বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

বাপ-দাদার পেশা ছাড়ছেন নর-সুন্দরেরা

admin
  • Update Time : শুক্রবার ৫ এপ্রিল, ২০১৯
  • ১৪১ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতে খোলা আকাশের নীচে এবং গাছের তলায় দেখা যেত নর-সুন্দরদের খুর-কাঁচি নিয়ে দল বেধেঁ কাজ করতে। অনেকে বাঁশের খুঁটি গেড়ে পলিথিনের ছাউনি তৈরি করে তার নীচে ফিড়ে বা কাঠের টুলে মানুষ বসিয়ে চুল-দাড়ি ও গোঁফ ছাঁটার কাজ করতেন। তবে আধুনিক যুগের সাথে তাল মেলাতে না পেরে তারা বাপ-দাদার আদি পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াশ-খালকুলা আঞ্চলিক সড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় বট বৃক্ষের নিচে বসে এক শিশুর চুল কেটে দিচ্ছেন মদন চন্দ্র নামে এক নর-সুন্দর। মাঝে-মাঝে তিনি খুর কাঁচি নিয়ে ওই বট বৃক্ষের নিচে বসেন। বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ভেতর থেকে শিশুটির মা তাকে নিয়ে এসেছেন চুল ছাটিয়ে নেওয়ার জন্য। নর-সুন্দর চুল কেটে দিচ্ছেন। মা পাশে বসে আছেন। আরেক পাশে গ্রামের এক বয়জোষ্ঠ বসে নর-সুন্দরের কাজ দেখছেন। আর ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় যাত্রী সাধারনের অনেকে বলছেন, এমন দৃশ্য সচারাচর চোখে পড়ে না!
এ সময় নর-সুন্দর বলেন, আগের দিনে তাড়াশে কোনো বাজার ছিল না। তবে গ্রামের আশ-পাশে নির্দিষ্ট স্থানে সাপ্তাহিক হাট বসত। হাটুরেরা তাদের কাছ থেকে চুল-দাড়ি ও গোঁফ কাটিয়ে নিতেন। এ ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়েও তারা কাজ করতেন। গ্রামের অনেকেই বাৎসরিক চুক্তিতে ধান-চালের বিনিময়ে তাদের দিয়ে পরিবারের সদস্যদের চুল-দাড়ি ও গোঁফ কামিয়ে নিতেন। সে সময় এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় শতাধিক মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুন্দরভাবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে পারতেন। নর-সুন্দর মদন চন্দ্র আরো বলেন, এখন মানুষ আধুনিক সেলুনগুলোতে যায়। সেলুনে বসে আরাম-আয়েসে চুল, দাড়ি ছাঁটিয়ে নেন। হাতে গোনা কিছু নিহাত গরীব মানুষ তাদের কাছে আসেন। বর্তমানে এই পেশায় আয় রোজগার একেবারে কমে গেছে। বাধ্য হয়ে তারা বাপ-দাদার আদি পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বিছে নিচ্ছেন।

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..