বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

করোনা পরিস্থিতিতে ভালোবাসার উপহার নিয়ে হাবিপ্রবিয়ানরা

সময়ের সংবাদ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৭৪ বার পঠিত

 মোঃ সাগর হোসেন হাবিপ্রবি প্রতিনিধি,দিনাজপুরঃ সময়ের সংবাদঃ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)এর কারনে অপ্রত্যাশিত হারে ছড়িয়ে পড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। থমকে গেছে বিশ্ব।আতঙ্কিত প্রতিটি দেশ,প্রতিটি মানুষ। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে করোনা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অবস্থা আরো লাজুক। প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। মূলত জনসচেতনতার অভাব,দিনমজুর শ্রেনীর মানুষের বসবাসের কারনে লকডাউন অমান্য করে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রবোনতা ও জনসমাগম না এড়ানোর জন্য দ্রুত করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।

লকডাউনের কারনে কর্মহারা মানুষ অতিবাহিত করছে এক মানবেতর জীবন,চেয়ে আছে সরকারের দিকে।সরকার তার সাধ্যমতো ত্রান দিলেও সবার হাত ঘুরে জনগনের কাছে কতটুকু যাচ্ছে তা প্রায় সবারই জানা। তারপরেও জনগনের সাহায্য করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম যাচ্ছে সরকারী প্রশাসনিক বাহিনী সহ নিজ উদ্যোগে কাজ করা কিছু সাহসী সৈনিক।তারা মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছে খাবার,ছড়িয়ে দিচ্ছে সচেতনতার বাণী। করোনার এই দুর্দিনে মানুষকে সাহায্য করার জন্য এক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী শহিদুল ফাহিম।করোনার কারনে তার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য তৈরী করেছেন ” করোনা মোকাবেলায় হাবিপ্রবিয়ানের পাশে হাবিপ্রবিয়ান” ফেইসবুক গ্রুপ।যেখানে মানুষের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে সাহায্য করা হয়।গ্রুপটি পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় অধিকাংশ সাহায্যপ্রার্থীর বাবা নাই,কারো বাবা থাকলেও অসুস্থ, কর্ম অক্ষম।তারা এতোদিন নিজেই টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা ও পরিবার চালাতো। কিন্তু করোনা সংকটের কারনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ও দেশে লক ডাউন জারি করায় বিপাকে পড়ে যায় এসকল হাবিপ্রবিয়ান।পরিবারের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়া জন্য শেষ পর্যন্ত তারা সাহায্যে জন্য হাত পাততে বাধ্য হন।

এবিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল ফাহিম সময়ের সংবাদকে বলেন-“হাবিপ্রবির অনেক শিক্ষার্থী টিউশনির টাকায় পড়াশোনা চালায় সেই সাথে টিউশনির এই টাকা থেকে পরিবারকে সাপোর্ট দেয়। অনেকের বাবা কৃষক, অনেকের বাবা দিনমজুর, অনেকের বাবা অসুস্থ কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, অনেকের বাবাই বেঁচে নেই। করোনা পরিস্থিতিতে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবন জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যায়ে। অনেকের বাসায় চুলা জ্বলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আমরা তাদের পরিচয় গোপন রেখে হেল্প করার চেষ্টা করছি। হেল্প বললে ভুল হবে এটা হেল্প নয় ভালোবাসার উপহার। যে ভালোবাসার উপহার দিচ্ছে এবং যে ভালোবাসার উপহার নিচ্ছে তাদের মধ্যে আমরা সংযোগ স্থাপন করে দিচ্ছি। ভিসি স্যার, রেজিস্ট্রার স্যার, স্টুডেন্ট এডভাইজার স্যার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে এই পরিস্থিতিতে এই সব শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..