মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রতিবন্ধী ছাইফুল ইসলামের সচেতনতামূলক কার্যক্রম

admin
  • Update Time : বুধবার ২৫ জুলাই, ২০১৮
  • ৩০১ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
তাড়াশের প্রতিটি ব্রিজ, কালভার্ট, দৃশ্যমানস্থানসহ হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ব্রিজগুলোতে তাকালেই চোখে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাইফুল ইসলামের সচেতনতামূলক কার্যক্রম। তিনি উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের মৃত জুব্বার আলীর ছেলে।
মুগুড় পা নিয়ে জন্মানো সাইফুল ইসলামের ডান পা বাঁকা, চিকন, তুলনামূলক খাটো ও শক্তিহীন। দেখে সুস্থ ও সুশ্রী মনে হলেও স্বাভাবিক চলাফেরায় তার ভিষণ কষ্ট। ভূমিহীন অতি দরিদ্র সাইফুল ইসলাম সামাজিক সব বাধা আর প্রতিবন্ধিতাকে পেছনে ফেলে রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্মে অর্জন করেছেন মাস্টার ডিগ্রি প্রথম বিভাগ।
শৈশব থেকেই তার ছিল দেশ ও দশের জন্য করার অদম্য ইচ্ছা। পড়ালেখার পাশাপাশি কর্মের মাঝে রেখেছেন বহু নিদর্শন। কাঁদা মাটি দিয়ে তৈরি করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা, জাতীয় চারনেতা, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, এম এজি ওসমানী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন কবি, লেখক তথা স্বাধীনতার স্বপক্ষের গুণী মানুষদের ভাস্কর্য। ২০০৫ সালে অন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে রঙতুলিতে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক ছবি এঁকে জায়গা করে নেয় বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে।
জঙ্গিবাদ দমনে তিনি দৃশ্যমানস্থানসমূহে লিখেছেন, ‘হটাও জঙ্গি, বাঁচাও দেশ-শেখ হাসিনার নির্দেশ।’ ‘জঙ্গিবাদ নয়-এসো পৃথিবীতে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করি।’ ‘শুধুমাত্র পারিবারিক সচেতনতা আপনার সন্তানকে জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষা করতে পারে।’ এরকম সহায়ক বার্তা। রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেছেন। প্রতিবাদী কথায় লেখা হাজারো পোষ্টার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে লাগিয়েছেন। হ্যান্ড বিলি করেছেন হাটে-বাজারে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কেও চালিয়েছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ব্রিজ-কালভার্টে লিখেছেন, ‘ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ণ হলে বিয়ে দিন।’ ‘বাল্যবিবাহ শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষার অন্তরায়’। সচেতন হোন, বাল্যবিয়ে মুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন।
ছাইফুল ইসলাম বলেন দুঃখ, কষ্ট, বেকারত্ব, দারিদ্রতা আর শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে সাথী করে ঘুরছে তার জীবন-সংসারের চাকা। তবুও কাজ করে চলেছেন মানুষ-মানবতা ও দেশের কল্যাণে। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদ নিমূর্লের পথে। রোহিঙ্গা নির্যাতনও বন্ধ। কমে এসেছে বাল্যবিবাহ।
তবে ভয়াবহ আকার নিয়েছে মাদকের আগ্রাসন। হাত বাড়ালেই মাদকের ছড়াছড়ি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মাদক ব্যবহারের ধ্বংসাত্বক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি হয়ে পড়েছে। “নেশার টাকার জন্য তুহিন রা নিজের মা-ছোট ভাই ও খালাকে গরু জবাই করা ছুড়ি দিয়ে উপুর্যপরি কুপিয়ে হত্যা করে।” মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আইনের হাতে তুলে দিন। দেশ আমার। এই দেশকে সুন্দর রাখার দায়িত্বটাও আমারই।

 

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..