মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

তাড়াশে নৌকার ভরাডুবি, নেতাদের দুষছেন কর্মীরা

admin
  • Update Time : সোমবার ১১ মার্চ, ২০১৯
  • ১৬৮ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গত ১০ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনি (দোয়াত কলম) ৩৯০৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সঞ্জিত কর্মকার (নৌকা) পেয়েছেন ২৯৪৪৫ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৯৬৪২ ভোটে হেরেছেন। নৌকার এ পরাজয়কে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নানা দৃষ্টিকোন থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। এরমধ্যে কেউ কেউ বলছেন এটি মূলত: আওয়ামী লীগের অনৈক্যের ফসল। আবার কেউ কেউ সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। অনেকেই আবার বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জাতীয় নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা যেত। তবে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা দলের অন্তদ্বন্দ্ব ও বড় বড় নেতাদের নিষ্ক্রীয়তাকেই দায়ী করছেন ।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ট্যাটাস দিয়েছেন তাড়াশে অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা জি কে এস এর প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর। তিনি লিখেছেন, হিন্দুদের দিয়ে নৌকার গুণ টানাবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু নৌকায় উঠাবেনা ।
মি. জাহাঙ্গীরের এ বক্তব্য এক পেশে বলে দাবি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী ম. ম.আমজাদ হোসেন মিলন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাজনৈতিক দল। তা না হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত হতে পারতো না । মূলত: জাতীয় নির্বাচনের সাথে স্থানীয় নির্বাচন মেলানো ঠিক হবে না। তবে নৌকার এ পরাজয় যারা মাঠে না থেকে ঢাকায় বসে বড় বড় কথা বলেন তাদের জন্যই হয়েছে ।
তাড়াশ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টুটুল বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়েতের সমর্থক ভোটাররা অংশ নেননি। তারপর ও নৌকার এ ভরাডুবি প্রমাণ করে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় নির্বাচনে কি হতো ?
নৌকার পরাজয় নিয়ে সারাদিনই সরব ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা বিক্ষুদ্ধ কণ্ঠে জানান, এ পরাজয়ে নেতারা দায় এড়াতে পারেন না। তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই ।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রীয় কর্মী জরিফুল ইসলাম জরিপের সাথে। তিনি বলেন, তাড়াশে সঞ্জিত কর্মকার হারেনি, হেরেছে নৌকা, হেরেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। একই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, আমরা নেতাদের বিশ্বাস করে হেরেছি। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। বড় বড় নেতারাই নৌকার ভরাডুবির পিছনে কাজ করেছেন। তাড়াশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনিস প্রধান বলেন, নেতারা মুখে বলেছেন এক আর কাজ করেছেন আরেক, তাই এ পরাজয় ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর। তার বাড়ি ত্ড়াাশ উপজেলার কুশাবাড়ি গ্রামে। অপর দিকে বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজের বাড়ি মাকড়শোন গ্রামে। তাদের উভয়ের ভোট কেন্দ্র মাকড়শোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ নির্বাচনে এ কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২৩১ ভোট। সাবেক সংসদ সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের বাড়ি মাগুড়া বিনোদ গ্রামে। তার কেন্দ্রে ও এ গ্রামে । এ কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৪৯৮ ভোট এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক ভোট দেন শোলাপাড়া কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে নৌকা ৭৭৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে নৌকা মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত আট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ক্ষেত্রেও।
এ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় অধ্যাপক ড. মো. হোসেন মনসুরের সাথে। তিনি বলেন, উভয় প্রার্থী আওয়ামী লীগ করেন। তাই এ বিজয় আওয়ামী লীগেরই। তবে যারা নৌকার অনুভূতি নিয়ে বাণিজ্য করে, সন্ত্রাস চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেয় এটা তাদের পারাজয়। আওয়মীলীগের ভিতর থেকে যারা সৎ, মেধাবী তারাই নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে আসছে ।
ঢাকায় অবস্থানরত এ অসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দলের আন্তকোন্দলকে দায়ী করে বলেন, নেতাকর্মীদের আন্তরিকতার অভাবেই এ পরাজয়। এরমধ্যে কেউ কেউ নেতৃত্বের ইগোকে বড় করে দেখেছেন বলেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে ।
তবে আওয়মী লীগের প্রার্থী সঞ্জিত কর্মকার নির্বাচনের পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, এ পরাজয় আমার নয়, এ পরাজয় আওয়ামী লীগের।

 

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..