সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন

তাড়াশে আর্থিক ক্ষতির মুখে মৎস্যচাষিরা

admin
  • Update Time : মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল, ২০১৮
  • ১৬৩ বার পঠিত

গোলাম মোস্তফা, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের সংবাদ:
মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাড়াশ উপজেলা জুড়ে ছোট-বড় পাঁচ হাজারের মত পুকুর রয়েছে। মৎস্যচাষিরা এসব পুকুরে মাছচাষ করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। মাছচাষ করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন লাখো মানুষ। তবে এবছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে চাষ করা মাছের ভরা মৌসুমে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির ব্যাপক মুখে পড়েছেন মৎস্যচাষিরা। বাজারে ছোট-বড় ভেদে প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে মাছের দাম।
মহিষলুটি মৎস্য আড়ৎ তাড়াশ তথা চলনবিলাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও খ্যাত মাছ বেচা-কেনার বাজার। সরেজমিন এ বাজার ঘুরে ও মৎস্যচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফাল্গুন-চৈত্র মাসের এই সময়ে তাদের পুকুরের মাছ বিক্রি করে থাকেন। হঠাৎ এ বছর চাষ করা মাছের দাম অর্ধেক কমে গেছে। ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের রুই, কাতলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। অথচ গত বছর বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
এ সময় কহিত গ্রামের আদর্শ মৎস্যচাষি মো. লুৎফর রহমান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাছের খাদ্য, ঔষধ ও আনুষাঙ্গিক দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাছ চাষে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মাছের খাদ্যের মূল্য প্রতিটনে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এক বছরের ব্যবধানে। ঔষধ ও আনুষাঙ্গিক দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে অর্ধেক দামে।
বিনসাড়া গ্রামের মৎস্যচাষি আজম আলী জানান, নিজের মূলধনের সঙ্গে ব্যাংক ও এনজিও’র ঋণের টাকায় পুকুর মালিকদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছেন তিনি। ১২ বিঘা জলার ২টি পুকুরে মাছ চাষ করতে সব মিলিয়ে তার ৬ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। মাছের বাজার এভাবে থাকলে লাভ তো দূরের কথা, ঋণের টাকা পরিশোধ করাই দুস্কর হয়ে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, মাছের এমন বাজার অনভিপ্রেয়। বহির্বিশ্বে মাছের বাজার খোঁজা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি ও বহির্বিশ্বেবাজার পাওয়া গেলে মৎস্যচাষিরা মাছের ন্যায্য মূল্য পাবেন।

 

Please follow and like us:

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর..