেন, আমরা মেম্বারের কাছে ত্রাণের স্লিপ নিতে গেলে তারা মনে করেন আমাদের ত্রাণের দরকার নেই, কিন্তু আমার তো সংসার চলেনা।

জয়মনিরহাট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সময়ের সংবাদ কে জানান, যে পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছি তার প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। এ জন্য ত্রাণ বিতরণে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিলাই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল হক শাহিন শিকদার সময়ের সংবাদ কে বলেন, কর্মহীন মানুষদের খাদ্য সহায়তার জন্য এত চাপ যে সামাল দিতে বাড়িতে থাকাই এখন দায় হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফিরুজুল ইসলাম প্রতিবেদক কে বলেন, আমরা তিন ধাপে এ পর্যন্ত ৫৪.৩ মেঃটন চাল ও ২লক্ষ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়ে তা ইতমধ্যেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ করেছি। ইনশআল্লাহ আরো ত্রাণ সামগ্রী আসবে এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..